এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩ জনসহ আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার :
ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমসি কলেজে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই গ্র“পের মধ্যে দু’দফা সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্ততঃ ১০ জন আহত হয়েছেন। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসসহ টিলাগড় এর আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আতংকিত ছাত্রছাত্রী ও সাধারন লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান। এছাড়া ব্যবসায়ীরা আতংকে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- আক্তার হোসেন, আবুল হাসান, সাহেল আহমদ, নাজমুল ইসলাম ও পাভেল। সংঘর্ষে খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থলে শর্টগানের ৩২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দ র‌্যালী বের করে হিরণ-জাহাঙ্গির-মিঠু সমর্থিত গ্র“পের নেতাকর্মীরা। এ সময় দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা আজাদ সমর্থিত গ্র“পের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে, পুলিশের বাধার কারণে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করেই চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ওই গ্র“প আবার এমসি কলেজে ঢুকার চেষ্টা করলে ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা অন্য গ্র“পের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে টিলাগড় পয়েন্ট পর্যন্ত নিয়ে যায়। দুই দফায় ধাওয়ার সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে। এছাড়া উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ছিল।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে শাহপরান থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় বিবদমান দুই গ্র“পের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘাত ও সংঘর্ষ হয়। প্রতিবারের মতো গতকাল দুপুরেও ক্যাম্পাসে আধিপত্য নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
হিরণ-জাহাঙ্গির-মিঠু সমর্থিত গ্র“পের অনুসারি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাদিকুর রহমান বলেন, আমরা কলেজের নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আনন্দ র‌্যালী বের করি। কিন্তু বহিরাগত অছাত্রদের নিয়ে তারা আমাদের আয়োজনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। এ কারণে তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে বের করে দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষে তাদের গ্র“পের সাহেল আহমদ, নাজমুল ইসলাম, আক্তার ও পাভেল নামের ৪ কর্মী আহত হন। এদের মধ্যে আক্তার ও পাভেলকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে আমরা শর্টগান থেকে ৩২ রাউন্ড ফায়ার করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।