জাফলং মন্দিরের জুম এলাকায় মাটি চাপায় একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ শ্রমিক নিহত, আহত ৩

কে.এম.লিমন গোয়াইনঘাট থেকে :
গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে পাথর উত্তোলনের গর্তে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ শ্রমিক নিহত হয়েছে। এঘটনায় অন্তত আরও ৩ জন আহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর গ্রামের মফিজ উল্লাহর ছেলে নুর মিয়া (৫০), হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার জামালপুর গ্রামের মৃত তাজউল্লাহর ছেলে সাদেক মিয়া (৩৫), একই উপজেলার বানেশ্বর বিশ্বাষের পাড়ার মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে জহুর আলী (৬৫), জহুর আলীর ছেলে মুজাহিদ মিয়া (২২) মেয়ে সাকিরুন বেগম (২৬)।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন হেলাল মিয়া ও মিজানুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকা থেকে পাথর খেকো একটি চক্র অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় নয়াবস্তি গ্রামের সাত্তার মিয়া, হেলাল মিয়া, আলীম উদ্দিন, নান্নু মিয়া ও খালেক গংদের গর্ত থেকে পাথর উত্তোলন করার সময় হঠাৎ করে পাড় ধসে ৭জন শ্রমিক মাটি চাপা পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৩ শ্রমিক আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাটের থানা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নিহতদের উদ্ধার করে লাশের প্রাথমিক সুরতাহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গর্তের কোন মালিককে আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ।
গোয়াইনঘাট সার্কেল এএসপি মো. মতিয়ার রহমান জানান মাটি চাপায় ৫ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন একই গর্তে কিছুদিন পূর্বে মাটি চাপায় চম্পা রানী দাস নামের এক কিশোরী নিহতের ঘটনায় গর্ত মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে মঙ্গলবার সাত্তার নামক একজনকে আদালত জেল হাজতে পাঠিয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের আটকে পুলিশের পৃথক দুটি টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন জাফলং মন্দিরের জুম এলাকায় মাটি চাপায় এক নারীসহ ৫ শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এবং অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ওই গর্তের মালিকদের আটক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।