পুরাতন সংবাদ: July 21st, 2018

মনে পড়ে

মাযহারুল ইসলাম অনিক

মন ছুটে যাই মন ছুটে যাই ওই যে নদীর পারে,
যেইখানে যে বন্ধুগুলো থাকতো ঝুলে ঘাড়ে।
সেইখানে যে হিজল পাতা দিতো একা উঁকি,
শিল্পি একা কলম নিয়ে কাটতো আঁকিবুঁকি।

মন ছুটে যাই মন ছুটে যাই ওই যে নদীর ধারে,
পথের মাঝে পড়তো শুয়ে পাগল বারেবারে।
কাঁটাতারে মারতো উঁকি বকের ছানাগুলো,
হঠাৎ করে আসতো ভেসে আবির মাখা ধুলো।

পথের ধারে থাকতো পড়ে কৃষ্ণচূড়া ফুল,
ধুলোর সাথে পিষে দিলে হতো নাকো ভুল।
সেই যে আমার সখের সখা গেলি তোরা কই?
পথের ধারে আজও আমি একলা চেয়ে রই।

সেই যে আমার হিজল পাতা কৃষ্ণচূড়া ফুল,
তোদের আশে আজও আমি হচ্ছি রে ব্যাকুল।
চোখের পাতা পড়লে পড়ে ভেসে আসে সব,
বকের ছানা করতো আগে সাদা ধবধব।

কাব্য কথা ছড়া লিখে মিটোয় তোদের আশা
চোখের পাতা বুজলে পরে বাঁধে সুখের বাসা।

তোমরা যারে শ্রাবণ বলো

রমজান আলী রনি

শ্রাবণ মাসের আকাশ যেন
ঝলসে যাওয়া নদী
চক্ষু মেলে শুধু একবার
দেখতে তুমি যদি?

শ্রাবণ মাসে অঝর ধারায়
বৃষ্টি পড়ে যখন
তোমার কথা ক্ষণে-ক্ষণে
মনে পড়ে তখন।

গাছের ডালে পাখির কাঁপন
মনে তুলে ঢেউ
ত্রিনয়নে মুগ্ধ হয়ে
দেখে না তা কেউ?

তোমরা যারে শ্রাবণ বলো
আমি বলি বিষ
দিবারাত্রি মনের কপাট
ব্যথায় মারে শিষ।

আমার বকুল

সঞ্চয়িতা রায়

কতে রঙ্গ জানে বকুল
ভেবে পায়না কূল।
আপন সাফাই গাইতে থাকে
কথায় কথায় ভুল।

বকুল আমার কাজের মাসি
মুখটি তার হাসিখুসি।
এক বেলাও পায় না আহার
তবু ছোঁয়না বাসী।

সাথে বাইশে গল্প ছাড়ে

ইংলিশের বীজটি মারে।
সব কথাতেই ফোঁড় কাটে
কিযে করি তারে।

কাপ প্লেট ভেঙ্গে খান,
বললে আবার অভিমান।
মুখে মারি তালা চাবি
বন্ধ করি চোখকান।

বকুল যদিও কাজের মেয়ে
ধন্য বকুল পেয়ে।
শুনলে পরে আমার কষ্ট
হন্যে আসে ধেয়ে।

পোড়া মন

মোহাম্মদ আজিজুল হক রাসেল

প্রেমে ঐ যাত্রীর নাও ডুবু ডুবু
অন্তরের অনলে যে পোড়েনি কভু।
আগুনে পোড়ে খাঁটি হয় সোনা
মোহের টানে মন মানে না মানা।

অনুভুতি ঠাসা থাকে স্মৃতির দেয়ালে
বেহায়া মন ছুঁটে চলে আপন খেয়ালে।
সম্মুখে আলেয়ার জ্বলন্ত আগুন,
তবু, রঙ্গিন চশমায় দেখে ফাগুন।

ইচ্ছে ঘুড়ীতে আলো নিভু নিভু
হারানো হিয়া পাওয়া যায় কভু?
অনন্তের পথে গতিময় জীবন
নীরবে বাড়ে অন্তরের পীড়ন।

অনলে পোড়া বন্ধন হৃদয় সিক্ত
বদূরত্ব বাড়লেও ভালোবাসা থাকে সুপ্ত।
কলমের কালিতে চোখের অশ্রু ঝরে
ধমনীর বাড়িতে হারানো সুর মনে পড়ে।

অভিমান বেড়ে পাহাড়

সাইফুল ইসলাম সবুজ

অনাবিল ভালোবাসায় আবিলের ছোঁয়া,
ভাল লাগা অনুভূতির, অপমৃত্যু মায়া।
অকারণ অজুহাতে অনাদর অনুরাগে,
অবহেলায় অঙ্কুরিত অসন্তোষ জাগে।

অসময়ে অকারণ অবিচলতার ভারে,
স্বেচ্ছাত্যাচারিত মন মরে অগোচরে।
অবহেলায় ইচ্ছেদের অপমৃত্যু ফলে,
নীরবে নিভৃতে অন্তরে দুঃখানল জ্বলে।

মনে ক্রমশ দূরত্ব বাড়ে, প্রাণে উচাটন,
অভিমান বেড়ে পাহাড়, ছেয়ে যায় মন।
মনের অমিলে মলিন কত অভিব্যক্তি,
হয়েছে বহুত, সরিয়ে রেখেছি যত যুক্তি।

অনিয়ম নিয়মের অনিদ্রা আঁখিপাতে,
ভেসেছে কত না স্মৃতি, নোনা স্রোতে।
অহেতুক কতশত সুখাভিনয় চলে,
শুধু তোমাকেই ভুলে থাকার ছলে।

মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবারও কমেছে। সার্বিকভাবে পাস করেছে ৬৬.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮.৯১ শতাংশ, জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ২.২৭ শতাংশ। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে আট হাজার ৪৬৪ জন। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট ২৯ হাজার ২৬২ জন। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এবার কমেছে। এবার ৪০০ প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই পাস করেছে। গতবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২। তবে কেউ পাস করেনি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। গতবার ৭২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি। এবার এমন প্রতিষ্ঠান ৫৫টি। আটটি সাধারণ বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে সারা দেশে দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এবার মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার সামান্য বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যা।
বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হলেও এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে, তার প্রশংসা করে পুরো পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার কথা ভাবতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এখন পরীক্ষা শেষ করতে যে রকম প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়, তা কমিয়ে আনতে পারলে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি মনোযোগী করা যাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর যে চেষ্টা চলছে তা আরো জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে এ দেশে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেসব প্রতিষ্ঠান খারাপ ফল করেছে, সেগুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে না। আমরা আশা করি সেদিকে সরকার দৃষ্টি দেবে। শতভাগ পাস এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কেন কমেছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কেউ পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শিক্ষার মান যে উন্নত হবে না, এ উপলব্ধি সবারই থাকা দরকার।
এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ সুন্দর হোক। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের হতাশ হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে, জীবনের অনেক পথ এখনো চলার বাকি। একবার হোঁচট খাওয়া মানে জীবন থেমে যাওয়া নয়।