বিভাগ: সাহিত্য

থাকবে না লুটপাট আত্মসাৎ

নেছার আহমদ নেছার

আমরা খুঁজি সম্পদ স্বনির্ভর হতে
অথচ বিবেকহীনভাবে দলিত মথিত করি
কত সম্পদ পদপৃষ্ঠে, তছরূপ করি পরধন,
সরকারী সম্পদ-বেহায়া স্বার্থপরতার সহিত।

ধিক ওদের প্রতিপত্তি, ধিক ওদের
ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার দাপট।
চরম দারিদ্র্যতায় যখন জাতির কষ্ট বাড়ে
সেই দুর্ভোগ মুছবে কে?

দেখিনা সেই আন্তরিক বন্ধুটাকে
এগিয়ে আসতে দুহাত বাড়িয়ে
কষ্ট নিবারণে দুঃখী দারিদ্র মানুষের।

ক্ষমতার জৌলুস দেখিয়ে অহমিকা
অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে শুধু অর্জন নিজের জন্য,
এরা কোনদিনই ভাবলোনা সুষম বন্টনে
সমস্ত উৎপাদনে গতিময় সমৃদ্ধি আসুক
জাতির জন্য, সকল মানুষের জন্য।

আমরা সকলের স্বনির্ভরতা চাই না
ব্যক্তিকেন্দ্রীক তৎপরতায় ধ্বংস হয়ে
যায় শত সম্ভাবনা-উন্নয়ন ও উৎপাদনের
শত কাংখিত বাসনা,
অকালে ঝরে যায় তান্ডবের তুফানে।

চির অবহেলিত মানুষ চোখ মেলে
ওদের পানে চেয়ে থাকে,
হতাশায় ব্যথা ও উপোষের কষ্ট বুকে নিয়ে।

জাতি স্বরূপে পৃথিবীর বুকে কখন হবে স্বনির্ভর?
প্রশ্ন ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতাদের কাছে,
সীমিত সম্পদের স্বার্থক ব্যবহারে
কতটুকু আন্তরিক আজ তোমরা
প্রশ্ন ক্ষুধার্থ, গরীব ও মেহনতী মানুষের।

আর কতদূরে সেই পথ
যখন আমরা হবো স্বনির্ভর
সমগ্র দেশ হাসবে উন্নয়ন আর উৎপাদনের
নির্মল আনন্দে, থাকবে না লুটপাট আত্মসাৎ।

ক্ষমা কাব্য

সৌমেন কুমার

আমায় ক্ষমা করো বিধি
আমায় ক্ষমা করো,
পাপের ভারে ঝারো ঝারো
কাঁপি থরো থরো।

শূন্যে পড়ে পুণ্যের থলি
নেই তো পারের কড়ি,
সময় কালে বোকার মত
সম্পদ পাহাড় গড়ি।

কারোর হিতে আসিনিকো
চলেছি খেয়াল খুশী,
অন্যের ভাগ্যে বিষ দিয়েছি
আমি চরম দোষী।

পাপের বোঝায় কুঁজো আজি
পাপে পকেট জমা,
আমায় ক্ষমা করো বিধি
আমায় করো ক্ষমা।

অবুঝ মন

মিজানুর রহমান মিজান

কি হবে দিয়ে ঘরবাড়ি
যাইতে হবে সংসার ছাড়ি
তবু না বুঝাইতে পারি অবুঝ মন।

বাপ দাদা সবাই গেলা
এ ভবে কেউ না রইলা
শূন্য হাতে গেছেন একেলা
মাটিতে মিশে তনুমন।

মনে প্রাণে চাইলে আত্বীয়স্বজন
সোনাদানা টাকাকড়ি ধনজন
যাবার বেলা একেলা রোদন
অন্ধকারে বসতি স্থাপন।

অন্যের ধন কাড়িয়া
আপনার লাগিয়া
ভান্ডার ভরা ধন থইয়া
যার যার ভাবনায় ব্যস্ত স্বজন।

ভবে তুমি হইলে আন্ধা
প্রাণ সঁপিয়া করলে ধান্ধা
করতে যদি এসব নিন্দা
পাইতে অমূল্য ধন।

স্বপ্ন দেখতে নেইকো মানা, বাস্তব তা হয় না ষোলআনা

মো: এমদাদ আলী

সে একা নিঃসঙ্গ বসবাস করতো, তার সাথি-সঙ্গি কেউ ছিল না পাশে। সে নিজের নিজেত্বে মাঝে-মধ্যে হারাতো, কিন্তু কখনো কারো মাঝে হারায়নি। একা একা হাঁটতো রাস্তার পাশ দিয়ে, কিন্তু কখনো কারো হাত ধরে সে হাঁটেনি। তবুও সে নিজেকে কখনো অসুখি ভাবেনি। একাকীত্বই ছিল তার সুখি হওয়ার মূল মন্ত্র। সে যে শান্তিপ্রয় ছেলে নাম তার শান্ত। সে ভদ্র-নম্্র, শান্তশিষ্ট লাজুক একটি ছেলে। শান্ত কখনো কাউকে দুঃখ দিতে চায় না আর নিজেও চায় না দুঃখ পেতে। অন্যকে খুশি করতে গিয়ে জেনে-বোঝে নিজের দুঃখকে আনন্দ চিত্তে করে ফেলে এতে তার মন মোটেই ভেঙ্গে পড়ে না। শান্ত ভাবে কোনো একদিন হয়ত সুখ এসে তার সব দুঃখ গুছিয়ে দেবে, মুছে দেবে তার সব কষ্ট-যাতনা। এ বলে শান্ত নিজেকে সান্ত্বনা দেয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে। শান্ত স্বপ্ন দেখতে খুব ভালোবাসে। ছোট বেলা থেকে তার বড় একটা স্বপ্ন ছিল সে বড় হয়ে একজন ভালো ক্রিকেটার হবে, সে জাতীয় দলে খেলবে। এটা তার জীবনের গ্রেট ড্রিম। শান্ত যখন ক্লাস নাইনে পড়ে তখন তার সামনে সেই সুযোগ আসে তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ নিতে। একটি বিদেশি সংস্থা তার স্কুলে আসে স্পোর্টস ক্যাম্পেইন করতে। শান্ত’র স্কুলের সাথে সংস্থাটির ২ বছরের চুক্তি হয়। সংস্থাটি ২ বছর ক্যাম্পেইনের সকল ধরনের খরচ বহন করবে এবং প্রতিটি ইভেন্ট থেকে বাছাই করে কিছু সংখক খেলোয়াড় উচ্চ পর্যায়ে খেলার জন্য নিয়ে যাবে। শান্ত সেই সুযোগ হাত ছাড়া করে না। ক্যাস্পেইন -এ যোগ দেয় শান্ত। শুরুটা একটু কষ্টকর লাগছিল শান্ত’র  তার পরও সে হাল ছাড়েনি লেগেছিল কাঁঠালের আঠার মতো। হাজারো কষ্ট হওয়া সত্ত্বে শান্ত চালিয়ে যায় ঘাম ঝরানো অনুশীলন। কিছু দিন যাওয়ার পর শান্ত মানিয়ে নেয় সব কিছুর সাথে। আস্তে আস্তে শান্ত’র উন্নতি হতে তাকে। সে নিজে লক্ষ্য করে দেখে তার সঙ্গীদের থেকে তার অনেক পরিবর্তন হচ্ছে।
শান্ত আরও উৎসাহ পায় নিজের পরিবর্তন দেখে। অক্লান্ত পরিশ্রম করতে থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রায় ছয় মাস পর শান্তদের টিম অন্য একটি টিমের সাথে খেলতে যায়। শান্ত এগারো জনের টিমে আছে, সে ৪ নম্বরে ব্যাট করবে। শান্ত’র আনন্দ তখন দেখে কে ? ম্যাচটি শান্তদের জেলা স্টেডিয়ামে হবে। যথাসময়ে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভর্তি দর্শক, মাঠে বিশিষ্টজনরাও রয়েছেন। শান্ত একজন ব্যাটস ম্যান ও পার্টটাইম বোলার। শান্ত তাদের টিমের সহ-অধিনায়ক। শান্ত’র আত্মবিশ্বাস ছিল সে ভাল করবে। শান্ত নিজের বিশ্বাসের অমর্যাদা করেনি। ব্যাট হাতে করেছে ৬৭ রান এবং পার্টটইম বোলার হয়ে ২টি উইকেট শিকার করে নেয় শান্ত। সেই ম্যাচে শান্ত’র টিম জয়ী হয়। আর পুরো ম্যাচে শান্ত একাই স্টেডিয়ামের সকল দর্শককে হৈ-হুল্লড় করতে সাহায্য করেছে। সেই ম্যাচের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ শান্ত হয়। খুশিতে মাঠের মধ্যেই শান্ত’র দুচোখ গড়িয়ে অশ্র“ বেয়ে পড়ে। স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি শান্ত বাড়ি ফিরে। ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে গিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের ক্রেস্ট হাতে নিয়ে মনযোগ সহকারে দেখে শান্ত আর ভাবে আজ সে তার স্বপ্নের প্রথম ধাপে জয়ী হয়েছে এবং ম্যান অব দ্যা ম্যাচও হয়েছে। খুশিতে আত্মহারা  হয়ে খাওয়া-দাওয়ার কথা ভুলে গেছে শান্ত। দু’দিনের ছুটি ক্রিকেট টিমের। ছুটি শেষে আবার শুরু হয় সেই ঘাম ঝরানো অক্লান্ত পরিশ্রমের অনুশীলন। শান্ত একদিনও অনুশীলন ফাঁকি দেয় না এমন কি অসুস্থ হলেও চলে যেতে চায় অনুশীলন করতে। কোনো কিছু শান্তকে থামিয়ে রাখতে পারে না। একের পর এক ম্যাচ খেলতে থাকে শান্ত। ৪ মাসে শান্ত প্রায় বিশটি ম্যাচ খেলে তার টিমের হয়ে। এর মধ্যে প্রায় ৭-৮ টি ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয় শান্ত। শান্ত নিজের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে একটু একটু করে বাস্তবে রূপ দিতে থাকে নিজের মত করে। তার একটা লক্ষ্য সে একদিন একজন বড় ক্রিকেটার হয়ে বিশ্বকে মাতাবে, সবাই তাকে চিনবে এক নামে। ভালোই যাচ্ছিল শান্ত’র দিন অনুশীলন আর ম্যাচ খেলে। হঠাৎ করে কোথায় থেকে এক অজানা ঝড় এসে শান্ত’র সকল আশা সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে যায়। শান্ত বুঝতেও পারে না কেন এমন হলো তার সাথে ? কেনই বা তার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেল এমন করে ? এই প্রশ্নের উত্তর শান্ত খুঁজে পায় না ! অজানাই থেকে যায় তার সকল প্রশ্নের উত্তর। স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ায় শান্ত নিঃস্বর মতো হয়ে যায়। কোনো কিছুতে মন বসেনা তার। পড়তে ভালো লাগে না, খেতে ভালো লাগে না, রাতে ঘুম আসেনা দু চোখে। কোনো কিছুই শান্ত’র ভালো লাগে না। রাস্তার পাশ দিয়ে একা একা হাঁটে এবং কানে হেডফোন গুঁজে দিয়ে  গান শুনে যায় আনমনে। মাঝে-মধ্যে পড়ার টেবিলে। কিন্তু পড়াতে মন বসে না। এই ভাবে চলছিল শান্ত’র দিনগুলো।
৪ বছর পর হঠাৎ একদিন একটি মেয়ে শান্ত’র দিকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয় ! শান্ত চায় না হাতটা ধরতে। চায় না হাতটি ধরে তার নিঃস্ব জীবনের সঙ্গী করে নিতে। তার পরও কেমন করে হাতটি ধরে শান্ত। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শান্ত। ভুলে যায় পুরোনো দিন গুলোকে, নতুন করে স্বপ্ন বুনে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানুষটিকে নিয়ে। এবাবে কাটতে থাকে শান্ত’র দিনগুলো। শান্ত’র জীবনে কখনো কেউ ভালোবাসার হাত বাড়ায়নি। শান্তর জীবনে এই প্রথম ভালোবাসা। শান্ত তার ভালোবাসার মানুষকে খুব ভালোবাসে তার নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে  এবং নিজের থেকে বেশি বিশ্বাস করে। নিজেকে এখন আর একা মনে করে না। সব সময় দু’য়ে মিলে সুখ-দুখ ভাগাভাগি করে নেয়। শান্ত’র কাছে মাঝে-মধ্যে সব কিছু স্বপ্ন মনে হয়। শান্ত মন স্থির করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালোবেসে যাবে তার ভালোবাসার মানুষটাকে এবং জীবন সঙ্গীনি করে নিজের কাছে রাখবে পুরো জীবন। কখনো হারাতে দেবে না এই ভেবে রাখে শান্ত। নিজের জীবনের যত গোপন কথা, স্বপ্নের  কথা একে একে সব  কিছু বলে ভালোবাসার মানুষকে শান্ত। শান্ত ভাবে আর একা থাকতে হবে না একাকী দিনও আর কাটতে হবে না। এই ভাবে যেতে থাকে দিনের পর দিন মাসের পর মাস শান্ত বুঝতেও পারে না কেমন করে দিন চলে যায়। একদিন যদি শান্ত তার ভালোবাসার মানুষের  সাথে কথা না হয়, তাহলে শান্ত’র কোনো কিছু ভালো লাগে না, কোনো কাজে মন বসে না। যদি একদিন না দেখে  তাহলে শান্ত’র কাছে নিজেকে বৃথা মনে করে। শান্ত তার ভালোবাসার মানুষটাকে একপলক দেখার জন্য হেঁটে যেত অনেকটা পথ। তার কাছে কোনো কাজের মূল্য ছিল না সেই মুখটা দেখার আগ পর্যন্ত। শান্ত’র অন্ধ বিশ্বাস ছিল তার ভালোবাসার মানুষ তাকে একা করে কখনো চলে যাবে না, কখনো তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করবে না। শান্ত’র একটা কথা হয়ত জানা ছিল না যে সবার জীবনে  সুখ  সয় না আবার ক্ষণিকেরও হয়। শান্ত জানেনা তার জীবনে সুখ নামক জিনিসটা ক্ষণিকের দীর্ঘ স্থায়ী নয়। তার সব স্বপ্ন পূরণ হওয়ার নয়। এর মধ্যে শান্ত জানতে পারে সে যাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে, অন্ধের মতো বিশ্বাস করে সেই মানুষটা তার বিশ্বাস নিয়ে খেলা করতেছে। শান্ত’র সাথে প্রতারণা করতেছে। অথচ শান্ত কিছুই বুঝতে পারল না। এর পর আস্তে আস্তে শান্ত তার ভালোবাসার মানুষটার সাথে সম্পর্কের ইতি টেনে আনে। শান্ত বিশ্বাস করতে পারে না যে মানুষ ভালোবাসার হাত নিজ থেকে বাড়িয়ে ছিল সেই মানুষটা তার সাথে প্রতারণা করে চলেছে একের পর এক। যাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসত বিশ্বাস করত অন্ধের মতো। শান্ত নীরবেই শুধু দেখে গেল কিছু আর বলল না। শান্ত ভাবল হয়ত বা তার কপালে সুখ নামক জিনিসটা ক্ষণিকের। তাই হয়ত এমন হয়েছে। নীরবে একা বসে এভাবে ভেবে চলেছে শান্ত।
এখন আর শান্ত কাউকে ভালোবাসে না কাউকে বিশ্বাস করে না। এমন কি নিজেকেও বিশ্বাস করতে পারে না। শান্ত এখন আগের মতো একাকী শান্ত হয়ে থমকে দাঁড়ালো ॥

প্রেমিকের ক্রন্দন

জালাল আহমেদ জয়

গোলাপের কাঁটায়
কলিজার ক্ষত
বেড়ে যায় নিঃশব্দ রাতে
সমুদ্রের মহাকান্না
অশ্রু বিতাড়িত হৃদয়ে
ফিরে আসে বারবার
প্রেমিকার লুটো মন

অগ্নিতে সাঁতরে  সাঁতরে
শীতলের ছোঁয়া পেতে
ছুটে চলে হারিকেন

চিমনীর ভেতর লেপটে থাকা
ধোঁয়াগুলো আগুন হয়ে
বুকে দেয় জ্বালিয়ে
বিষাক্ত নাগিনীর বিষ ভরা
মধুযুক্ত মায়া।

প্রেমিক তার সর্বশক্তি হারিয়ে
প্রেমিকার কাছে  হাত পাতে
একমুঠো আদরের লোভে
বোঝে না…
আবার আসে ঢেউ
প্রেমিক কেঁদে যায়
দিন যায়…
আগুনের হৃদয়ে ফোটে  না…

বড় প্রয়োজন ছিল

নেছার আহমদ নেছার

সাথী-
পথে হলো দেখা কতকাল পর
হয়তো কোনদিন ভাবনি কেমন আছি
কোথায় আছি-
মরে গেছ না বেঁচে আছি-
হয়তো জানতে পারনি;

জানিনা কত রাত কাটিয়েছি চোখের জলে
না-পাওয়ার নিদারুণ হাহাকারে।
কতদিন কত কাল পরে-
এভাবে তোমাকে পেয়ে
আমি বিমুঢ় কোন কথাই বলতে পারিনি,

বিরহ শোক অনল আমার হৃদয় সত্ত্বা
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছে;
অথচ তোমার সেই নিবিড় ভালোবাসায়
জড়ানো স্নেহ মমতার একটু
স্নিগ্ধ পরশ জীবনে বড় বেশী প্রয়োজন ছিল।

ভাবনা

সৌমেন কুমার

ভেবে দেখো ভাবনা যাবে বন্ধ হয়ে,
তুমি আমি কেউ রবো না কেউ রবো না ভুবনে।
আর তো কদিন শরীরের তেজ যাবে কমে
দৃষ্টিশক্তি যাবে ক্ষয়ে যাবো ওগো হারিয়ে।

বাহুবলে প্রাণ কেড়েছি ঘাতক সাজি
আজ নত খুঁড়িয়ে হাঁটি ভিটেমাটি হলো চাটি
নেই আর সে ভাব পরিপাটি
দু বেলা খাই বেচে ঘটি তবু জাগে না অপরাধবোধ
করি না দায় পািরশোধ।

নাইওরী

মিজানুর রহমান মিজান

নাইওর থাকবে ক’দিন মন বেপারী
সময় শেষে বিদায় দিবে দূর দূর করি।
আপন আপন করলে যত, সেই আঘাত দিবে শত
অহরহ দিচ্ছে কত, ভাবছনি একবার মনের মত
বেলা শেষে অবশেষে জ্বলবে আগুনে পুড়ি।

কেহ নয় সঙ্গের সাথী, বুক দেখাইয়া মারে লাথি
থাকে না কোন গতি, তবু কেন লোভ অতি
তাইত বলি চল না সীমা অতিক্রম করি।

স্থায়িত্ব পাবার আশ, করলাম সর্বনাশ
কতজনের অভিলাষ, বাঁধায় অবিনাশ
অভিশপ্ত জীবন শোষিতের রুনাজারী।

সর্বদা বিবেক সজাগ, দূর করে মনের রাগ,
পুরাও তোমার অনুরাগ, হৃদে পড়বে না দাগ
সাফল্যের পাল তুলে বাইয়া জীবন তরী।

শপথ

মু. আব্দুল কাদির জীবন

শপথ তুমি নেবে
সত্য কথা বলবে
মিথ্যা কথা ছাড়বে।

শপথ তুমি নেবে
সৎ পথে চলবে
অসৎ পথ ছাড়বে।

শপথ তুমি নেবে
কোরআন-হাদীস পড়বে
সুন্দর জীবন গড়বে।

শপথ তুমি নেবে
সকাল-বিকাল পড়বে
ভালো ছাত্র হবে।

শপথ তুমি নেবে
ন্যায় বিচার করবে
অন্যায় বিচার ছাড়বে।

তবুও রয়ে যায়

মোঃ এমদাদ আলী

পাখিরা উড়ে চলে যায়
সূর্য ডুবে যায়,
দিন চলে যায়,
রাত ফুরিয়ে যায়।

ফুল ঝরে যায়।
সাগরের উত্তাল ডেউ
নিমিষেই হারিয়ে যায়।

মানুষ মানুষকে ভুলে যায়।
তবুও কিছু স্মৃতি
হৃদয়ে রয়ে যায়।