বিভাগ: সাহিত্য

সাহিত্য আসর শেষে

জালাল আহমেদ জয়

কবি সাহিত্যিকরা সব সময়ই দুরন্ত তাদের মনের ভেতরটা সতেজ এবং অফুরন্ত প্রেমময় ‘অসীম চেতনাময় কবিরা যা বলে তা তখনই করে দেখাতে পারে তাদের কাছে পারি না বলে কিছু নেই সত্য সুন্দর প্রেম ও প্রতিবাদের কণ্ঠে জেগে ওঠে তাদের আত্মার ধ্বনি কারই বা আছে এমন সাহস মাটির বুকে কবিকে রুখে দাঁড়াতে কবি মানেই তো একটি বীরের নাম কবি মানেই সৈনিক কবি মানেই আলোর পথিক কবি মানেই প্রেমের দর্শন কবি মানেই জেগে স্বপ্ন দেখার জাগ্রত নাবিক কবিরা শুধু ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে না জেগেও দেখে দেশের সমস্যা ও সমাধানের পথ কবিরাই পারে দেখাতে কবি যে হেঁটে  চলে বিশ্ব-বিশ্বান্তরে যদি বলি তেমনি কবি আমি তুমি আমরা সবাই ভুল কী হবে আমি মনে করি হবে না কারণ সবাই সাহসিকতা উপলব্ধি করি এবং বাণীময় সুর কানে বেজে যায় কেউ ধরতে পারি আর কেউ পারি না তাই’তো কবির কবিতা মনের কথার সাথে যেনো মিশে যায়।
তেমনি এক বীর কবি সাহিত্যিক যদি বলি আমি বলবো আমার দেখা মতে সৈয়দ মবনু আমার সাহিত্য কালের শুরু থেকে যাকে দেখেছি কবির মতো কবিকে এমনই হতে হয় কবি কারো কাছেই মাথা নত করে না করে একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার কাছে। গতকাল ছিল তার সাহিত্য সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সর্বশেষ সাহিত্য আসর শেষ দিনে যেনো শেষ নয় নতুন করেই শুরু হলো নবপথযাত্রার আসরের সবাই লিখে ছড়া কবিতা গল্প ও প্রবন্ধ কিন্তু সবাই যে এতো মজার কৌতুক বলে হাসাতে পারে তা জানতাম না দিনটি ছিল ২১ শে জানুয়ারী ২০১৫ আসরের শেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে মবনু ভাই আমাদের নিয়ে গেলেন জিন্দাবাজারের প্রীতিরাজ রেস্টুরেন্টে সেখানে বসে কবিতার বদলে কৌতুকের আসর আমি তো হাসতে হাসতে চলেই যাচ্ছিলাম এতো মজার মজার কৌতুক শুনলে কার না হাসি পায় অবশ্য গল্পকার সেলিম আওয়ালের কথা না বললেই নয় খাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উনি করে দিয়েছিলেন এবং কৌতুক বলে সবাইকে হাসির দুনিয়ায় নিয়ে যেতেও সব লেখকদের আহবান জানান এতে আমরা যারা ছিলাম সবাই কিছু না কিছু বলে হাসির জগতে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
এই দিন অন্যরকম হয়েই থাকবে আমিও যারা গতকাল সাহিত্য আসরে এসেছিলো।। কবি কামাল তৈয়ব কবি মুহিত চৌধুরী এবং আমেরিকান প্রবসী কবি মোখলেসুর রহমান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; সাথে যাদের নাম মুখস্থ আছে তাদের নামগুলো তুলে ধরলাম আমার বন্ধু কবি মিনহাজ ফয়সাল; ছড়াশিল্পী শাহ মিজান; কবি মামুন হোসেন বিলাল; ছড়াশিল্পী ও ফটোগ্রাফার মাহমুদ পারভেজ; কবি ও সাংবাদিক তাসলিমা খানম বীথি, কবি আমনা শহীদ চৌধুরী  মান্না; কবি কানিজ আমেনা কুদ্দুস; কবি শামিমা কালাম; ছড়াশিল্পী দিলোয়ার হোসেন দিলু; কবি এহসানুল কাওসার; ছড়াশিল্পী কবির আশরাফ; কবি সৈয়দ মুক্তাদা হামিদ; কবি জিয়াউল হক; কবি ও গল্পকার রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।
মবনু ভাইয়ের শুভ কামনা রইলো।

প্রাণের বাংলা সাহিত্য

সৌমেন কুমার

বিশ্বের কবি বিশ্বকবি
গল্প কবিতা কিবা সুর,
সব শাখাতে সমান চলন
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

কলম কেবল নয়কো কলম
ব্রিটিশ শাসক খেতো তো শুল,
কণ্ঠধ্বনি বজ্রবাণী
তিনি কবি কাজী নজরুল।

কবিতাই তার তো প্রকৃতি
প্রকৃতি নিয়ে ছিলো চাষ,
প্রেম প্রকৃতির কবি তিনি
তিনি জীবনানন্দ দাস।

সহজ সরল কথায় গাঁথন
অনন্য সৃষ্টি এক অধ্যায়,
অপরাজেয় কথাশিল্পী
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

ইসলামী চেতনায় জাগ্রত
মুসলমানদের জন্য কি দরদ,
তাই মুসলিম রেনেসাঁর কবি
তিনি তো ফররুখ আহমদ।

ছন্দে ছন্দে সত্যেন্দ্রনাথ
বাক্য বিনির্মাণে বঙ্কিম,
গোলাম মোস্তফা মীর মশাররফ
সাহিত্য আকাশে সূর্য রক্তিম।

শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ
চিন্তার মাঝে বিস্তর ফারাক,
অশ্লীলতা, না শুদ্ধতা
পড়লে হবে সিদ্ধান্তের বাঁক।

সবাই সৃজনশীল গুণী ব্যক্তিত্ব
চিন্তায় আছে বৈপরীত্য,
সব মিলিয়ে চলছে এগিয়ে
আমার প্রাণের বাংলা সাহিত্য।

শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে…

মুজাক্কির আলম

আমাকে ফাঁসাবে বলে যারা সারাক্ষণ ফন্দি ফিকির করে,
আমি তাদের কাছে টেনে নেই।
শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে…

চোরাগুপ্তা হামলায় যারা আমাকে শেষ করে দিতে চায়,
আমি তাদের দেখেও না দেখার ভান করি।
শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে…

শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে…
যেসব অসভ্য অকথ্যভাষায় গালাগাল করে,
আমি তাদের দিকে আনমনা হয়ে তাকাই,
বলি, কিছু বললেন ?

যেসব হিংসুটে জনপদ ক্ষুধার্ত হয়ে,
কামুক দৃষ্টিতে ভক্ষণ করে সৌন্দর্য্যরে শুভ্রচাদর,
আমি তাদের আটকাতে পারি না, থামাতে পারি না,
স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি দু’চোখপানে,
ভাবি লজ্জায় হয়তো অবনমিত হবে ভক্ষণলীলা।

জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রে থেমে থাকেনা আমার পা,
নিজের ছায়াকে পিছে ঠেলে এগিয়ে যাই,
বৃষ্টিতে ভিজে সবেগে ছুটে আসা সওয়ারী আমি,
হোছট খেয়ে আহতযোদ্ধা;
পথ আগলেরাখা কুচক্রীকে মায়াদৃষ্টি দিয়ে চলে আসি।
শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে…

হাড়কাঁপানো শীতে উদোম থাকা বৃদ্ধাকে আশ্বাস দিয়ে আসি,
যেভাবে আশ্বাস দিয়েছি তোমাকে;
ভালোবেসে ঘর সাজাবো রঙিন আলোয়…
অথচ সহস্র বেড়াজালে আটকেপড়ি
কিছুই করা হয় না,
নিঃশেষে বিভাজ্য হয়ে যায় প্রতিটি আশ্বাস;
দীর্ঘশ্বাসে ছেয়ে যায় প্রতিটি কষ্ট,
তবু বলি কিছু করবো, কিছু করা অত্যাবশ্যক।

তোমাদেরকে মনে পড়ে

নেছার আহমদ নেছার

তোমাদেরকে মনে পড়ে…
বাংলাদেশের কোন কোকিলের গানে
পদ্মা মেঘনা যমুনার সুরমার কলতানে

তোমাদেরকে মনে পড়ে…
কোন ঝাউশাখায় ছোট পাখির মেলায়
শূন্যতায় উৎকণ্ঠিত হৃদয়ে, হয়ত বা শহরে বন্দরে
জনতার কোলাহলে তোমাদের শূন্যতায় বিষণœ হৃদয়ে…

তোমাদেরকে মনে পড়ে…
কোন করুণ গানের সুরে- কোন মিষ্টি কণ্ঠের দেশাত্মবোধক গানে-
কোন কবিতার চত্বরে-কবির অনুভূতিতে-আত্মত্যাগের শোকার্ত প্রাণে

তোমাদেরকে মনে পড়ে…
কোন ছোট্ট  প্রাণের উচ্চারণে- স্বদেশের স্মৃতিময় জীবনে-
অজস্র ভাবনাগুলো আকুল করে তোমাদের জন্য,
সর্বনাশা ৫২’র নিদারুণ আত্মত্যাগের স্মৃতি
আমার ভাইয়ের হারানো বিয়োগ ব্যথা শূন্যতার জ্বালায়,

আজ হাজারও সমস্যার মূর্ত জীর্ণতায়,
আমার স্বাধীন স্বদেশ জাতির অনেক স্বপ্ন প্রেরণায়
ছুটেছে পা’য় পা’য়, প্রতিষ্ঠার অনাগত জীবনে,
আমার ঔৎসুক্য প্রাণের মৃদু পথ চলায়

স্বদেশ প্রীতির আকুলতায়
শূন্যতার নিদারুণ হাহাকারে
তোমাদেরকে মনে পড়ে…

দিতে হবে পাড়ি

মিজানুর রহমান মিজান

যাবে একদিন এ সংসার ছাড়ি
কেমনে দিবে সাগর পাড়ি।
তবুও দিতে হবে পাড়ি।

দু’চোখ মুদিলে দেখ তুমি অন্ধকার
সাময়িক সময় সহ্য হয় না অদেখা বেদনার
কবর দেশে অনন্তকাল কেমনে থাকবে পড়ি।

ওয়াদা করে এলে তুমি বেপারী
লাভ ছাড়া লোকসান দেবে না মদন জ্বালা হেরী
হেলায় গেল দিবস-যামী কামিনী নিল কাড়ি।

দিন গেলে দিন আসে না দেখ বিচারী
দাদা গেল দাদি গেল  বাপ গেল ছাড়ি
তুমি যাবে পুত্র যাবে যাবে অহংকারী।

তারপরও কি মন একবার দেখছ নেহারী
বেভুলে মজাইলে মন পাবে না কান্ডারী
দুনিয়া মায়ার বাঁধন সকল নয় দুনিয়াদারী।

বিশ্বাসঘাতক

মোঃ এমদাদ আলী

মানুষ-ই স্বপ্ন দেখে
মানুষ-ই স্বপ্ন ভাঙ্গে।
মানুষ-ই আশা করে,
আবার মানুষ-ই নিরাশ হয়।

মানুষ-ই সুখ খুঁজে,
আবার মানুষ-ই দু:খ পায়।
মানুষ-ই আশা-ভালোবাসার সাগরে ভাসে।
মানুষ-ই বিশ্বাস করে,
আবার মানুষ-ই বিশ্বাস ভাঙ্গে।

তোমায়ও নির্ভুল ভাবে বিশ্বাস করেছিলাম,
তাই তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করলে।

সহচর

ছাদিকুর রহমান

আমি সুখের সহচর আমি শান্তির সহচর
যতই অত্যাচার আসুক আমার উপর
আমি ভালোবাসার সহচর আমি প্রেমের সহচর
আমাকে সরাতে পারবে না আসুক যত ঝড়

আমি মানবতার সহচর আমি সাম্যর সহচর
আমি সবার সাথে করি কোলাকুলি
কোন কিছু করতে পারবেনা আমাকে পর
আমি সততার সহচর আমি উদারতার সহচর

আমি দুঃখকে কোলে তুলে করি আদর
আমি ন্যায়ের সহচর আমি সত্যর সহচর
কোন বাধা বিপত্তি আমাকে করতে পারবেনা বিচলিত আমি আমার লক্ষ্য অবিচল।

ষোলকলা পূর্ণ করেছে

নেছার আহমদ নেছার

প্রচন্ড রৌদ্রে প্রজ্বলিত চারিপাশ
খা-খা করছে হাওরের বুকে
সোনালী ফসলের মাঠ;
ফসলের ক্ষেতে প্রচন্ড ঘাস-

যেন মনে হয় ধানের গাছগুলি
মিশে একাকার হয়ে গেছে,
তাই ব্যতিব্যস্ত কৃষক অলি
প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে-যত দ্রুত সরানো

যায় ঘাসগুলি, প্রায় দশদিন
ঘাসের সাথে চলছে তার যুদ্ধ।
দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে-একমাত্র মেয়েটি
এখনও এলোনা খাবার নিয়ে;

কিছুটা ক্ষোভ সৃষ্টি হলো তার
ধানের ক্ষেতের ভিতরে হামাগুড়ি দিয়ে
ছুটে আসা মেয়েটির বাবা-বাবা
ডাক শুনলো অলি-

ক্ষুধার্ত পেটের জ্বালা নিবারণ হবে;
মেয়েকে হালকা ধমক দিল- কেন এতো দেরী
আমার ক্ষুধার কষ্ট একটুও বুঝনা তুমি?
চোখের জলে মাথাটি নিচু করে মেয়ে বললো-‘বাবা’

আমি যে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারকে বলে
তোমার কষ্টের কথা ভেবে চলে এসেছি
এ-কষ্ট তো তোমার আমাদের জন্যে;
মেয়েটিকে বাবা জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন।

মেয়েটি একদিন লেখাপড়ায় অনেক বড় হলো;
সরকারী বড় চাকুরে হলো-বাবার কত আনন্দ
এখন আর ক্ষেতে কাজ করেন না অলি,
মেয়েটি তার আকাক্সক্ষার ষোলকলা পূর্ণ করেছে।

উদ্ধার

মিজানুর রহমান মিজান

বিদায় হজ্বে যাইয়া, আরাফাতে দাঁড়াইয়া
বলেছেন রাসূল (সা:) আল্লাহর।
শুনহে মুসলমান, ঠিক রাখ ঈমান
থাকিও না ভুলে রাখ স্মরণ করে
ধোঁকা দিবে শয়তান বারে বার।

মুসলিমের প্রমাণ, রেখে গেলাম কোরআন
কর তার হেফাজত, বর্ষিবে আল্লাহর রহমত
হাশরে দেখা পাবে আমার।
অন্যায় অবিচার, কর তার প্রতিকার
হইও না নাদান, পাবে পরিত্রাণ
তুমি পাবে দীদার।

পড়ে মায়াজালে, ভুলে গেলে, যাবে রসাতলে
কর অন্বেষণ, দেয়া নিদর্শন
সংকটে পাবে উদ্ধার।

পাটা পুতাইল

নাজমুল ইসলাম মকবুল

পাটা এবং পুতাইল দ্বারা
মরিছ হতো ঘষা
গৃহিণীদের হাতের তখন
বেহাল হতো দশা

ধীরে ধীরে শিল পাটা সব
হচ্ছে উধাও ভাই
আগের মতো স্বাদ লাগেনা
তরকারী যা খাই।।