বিভাগ: সাহিত্য

নটি ছড়া

তা-রে-ক-লি-ম-ন

বেবি তোমায় লাগছে হেব্বি
দুতলা সিস্টেম জুতায়
হট এন সেক্সি বেবি তুমি
চুলে বাঁধা লাল ফিতায়…..

পিংক কালার লিপস্টিকে
মারছে দারুণ ঝলক
তোমায় দেখে পড়ছে না আর
দুটি চোখের পলক.

লাজ শরমের মাথা খেয়ে
হয়েছি বেশ নটি
ইচ্ছে করছে তোমার সাথে
বেঁধে নেই আজ জুটি…

ঘুরে বেড়াই অলিগলি
সিলেট- টু -ঢাকা
হাই স্পিডে চালাই দু’জন
প্রেমের গাড়ির চাকা,

কক্সবাজারের উথাল ঢেউয়ে
এসো কাটি সাঁতার
নয়তো চলো উড়ে আসি
দুবাই কিংবা কাতার,

যেতায় তোমার ইচ্ছে চলো
আমি তাতে রাজি
না-হয় চলো বিয়ে করি
ডেকে এনে কাজি,

তেমার সাথে চলতে আমার
লাগেছে মনে ভয়
বেহায়া মন কখন জানি
নরপশু- না -হয়,

এর কারণেই বলি তোমায়
চলো করি বিয়ে
বিয়ের পরে সাউথ আফ্রিকায়
যাবো তোমায় নিয়ে,

আপাতত আটকাও আমায়
বিয়ে নামের মামলাতে
বেবি তোমার রূপ দেখে আর
পারছিনা লোভ সামলাতে…..।।

স্পর্শহীন প্রণয়

ছাদিকুর রহমান

সেই অনুভূতির অস্তিত্ব থেকে তোমাকে দেখছি
তখন প্রেম কি কেমন কিছুই বুঝতাম না
তবে আমার অনুভূতিতে অদ্ভুত শিহরণ জাগতো
পরে বুঝলাম সেটাই আমার প্রেমের প্রথম শিহরণ
তৃষ্ণার্ত কাকের মত তোমার পদচিহ্ন কত খুঁজেছি
তোমার শরীরের সুবাষিত গন্ধ বাতাসে কত শুঁকেছি
তুমি ছিলে আমার অস্তিত্বের ত্রি-প্রহরের সাথী
এখন তুমি অনেক বড় হয়েছ বয়স বেড়েছে
শরীরের মাংস পিন্ড বড় হয়েছে স্পষ্ট প্রতীয়মান
আমারও তাই…
যৌবনের খেয়ায় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী  যাত্রী হয়েছ
একদিন আমি বাতাসে তোমার শরীরের গন্ধ শুঁকতাম
এখন সবাই চায় তোমার কাঁচা মাংসের ঘ্রাণ নিতে
এখন তোমার চারপাশের শত শত পদচিহ্নের ভিড়ে
তোমার পদচিহ্ন মিশিয়ে দিয়েছ প্রাগৈতিহাসিক  নিয়মে।

দেশের মানুষ ডুবছে জলে

সাইয়িদ রফিকুল হক

বানের পানি আল্লাহ দিছে
দিচ্ছো কারে দোষ?
স্বভাব তোদের মন্দ বটে
চিনিস নন্দ ঘোষ।

আল্লাহ-রাসুল মানিস নাতো
মুখেই ধর্মপ্রেম,
পরকালের আশা ছেড়ে
চিনিস শুধু হেম!

দেশের মানুষ ডুবছে জলে
কাটছো তুমি জাবর,
চিনি তোমায় ভণ্ডসাধু
রমিজপুরের বাবর।
লোকদেখানো মানবসেবা
করবে কত আর?
টিভিচ্যানেল গরম করে
ফায়দা লোটো কার?

দেশের মানুষ নয়কো বোকা
তোমায় দিবে ভোট,
লোকদেখানো মানবসেবায়
আর বেঁধো না জোট।

দেশের মানুষ ডুবছে জলে
ছাড় না এবার টিভিচ্যানেল,
লোকদেখানো মানবসেবা
করিস নাতো আঁতেল।

পিরিতের পেতনি ভালো

মোঃ হযরত আলী

হাতের পাঁচটা আঙ্গুল, কোনটা ছোট্ট কোনটা বড়
মায়ের পাঁচটা ছেলে, কোনটা সাদা কোনটা কালো
আমার কাছে বন্ধু তুমি পেতনি হলেও ভালো।

আমি করিনি কোন প্রশ্ন বিবেকের কাছে
খুঁজিনি কোন সার্থ ভালোবাসার মাঝে
দেখিনি কোন লোভিত দৃষ্টিতে
কি রূপ কি যৌবন ভরা আছে।

রূপে কিছু যায় আসে না
যদি গুণে থাকে ভরা
তুমি আমার কালো সোনা, হৃদয় ও কলিজা
ভালোবাসি তাই ভালোবাসি, শতসব কারণ ছাড়া।

তোমার আমার সৃষ্টিকারী শ্রেষ্ঠ করিগর
তার তৈরির সকল কিছুই অপরূপ সুন্দর
তার সৃষ্টির ভুল ধরার সামর্থ্য আছে কার?

জানি ভাবছো তুমি সমাজের কিছু কুচ্ছিত লোকের কথা
যারা মানুষের পিছে খুঁচা দিয়ে পায় খুব মজা
না না না,আর কোন প্রশ্নের সম্মুখি আমি হতে চাই না
ভালোবাসি তাই ভালোবাসি,শতসব কারণ ছাড়া।

গ্রাম আর গ্রাম নেই

শাহিন আলম সরকার

গ্রাম বাংলা নেই ফাঁকা, লোকে ভরপুর।
গোলা ভরা ধান চাল, গেছে বহু দূর।
গোয়াল ঘরের চালা, আছে ভিটে পড়ে।
গরু নেই তার তলে, হাহা ঘর করে।
মাছের আবাদ নেই, শূন্যতা পুকুরে।
সারে ভরা তরকারি, স্বাদ নাহি ধরে।
শহরের মত যেন, হল গ্রামখানি।
মেঠো পথ হল পাঁকা, বিল শূন্য পানি।

রাখালের বাঁশি যেন, বহু দূর ভাসে।
দেখিনি দু’চোখে হায়, শুনে মন হাসে।
চাঁদনি রাতের কোলে, গল্প হত মজা।
বলেছে আমায় দাদি, সে হত যে রাজা।
সেই দিন গুলো হায়, গত হয়ে রয়।
মাঝে মাঝে বৃদ্ধ যেন, একটু জ্বালায়।

সাধক মানবেই সব

শেখ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক

ঝড়, বৃষ্টি, বাদলে এ পৃথিবী ভরা যে,
তবু বিধি মাঝে মাঝে পরীক্ষা নেয় খরাতে,
বিপদকালে মনের গতি কেমনে দোলে ধরাতে।

দেখে না এসব ভবে মানুষরূপী জানোয়ারে,
অন্যের গ্রাস খাচ্ছে কেড়ে হাসতে হাসতে অনায়েসে,
তাদের তরে শিক্ষা দিতে প্রভু বুঝি শাস্তি দিল সবারে।

স্বার্থান্বেষী মানব সমাজ ধ্বংস করছে বিবেককে,
মনুষ্যত্ব খাচ্ছে কুড়েঁ অহংকারে পড়ে যে,
মানবতা যাচ্ছে উবে জানোয়ারের যাঁতাকলে।

এ যুগে মানুষতো আর মানুষ নয়
তাদের মধ্যেই লুক্কায়িত পশুত্ব রয়,
প্রকৃত মানুষ পাওয়া সাধনার বিষয়।

মানুষ খোঁজলে ক’জন পাবো এই বঙ্গে,
পশুগুলোই মেতে আছে মহারঙ্গে।

মানুষ খোঁজ, মানুষ ভজ, মানুষেতেই সব,
সে ধন পেলে, শূন্যেরও শান্তি-সুখের উঠবে ভীষণ রব।

বড় শালিক

শ.ম. শহীদ

পাতিনেতা জাতি ধরে-
টান দিয়েছেন ইট্টু,
তাতেই দেখেন নিজের জাতে
একের পর এক গিট্টু।

বেচতো কাকা তালের পাখা
বাতাস গায়ে হাকিয়ে,
বড়জেঠা হাত পেতেছেন-
ঠোঁট দু’খানি বাঁকিয়ে।

বাবার ছিলো খাবার দোকান
ভাই-ভায়রা মেছিয়ার,
জুটতো নাকো বেতন তাদের
কতোই হতো বেচি আর!

দাদা খেতেন চাঁদা তুলে-
পীরজঙ্গীর মাজারে,
নানা ক’বার মার খেয়েছেন-
চুরির দায়ে বাজারে!

এপারের মাল ওপার করে
ক’টা টাকার মালিক সে!
তাতেই তিনি ফড়িং থেকে-
ভাবেন বড় শালিক সে।

প্রেম

ড. প্রীতিশ চৌধুরী

অতীত :
ভর হারিয়ে ফেলেছিলো
মোর শরীরের সমস্ত   সত্তা
তোমার প্রেমের  প্রচন্ড মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে …
লতার মতো  আঁকড়ে ধরেছিলে
তোমার  প্রতিটি  অঙ্গ প্রতঙ্গ
মোর  অঙ্গ প্রতঙ্গ
নিঃসঙ্গতার মুহূর্তগুলির  প্রাণ পেয়ে উঠে
প্রেমের শিহরণকারী আলিঙ্গনে

আজ :
নিস্তেজ তোমার তীব্র প্রেমের  জুঁই
হিমায়িত প্রেমের সমস্ত ভ্রূণ
রক্তের শিরায় শিরায়
বিধস্ত সময়ে  আজ হারিয়ে ফেলেছে
তোমার প্রেমের ঠিকানা ….

কাল :
দেখতে চাই তোমাতে
প্রেমের প্রেতাত্মা  ছড়িয়ে পড়া
তোমার দেহের  অঙ্গে অঙ্গে
ঠিক পৃথিবীর সমস্ত আলো যখন প্রেতাত্মার গর্ভে বন্দী হয়
লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় অমানিশার অন্ধকারের মধ্য রাত্রিতে …

শাপলা তোলার স্মৃতি

মো: আশিকুর রহমান

ছেলেবেলায় যখন বানিয়েছিলাম
কলাগাছের সেই ভেলা
বর্ষাকালের খালবিল হতে
তা দিয়ে তুলেছি শাপলা।

মায়ের হাতের রান্না করা
তাজা শাপলার তরকারি
সেই স্বাদ ছিলো কতোটা বেশি
ভুলতে যে নাহি পারি।

বিকালের দিকে শালুক পুড়িয়ে
বন্ধুদের সাথে খাওয়া
সেই আনন্দ আজও রয়েছে
স্মৃতির পাতায় ছাওয়া।

গায়ের মেয়েরা গাঁথতো প্রতিদিন
শাপলা ফুলের মালা
সকলে আমরা একসাথে মিলে
তুলতে যেতাম শাপলা।

দুঃখ বিভোর

আব্দুল কাইয়ূম

অশ্র“ সিক্ত নয়ন আমার
ঝরছে অঝরে বৃষ্টিরে
হৃদয় সিক্ত কষাঘাতে
আপন জনের তরে।

যাদের তরে দিয়েছি সর্বস্ব
তারাই আজ দিল কষ্ট
যাদের তরে হয়েছি বিভোর
তারা আজ বলে দূর দূর।

আমি নিঃস্ব একাকার
বুঝিনি হতে বসেছি অঙ্গার
তবুও দেই না তাদের ধিক্কার
বলি সুখে থাক তোরা অনন্তকাল।