বিভাগ: সাহিত্য

সৎ

মু. আব্দুল কাদির জীবন

যদি তুমি হও সৎ
ধরবে তুমি ভাল পথ
দেখবে তুমি আলো
থাকবে তুমি ভালো।

সৎ হওয়া তোমার জন্য
অনেক বড় কাজ
সুন্দর জীবন গড়তে হলে
এটাই তোমার সাজ।

অসৎ ব্যক্তি হলে তুমি
কেউ পাবে না ভালো
নষ্ট হবে জীবন তোমার
দেখবে না কোন আলো।

প্রতিভা

এম. এইচ. ফরহাদ

আত্মত্যাগ অনাহার অনিদ্রা
প্রতিভা সর্বশূচি পরিশ্রম,
ছিনিয়ে আনে
হীরে রম্য জহরত মনিমুক্তা,
ডুমুরের ফুল

আর অমাবস্যায় চাঁদের দর্শন।
দূরতিক্রম্য স্থান অনুসন্ধিৎসায়
হিমালয়ের চূড়ায় আরোহণ,
অবশ্যম্ভাবী অদ্যান্ত

করতে তা উপলব্ধি আজন্ম।
আত্মবিশ্বাস রেখে সারাক্ষণ
থাকিলে নিশঙ্কা-অশিহরণ,
তাহলে সম্ভব
গভীর তমসায় বিচরণ।
দু’ভাগ প্রতিভা
আটানব্বই পরিশ্রম
যে কোনো বিষয়ে
সফলতা সম্ভব।
ধরণী-অবনীর বুকে
নেই কোনো কিছু অসম্ভব।

বসন্ত

বেগম হাফসা শফিক

নব বসন্তে, নব দিগন্তে, নব গান গাহিয়া,
আজি ধরা উঠেছে জেগে কোকিলের কুহু ডাক শুনিয়া।

নব ঊষা নব পুষ্প, নব হাসি, নব চাওয়া,
নব চোখ, নব জোয়ার, নব কুঞ্জে তোমায় পাওয়া।

তোমারী বিরহে কেটেছে কত দিবস কত যামিনী,
আজি বসন্তে তোমায় পেয়ে চারিদিকে উল্লাস নৃত্যে নাচে ধরণী।

নাচে বিহঙ্গ, নাচে ফুল, নাচে জোছনা,
নাচে মুকুল, নাচে কলি, নাচে পল্লব, নাচে ঝরণা।

দখিনা বাতাসে পক্ষির কন্ঠে নব কলরব,
আজি কোকিলের কন্ঠে এত গান ফুলের কত সৌরভ।

তোমায় নিয়ে স্বপ্ন কত হারিয়ে যায় সীমানা,
আজি এই পুষ্পমাল্য পরাব তোমায় এই নব কামনা।

মায়াবতি

জালাল আহমেদ জয়

পদ্মার জলে,
দীঘির কোলে
দেখেছি তোমার ছায়া;
রূপ দেখে প্রাণে আমার
লাগে কি যে মায়া।
শতবর্ষি রূপের উপমা তুমি:
যার খোঁজে হাঁটছি আমি,
পথে পথে ঘাটে ঘাটে
অনন্তকাল ধরে
দিগন্তের মোহনাতে।
আকাশ ভরা জ্যোৎস্না আলোয়;
যায় যে তোমার ছায়া দেখা,
পূর্ণিমা রাতে খুঁজি তোমায়
খুলে মনের ও দুনিয়া
কেন আজও তুমি,
রয়ে গেলে দূরে
আমায় ছাড়িয়া ?

শুধু মনে পড়ছে

নেছার আহমদ নেছার

স্মৃতিগুলো রেখে গেলেÑ
তোমার গান তোমার হাসি
তোমার উচ্ছল প্রাণবন্ত জীবন,
তোমার প্রিয় বন্ধু-তোমার প্রিয় সাথীদের
ছেড়ে তুমি চলে গেছে-অনেক সুদূরে
সাগর মহাসাগর পেরিয়ে
তুমি চলে গেছ।
বরের সান্নিধ্যে তুমি চলে গেছ
হাওয়ার ভেসে ভেসে উড়োজাহাজে;
তুমি ছাড়া তোমার অস্তিত্ব আজ
নীরব নিভৃতে গুমরে কাঁদে
সকলেই তোমার বিরহে কাতর,
তোমার স্মৃতিগুলো খুব বেশী করে
সকলেরই শুধু মনে পড়ছে।

কিতা খবর ভালানি

নাজমুল ইসলাম মকবুল

কিতা খবর ভালানি ভাই বাড়ীর হখল ভালানি
ছিলট লইয়া দেশ বিদেশো আমরা করি ফুটানি
ভাই আমরা করি ফুটানি।।

ছিলট আমার শাহজালাল আর শাহপরানর মাটি
ওলি আবদাল গউছ কুতুব আর জ্ঞানি গুণির ঘাঁটি
ছিলটর গ্যাস অনেক জেলায় মিটায় তাদের জ্বালানি।।

শিতালংশাহ দুরবীনশাহ আর হাসন রাধা রমন
আবদুল করিমসহ বাউল কবি লেখকগণ
ছিলটর সু-নাম ছড়াইলা ইতা খবর রাখইননি।।

ছিলটর ওই প্রবাসীরা লন্ডন আমেরিকা
কষ্ট করি রুজি করিয়া দেশো পাঠাইন টেকা
কমলালেবু আনারস আর চায়ের খবর রাখইননি।।

বসন্তের বাঁশি

মোঃ সাদিকুর রহমান ইনামতি

বসন্ত ঋতুরাজ
ধরে কত সাজ
সুবাসে নাই লাজ
সম্মানে সে তাজ।
চলে আসে নবীন স্বত্ত্বে
শীতের অবসানে
মুখরিত প্রকৃতি
কোকিলের গানে
আমের মকুল
বাতাবী লেবুর ফুল
প্রকৃতির সাথে
সুবাসে খায় দোল।
কনের মত সাজে গো
খুলে রঙ্গের দুয়ার
মানবের হদয়ে জাগে
আনন্দের জোয়ার।
হিমেল বাতাসে
ভাসে প্রকৃতির হাসি
মনে হয় হাসি নয়
বসন্তের বাঁশি।

স্মরণ করো তাঁরে

সৌমেন কুমার

যাই ভুলে যাই অকারণে থাকে না কিছু স্মরণে,
মানবকূল স্বার্থ পূরণে বিবেকরে লুটায় চরণে।
যাবে যে লয় সব মরণে দিনে দিনে ক্ষয় ক্ষরণে,
পড়বে ধরা তাঁর হরণে মাতো হে মানব ভজনে।
বাজপাখি মুহূর্ত ক্ষণে ছোঁ মেরে ফেলবে বিজনে,
কুর্নিশ করো হে তাঁর তরে তিনিই রক্ষক ত্রিভুবনে।

সূর্যোদয়

মিজানুর রহমান মিজান

স্বাধীনতা অর্জনের কালে
বুকের রক্ত দেয় ঢেলে
বাংলার দামাল ছেলে।
পাক বাহিনীর অত্যাচার
গর্জে উঠে হাতিয়ার
এগিয়ে যায় অসীম শৌর্যবলে।
প্রাণ যায় যাক
হানাদার নিপাত যাক
এ প্রত্যাশিত মন্ত্র বলে।
নয় মাসের যুদ্ধ শেষে
লাল সবুজ পতাকা আসে
বাংলা মায়ের কোলে।
নব সূর্যোদয় হলে
গর্বিত প্রাণ চাঞ্চল্যে
জয় গান গাই সকলে মিলে।
দেশ  গড়ার প্রত্যয়ে
দেশপ্রেম সঙ্গে নিয়ে
মোদের  আত্মোন্নয়ন চলে।

হিজল স্যারের জন্য প্রার্থনা

মো: সুরুজ মিয়া

বিদায়ের কথা শুনে ব্যথা বেদনার একটি পাহাড়।
জেগে উঠে আমার এ অবুঝ বুকে ॥
সত্যিই বিদায় একটি কষ্টের ব্যাপার।
বাস্তব চিরসত্য এ ভূলোকে ॥

আমরা চাই না কেউ চলে যাক।
আমাদের মধ্য থেকে দূরে কোন প্রিয়জন ॥
হায় ! তবুও যখন যেতে হয় কারো।
কেঁদে উঠে মানে না বারণ ॥

মনকে শুধাই, কেনো কাঁদো কেনো কাঁদো ?
পৃথিবীতো আসা যাওয়ারই ভূমি ॥
মন বলে এও ঠিক, তবে বল।
আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কী ভাষা জান তুমি ?

আমি বলি, না না, আমি বড়ই দু:খিত ব্যথিত।
হে মন, তোমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নাই জানা ॥
তুমি থাম, শান্ত হও, শান্ত হও।
কর বিদায়ীর জন্য সুখ প্রার্থনা ॥

আমার কথা শুনে, প্রার্থনার মন বলে হে মোর রব।
একমাত্র তুমি ছাড়া শক্তিহীন সব ॥
একমাত্র তুমিই সব কিছুর মালিক তাই।
মালিকের কাছে সব কল্যাণ হিজল স্যারের জন্য চাই ॥