বিভাগ: সম্পাদকীয়

সিটি নির্বাচনে ইসির নিরপেক্ষতা

সিলেট, রাজশাহী, ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে আগামী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতার জন্য এই তিন সিটি করপোরেশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ জুন। যাচাই-বাছাই হবে ১ ও ২ জুলাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিস্তারিত

প্রবাসে নারীর নিরাপত্তা

প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে যায়। বেশির ভাগ যায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত সৌদি আরবে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্যই তারা বিদেশে যায়। গত শতকের আশির দশক থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে। প্রচুর টাকা খরচ করে, নানা বিড়ম্বনা সয়ে মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। তাদের কষ্টের বিনিময়ে দেশ পাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স। এত দিন শুধু পুরুষ কর্মীরা যেত। কয়েক বছর ধরে নারী কর্মীরাও যাচ্ছে, মূলত গৃহকর্মী হিসেবে। তাদের বিদেশযাত্রার মাধ্যমে দুটি বিষয়ে অগ্রগতি ঘটবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এক. কর্মসংস্থানে নারী-পুরুষের ব্যবধান কমবে এবং দুই. নারীর সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে। সেসব যে একেবারেই হচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে দিচ্ছে, এসবের জন্য নারীদের অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। দেশের নিবর্তনমূলক পরিবেশ থেকে বাইরে গিয়ে আরো বেশি নিবর্তনের মধ্যে পড়ছে তারা। নারীরা কী পরিমাণ অসম্মান ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা গণমাধ্যম মারফত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরে আসছে। তাদের সবার অভিজ্ঞতা কমবেশি একই রকম। তারা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে দিনের পর দিন। তাদের ভাষ্য, সৌদি পরিবারগুলো আকারে বেশ বড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরতিহীন কাজ করতে হয়েছে তাদের। যাওয়ার আগে তাদের ধারণা ছিল, দেশটি ধন-সম্পদে ভরা। সে ধারণা মিথ্যা নয়; আবার অনেক বিষয়েই তাদের কোনো ধারণা ছিল না। ফিরে আসা নারীদের বক্তব্য যে দেশের কথা তারা এত দিন শুনেছে, সেখানে তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না; কাপড়চোপড় দেওয়া হতো না। সৌদি পুরুষদের অমানুষিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে তারা। নির্যাতন সইতে না পেরেই তারা দেশে ফিরে এসেছে। নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে অনেকে। এমন নির্যাতনের শিকার হতে হবে সেটি তাদের ধারণার মধ্যেই ছিল না।
দেশে হোক বা বিদেশে, নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এ নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করতে হবে। বিদেশে যারা যাচ্ছে তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু সৌদি আরবে কী হয় জেনেও তারা মুখ বুজে আছে। নির্যাতিত নারী কর্মীরা স্থানীয় পুলিশ, বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্বদেশি পুরুষ কর্মীদের সহায়তায় কর্মস্থল ত্যাগ করছে, পরে দেশে ফিরছে। এ বিষয়ে আগেই ভাবা উচিত ছিল সরকারের; ভাবেনি। এখন তাদের তৎপর হওয়া অতি জরুরি। নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন দরকার অবশ্যই; তবে তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিনিময়ে নয়।

সড়ক সংস্কার জরুরী

জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই শুরু হবে ঈদ যাত্রা। আশঙ্কা করা হচ্ছে বরাবরের মতো এবারও ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে ঘরমুখো মানুষকে। দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে এমন আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার সব মহাসড়কে যানজটের খবর দেখে। এর পাশাপাশি দেশের সড়ক-মহাসড়কের যে অবস্থা এখন, তাতে আশান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গত বছরের নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে ১৭ হাজার ৯৭৬ কিলোমিটার মহাসড়ক জরিপ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের এইচডিএম বিভাগ। এতে ধরা পড়ে দেশের ২১ হাজার কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়কের ২৬.৩২ শতাংশ নাজুক। এরপর আরো চার মাস চলে গেছে। বিভিন্ন মহাসড়ক স্থানে স্থানে আরো খারাপ হয়েছে। গত বছরের বন্যার ধকল সামাল না দিতেই এবার ঘন ঘন বর্ষণে নতুন নির্মিত মহাসড়ক চলাচলের উপযোগিতাই শুধু হারায়নি, হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনাপ্রবণও।
ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। নিকটজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। ঈদের সময় দেখা যায়, আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে এসব বাসের চালক মহাসড়কে যানবাহন চালানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞ নয়, তার ওপর রয়েছে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে বা নামানো হচ্ছে। এতে পেছনে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়, সৃষ্টি হয় যানজটের। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে থাকা শোল্ডার দিয়ে মূলত তিন চাকার যানবাহন চলাচল করে। এই শোল্ডারও কয়েক দিন আগে মেরামত করা হয়েছে। এই মহাসড়ক মসৃণ থাকলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে হাট-বাজারের কারণে এবারও যানজটে পড়তে হতে পারে। উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের সবচেয়ে বড় ভয় ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়ক পর্যন্ত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এখন বাসে বসা দায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চন্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগছে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা।
তবে ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারে হাত দিতে হবে। ভাঙাচোরা রাস্তা যেন যানজট ও কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। হাতে যে কয় দিন সময় আছে, এর মধ্যে যেটুকু সম্ভব রাস্তা মেরামত করা গেলে ঈদ যাত্রার দুর্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় করতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা গেলে অনেকটা নির্বিঘœ হবে ঈদ যাত্রা।

খেলাপি ঋণ আদায়ের হার

কিছুকাল আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিছু কথা বলেন। তাতে অনেকেই এমন আগাম ধারণা পেতে পারেন যে, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানো হতে পারে। এমনটা হলে তা দেশের মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য বিরাট ক্ষতির ব্যাপার হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আকর্ষণীয়। এখন বাজারে ঋণের সুদের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের ঋণের ফারাকটা একটু বেশি হয়ে গেছে। তাই এটাকে রিভিউ করতে হবে। কিন্তু এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত। তাই রিভিউ করা হয়নি। তবে এবার সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এটাকে রিভিউ করা হবে।
এখানে স্মরণযোগ্য গত মাসের শুরুর দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সরকার সুভিধাভোগীদের আশা-আকাক্সক্ষার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের বর্তমান সুদের হার বহাল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
সঞ্চয়ের সুদ কমে যাওয়া প্রত্যাশিত নয়। দেশে যথেষ্ট বিনিয়োগ না হলেই ব্যাংকিং সেক্টরে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সেইসঙ্গে বছর-বছর আমানতের টাকায় সুদের হারের নিম্নগামিতা প্রত্যক্ষ করে আসছেন, তাদের ভীতি অমূলক নয়। সর্বোচ্চ মন্দ পরিস্থিতি বিষয়ে আগাম হতাশা প্রকাশ অবশ্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষণ নয়।
সরকার সচেতন বলেই বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটাতে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালের মার্চে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বেসরকারি বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ বোর্ড কাজ করে থাকে। অন্যদিকে বন্ধ কিংবা অলাভজনক সরকারি কলকারখানা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনে নিয়ে আসার দায়িত্ব প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের।
এ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল : ‘সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এটা চলতে থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বেড়ে যাবে। সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝাও বেড়ে যাবে। সে কারণেই সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ কিন্তু সঞ্চয়পত্র হলো স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার জায়গা। এই আমানত তাকে নিরাপত্তা দেয়। মানুষ রাষ্ট্র তথা সরকারের কাছ থেকেই এই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে। এই একটি খাতে সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিনিয়োগ করে। শেয়ারবাজারে ধস নামার বাস্তবতায় দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ প্রধানত সঞ্চয়পত্র খাতের মাধ্যমেই বিনিয়োগ করে থাকে। অবসরভোগী চাকরিজীবী, প্রবাসী ও সমাজের বিশেষ জনগোষ্ঠীর ভেতর সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের প্রবণতা বেশি। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ তার সারা জীবনের সঞ্চয়ের বড় অংশ এই খাতেই বিনিয়োগ করে থাকে ঝুঁকিহীনভাবে বেশি লাভের আশায়। আমরা বলেছিলাম খেলাপি ঋণ আদায়ের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণই যুক্তিযুক্ত।

বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান আবশ্যক

অসৎ ব্যবসায়ীদের কাছে ধর্ম নয়, মুনাফাই মুখ্য। তাই রোজার মাস তাঁদের জন্য আলাদা বা বিশেষ কোনো অর্থ বহন করে না। বরং সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতি ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তাঁদের জন্য বরতুল্য হয়ে ওঠে; তাঁরা চুটিয়ে ব্যবসা করেন। চাহিদা-সরবরাহের প্রসঙ্গ তুলে নিয়ম-নীতি, বাজারদরের তালিকা দূরে ঠেলে রাখেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্য দেশে যা ঘটে না, তা ঘটে বাংলাদেশে। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। জনকল্যাণ বা জনসেবা সব ছেঁদো কথা। যত কায়দায় মুনাফার সর্বোচ্চকরণ সম্ভব, তা তাঁরা করেন। তাই মাংসে পানি ঢুকিয়ে ওজন বাড়িয়ে মুনাফা অর্জনের সুযোগ তাঁরা ছাড়বেন কেন? মাছে-সবজিতে রাসায়নিক ভেজাল মেশাবেন না কেন? বাস্তবে তা-ই তাঁরা করছেন, এ নিয়ে ভোক্তার অভিযোগের শেষ নেই। এই নীতিহীন ব্যবসায়ীরা আবার বণিক সংঘগুলোর নেতৃত্বেও ঢুকে পড়েছেন। ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা থাকলেও মুনাফাবাজির চক্র থেকে বেরোতে পারেন না। বেরোতে চাইলে সমিতি বেঁকে বসবে। অসততাই এখন রীতি। সৎ থাকেন বা থাকার চেষ্টা করেন কিছু বোকা লোক।
রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ওজন বাড়ানোর জন্য মাংস পানিতে চুবানো হয়, এ অভিযোগও প্রবল। রোজার শুরু থেকেই অভিযোগ উঠছে, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়; ওজনেও কম দেওয়া হয়। অবশেষে সেখানে একটি অভিযান হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পান। আদালতের সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রতিনিধি ও জেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়। প্রতারণা ও বাজারদর অমান্য করায় কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়।
বাজারদর কখনোই মানা হয় না। রোজার মাস এলে চাহিদা-সরবরাহের ফারাক দেখিয়ে ইফতারসামগ্রীর জন্য জরুরি পণ্যগুলোর দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাজারে ভেজাল পণ্য ছাড়া হয়। তবে এ সময়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কিছু অভিযান চালায় এটাই ভরসা। অভিযানের সংখ্যা বাড়লে আরো ভালো হয়। আর সারা বছরই যদি এ মাত্রায় অভিযান চলত, তাহলে ভোক্তাসাধারণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারত। আমরা আশা করি, অন্তত রোজার মাসে বাজার মনিটরিং ও অভিযান ঠিকমতো চলবে এবং প্রতারক ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের অবস্থা দেখতে এসেছিলেন বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। গত সোমবার বাংলাদেশে এসে চার দিন রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে অনিশ্চিত জীবনে থাকা শিশুদের সঙ্গে খেলা, খুনসুটিতে মেতেছিলেন তিনি। চার দিনে উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং সীমান্তের কাছে রোহিঙ্গা আগমনের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘুরে দেখেছেন তিনি। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন তাদের বাস্তবতা, তাদের সংকট। এরপর ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার ফিরে যাওয়ার আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেছেন, একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ সব শিশুর প্রাপ্য। পৃথিবীতে নিজ কর্মের অবদান রেখে যাওয়ার মতো সুযোগ পাওয়া সব শিশুর অধিকার। কিন্তু রোহিঙ্গা শিশুরা তা থেকে বঞ্চিত। তাদের কিছুই নেই। খাদ্য নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, বর্ষায় মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। এর মাঝেও তারা হাসছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, গত বছরের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর এখানে যে গভীর মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে তার নজির এই শিশুরা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত লাখ মানুষের ৬০ শতাংশই শিশু; যাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে মনে করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এই শিশুদের জন্য কাজ করছে ইউনিসেফ; তার অংশ হিসেবেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে সেখান থেকে ফেসবুক লাইভে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে এই রোহিঙ্গা শিশুরা যে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে, তা কোনো শিশুরই প্রাপ্য নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই শিশুদের যতœ নেওয়া এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। বিশ্ব সেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে না এলে রোহিঙ্গাদের একটি প্রজন্ম পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন তিনি।
ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই সতর্কতা উচ্চারণ ও রোহিঙ্গা শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাড়া দিতে হবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বাজার নজরদারি বাড়ানো উচিত

রমজানে এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি পণ্যবাজার। যথেষ্ট মজুদ থাকার পরও মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়নি। নিত্যপণ্য তো বটেই, মাছ-মাংসও নির্দিষ্ট দামে বিক্রি হচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে গেলে দাম কমানো হয়, সরে গেলেই আগের দামে বিক্রি শুরু হয়। রমজান মাসে বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পণ্যবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জালজালিয়াতির বিষয়ে নজর রাখবে। এতে বাজার সহনীয় থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বাজার সিন্ডিকেট অনেক বেশি সক্রিয়। কর্তৃপক্ষের নজরদারি শুধু রমজানের বাজারকেন্দ্রিক না হয়ে যদি সারা বছর চালানো যেত, তাহলে হয়তো বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারে। এবার রমজানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কোনো কোনো পণ্যের দাম নির্দিষ্ট একটি পর্যায়ে গিয়ে স্থিতিশীল হলেও মাছ-মাংসের বাজার এখনো অস্থিতিশীল। রমজানের আগেই গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রমজান শুরুর পর নির্দিষ্ট দামে কোথাও মাংস বিক্রি হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ছিল। একইভাবে মুরগির বাজারেও চড়া ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেই বাজারে নির্দিষ্ট দামে ব্রয়লার ও অন্য মুরগি বিক্রি হচ্ছে। আদালত সরে গেলেই অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরবরাহ কম এমন অজুহাতে মাছের বাজার রমজান মাসের শুরু থেকেই অস্থিতিশীল।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সবার আগে দরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি। বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই সক্রিয় হলে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি ব্যবসায়ীরা করতে পারবে না। বন্ধ হবে জালজালিয়াতিও। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকে সক্রিয় হলে বাজার যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তেমনি ভেজালের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। রমজানের বাকি দিনগুলোতে বাজার সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরো বাড়ানো উচিত বলে আমরা মনে করি।

মাদক কঠোরভাবে দমন করুন

জঙ্গি দমনের পর দেশ থেকে মাদক নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারি চক্রের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে গত কয়েক দিনে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে দমন করতে শুরু করেছে, তাতে সংশয় প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তরুণসমাজকে সর্বনাশা পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য এই অভিযান যুগান্তকারী পদক্ষেপ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদক পাচার ও সেবন দেশ ও সমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও মাদক কারবারের বড় হোতাদের ধরা যাচ্ছে না। বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না মাদক কারবারের হোতাদের। যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তারাও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান আইনে মাদকের সংজ্ঞায় অনেক মাদকদ্রব্যের নাম নেই। অথচ প্রতিদিন নতুন নতুন নামে মাদক আসছে। আইনসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আইনের ধারাই মাদকের গডফাদারদের রক্ষা করে চলেছে। যার কাছে মাদক পাওয়া যাবে, শুধু তার বিরুদ্ধেই মামলা করা যায়। ফলে মাদকের গডফাদাররা থেকে যায় আড়ালে। বিদ্যমান আইনে শুধু মাদকের অধিকারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করা যায়। কিন্তু আড়াল থেকে যারা মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
মাদকের অপব্যবহার এখন শুধু মাদকেই সীমিত থাকছে না। মাদকের কারণে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে দেশের তরুণসমাজ। সমাজে যেমন অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, তেমনি মাদকসেবীরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সমাজ শুধু পঙ্গু হয়ে যাবে, তা নয়। দেশের সব উন্নয়ন প্রচেষ্টাও মুখ থুবড়ে পড়বে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও বাংলাদেশ যে ক্রমেই ভয়ংকর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজ বা রাষ্ট্রের এ নিয়ে খুব একটা দুর্ভাবনা ছিল বলে মনে হয় না। দেশে মাদক উৎপাদিত হয় না বললেই চলে। মাদকের প্রায় সবটাই আসে বাইরে থেকে অবৈধ পথে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই কঠোরভাবে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলো ঝুলে থাকে, অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাদের জন্য দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন করতে হবে। আইনি দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হলে আইনের সংস্কার জরুরি। আইনি দুর্বলতার কারণেই মাদক কারবারের হোতাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। যুগোপযোগী আইনই মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে পারে।

আগাম বন্যার আশংকা

প্রকৃতি ক্রমে অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বা গ্রীষ্মকালে যেখানে কাঠফাটা রোদ থাকার কথা, সেখানে প্রায় পুরোটা সময় আকাশ থেকেছে মেঘে ঢাকা। কখনো কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টিও হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। বিস্তারিত

মাদক বিরোধী অভিযানে সফল হউক

মাদক এখন আর কোনো বিশেষ শহর বা বিশেষ শিল্প এলাকার সমস্যা নয়, এটি এখন সারা দেশেরই প্রধান সমস্যা। গ্রামাঞ্চলেও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধরনের মাদক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও আসক্ত হয়ে পড়ছে। সারা দেশে অভিভাবকরা আজ এক অজানা আতঙ্কে ভুগছেন। অনেক জায়গায় মাদকের হাট-বাজার বসছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এভাবে চলতে থাকলে একটি প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংসের পথে চলে যেতে পারে। ধসে পড়তে পারে দেশের অর্থনীতি। পত্রপত্রিকায় দেশ ধ্বংসের এই আয়োজন নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে। অবশেষে রাষ্ট্র যেন কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। মোটামুটি ব্যাপকতা নিয়ে শুরু হয়েছে মাদকবিরোধী অভিযান। গত কয়েক দিনে হাজারের বেশি মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে। মাদক বিক্রেতাদের ধরতে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধের মুখেও পড়তে হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে। এ রকম বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন বিক্রেতা মারাও গেছে। জানা যায়, পরিস্থিতি বিরূপ বিবেচনা করে মাদকের গডফাদার বা মূল হোতারা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। যেকোনো মূল্যে এদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করেন, অন্য অনেক অপরাধের সূতিকাগার হচ্ছে মাদকের বিস্তার। অনেক দেশই মাদকের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের বাস্তবতায়ও আমরা মাদকের বহুমুখী কুফল প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছি। তাই একে যেকোনো মূল্যে রুখতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদ দমন করেছি। এবার মাদকের হাত থেকেও দেশকে উদ্ধার করব।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যে আন্তরিকতা রয়েছে, আমরা তার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছি। সংগত কারণেই আশা করছি, মাদকবিরোধী অভিযান এবার সফলতা খুঁজে পাবে। এই অভিযান সফল করতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। সে কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। আমরাও আশা করি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর আন্তরিকতা এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এবারের মাদকবিরোধী অভিযান সঠিক পথ ধরেই এগিয়ে যাবে।
মাদক বাণিজ্যে বহু ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালীর জড়িত থাকার তথ্য বহুবার বহুভাবে গণমাধ্যমে এসেছে। রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, আমলা, এমনকি পুলিশের বড় বড় কর্মকর্তাও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, বিভিন্ন জায়গায় জমে ওঠা হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশের সোর্স হিসেবে কথিত কিছু ব্যক্তি। অভিযোগ আছে, তাদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার লাভের বড় অংশই চলে যায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ হোতাদের পকেটে। সবার আগে এই সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে। তা না করে শুধু কিছু খুচরা কারবারিকে শাস্তি দিলে অভিযান সফল হবে না। জানা যায়, দেশে বর্তমান মাদকাসক্তির অর্ধেকেরও বেশি ইয়াবাজনিত। ইয়াবা আসে মূলত মিয়ানমার থেকে, চোরাপথে। এই পথ বন্ধ করতে হবে। আইনের দুর্বলতা, দ্রুত জামিন পাওয়া এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও অনেক লেখালেখি হয়েছে। মাদক থেকে মুক্তি পেতে এদিকেও মনোযোগ দিতে হবে। আমরা চাই, এবারের মাদকবিরোধী অভিযান সর্বাঙ্গীণভাবে সফল হোক।