হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
ঢাকা-সিলেট রেলপথের মাধবপুর নয়াপাড়া ও শাহজীবাজারের মধ্যবর্তী স্থানে আন্ত:নগর পাহাড়িকা ট্রেনে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে মা-মেয়েসহ ৩জন ঝলসে গেছে। এরা হলো হবিগঞ্জ সদর উপজেলার এড়ালিয়া গ্রামের কেসলি মিয়ার স্ত্রী মায়া বেগম (৪০), তার কন্যা আমিনা খাতুন (২২) ও মাধবপুর উপজেলার হরষপুর গ্রামের মোহন রোদ্রের ছেলে মাধব রোদ্র (৩০)। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
এ হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে ৬ দুর্বৃত্তকে রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতবর্গ গ্রামের স্বপন রায়ের ছেলে সজল রায় (২৮), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন (১৮), একই উপজেলার ছাতিয়াইন গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে আব্দুস সোবহান (৩০), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল গ্রামের রঙ্গু মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (৩৮), একই উপজেলার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়া গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে সুজন মিয়া (১৮) ও চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সুন্দরপুর গ্রামের নোমান মিয়া (১৮)।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্ত:নগর পাহাড়িকা ট্রেন উল্লেখিত স্থানে পৌছলে পর পর তিনটি পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে ৩ যাত্রী ঝলসে যায়। ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে থামালে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার এসআই মোবারক হোসেনসহ একদল পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে ট্রেনের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।
এ ব্যাপারে ট্রেনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত হুমায়ূন আহমেদ বলেন, দুর্বৃত্তরা পর পর তিনটি পেট্রোল বোম ছুড়ে মারে। তিনি জানান, পেট্রোল বোমা ট্রেনের পাওয়ারকারের ভেতরে প্রবেশ করলে পুরো ট্রেনের ক্ষতি হতে পারত। যাত্রীদেরও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। ট্রেনটি দ্রুতগতিতে থাকায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।
হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (হবিগঞ্জ সদর) মাসুদুর রহমান মনির জানান, পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় রাতেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






