সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ॥ কানাইঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীর দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ

12
সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা পারভীন বেগম।

কানাইঘাটের গাছবাড়ী বাজারে প্রবাসীর স্ত্রীর দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো সহযোগিতা পাননি। উল্টো দখলদারদের হুমকিতে তিনি অবুঝ সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। রবিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উপজেলার উপর ঝিংগাবাড়ী গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী মিনহাজ উদ্দিনের স্ত্রী পারভীন বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার পৈতৃক নিবাস ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আগফৌদ নারায়নপুর গ্রামে। ভাই বোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার পিতা আলাউদ্দিন জীবিত থাকাবস্থায় গাছবাড়ী বাজারে ডিসির খতিয়ানে একটি দোকান রেখে যান। তিনি মৃত্যুকালে তাকে বলেন, দোকানের ভাড়াটিয়া রুহুল আমীন তার নিকট ৮০ হাজার টাকা পাবে। আমি যেন উক্ত টাকা পরিশোধ করে দোকান ভোগদখল করি। আমার পিতার কথামতো ভাড়াটিয়ার ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে গত ৮ বছর থেকে আমি দোকানঘরটি ভোগদখল করে আসছি। গত তিন মাস আগে আমার চাচা শাহাব উদ্দিন যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসেন। সম্প্রতি আমার পাশের বাড়ীর ফখর উদ্দিনের ছেলে এবাদ আমার চাচাকে ভুল বুঝিয়ে এবং আমার সৎ ভাইদের সাথে নিয়ে উক্ত দোকানঘরটি দখলে নেয়ার ফন্দি করে।
তিনি বলেন, আগফৌদ নারায়নপুর মৌজায় ২২৩৯ নং দাগে খরিদাসূত্রে আমার ৬ শতক ভূমি রয়েছে। একই দাগে এবাদের কিছু জায়গা রয়েছে। সম্প্রতি এবাদ তার জায়গায় মাটি ভরাট করতে গিয়ে আমার অংশ থেকে ১ শতক ৮০ পয়েন্ট জায়গা ভরাট করে ফেলে। এটা নিয়ে এবাদের সাথে আমার বিরোধ চলে আসছে। এ সুযোগে এবাদ প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমার দোকানঘরের উপর। সে আমার চাচা এবং সৎ ভাইদের ব্যবহার করে দোকানটি দখলে নিতে চায়। এ লক্ষ্যে গত রমজান মাসে এবাদ আমার চাচা ও সৎ ভাইদের সাথে নিয়ে দোকানের ভাড়াটিয়াকে গিয়ে দোকান ছেড়ে দিতে বলে। না হয় দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এমনিক দোকান না ছাড়লে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে ভাড়াটিয়াকে শাশায়। ভাড়াটিয়া বিষয়টি আমাকে জানালে আমি কোনোরূপ বিরোধে না জড়িয়ে কানাইঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই মোজাম্মেল ঘটনাস্থলে তদন্তে এসে বিষয়টি আপোসে দেখার জন্য এলাকার মুরব্বিয়ানদের বলে যান। এরই মধ্যে আমার চাচা শাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন। তার অভিযোগের তদন্ত করতে আসেন এসআই হুমায়ুন কবির। তিনি ঘটনাস্থলে এসে পুনরায় বিষয়টি আপোসে মিমাংসা করতে বলে যান। আমি এসআইকে বলি তারা প্রভাবশালী লোক। প্রতিনিয়ত তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার স্বামী ২৭ বছর যাবত প্রবাসে থাকেন। আমার তিনটি অবুঝ সন্তান রয়েছে। এমন অবস্থায় তারা আমার বড় রকমের ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি এলাকায় না বসে থানায় বসে সমাধান করলে ভালো হয়। কিন্তু এসআই্ হুমায়ন আমার কথা না শুনে উল্টো ধমক দেন। বাধ্য হয়ে আমি এলাকার সালিশে রাজি হই। এরই প্রেক্ষিতে গত রবিবার আমার বাবার বাড়ীতে শালিস বৈঠক বসে। শালিস চলাকালে এলাকার মুরব্বি মনু মিয়া অপর পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন হঠাৎ করে দোকানকোটা তালা দিতে যাওয়া তাদের উচিত হয়নি। এতে প্রতিপক্ষরা উক্ত মুরবিবর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হঠাৎ করেই এবাদ গংরা ধর ধর বলে আমার উপর হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা আমাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে মুরবিবয়ান ও আমার মা বোন আমাকে উদ্ধার করে একটি কক্ষে নিয়ে তালা মেরে রাখেন। ঘরের ভিতর থেকে আমি মোবাইল ফোনে বিষয়টি এসআই হুমায়ুনকে জানাই। কিন্তু তিনি আমাকে উদ্ধার করতে আসেননি। কোনোমতে সেখান থেকে বের হয়ে আমি সেদিন স্বামীর বাড়ীতে চলে আসি। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার সকালে তারা দোকানে গিয়ে আমার ভাড়াটিয়াকে বের করে দেয়। ভাড়াটিয়া আমাকে মোবাইল ফোনে জানায় সে দোকান ছেড়ে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমাকে আদালতে মামলা করার কথা বলেন। গত শনিবার সকালে এবাদের নেতৃত্বে তারা আবার আমার তালা ভেঙ্গে দোকান দখলে নিয়ে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে পারভীন বেগম তার পিতার রেখে যাওয়া দোকানঘরটি ওই চক্রের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার মা ও বোন উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি