ইভটিজিং এর কারণ ও প্রতিকার

॥ মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান ॥

মহান আল্লাহ এক মানব আদম (আ.) থেকে তার স্ত্রী, অতঃপর এতদুভয় হতে সমগ্র মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। সৃৃষ্টজীব হিসেবে যেমন রয়েছে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা; তেমনি আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, অধিকার, দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি দিক থেকেও রয়েছে নারী-পুরুষের সাম্য। মায়ের জাতি নারী সমাজ আজ সমাজের নানা প্রান্তে নানা প্রকার অত্যাচার-নির্যাতনে জর্জরিত। নারীজাতি তথাকথিত আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিধান বাদ দিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চায় উদগ্রীব; যার ফলশ্র“তিতে আইয়ামে জাহেলিয়্যাতের ন্যায় এ দেশের নারী সমাজ আজও পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছে। ইভটিজিং হলো নারী নির্যাতনের একটি আধুনিক সংস্করণ। ইভটিজিং কী? এর উৎপত্তি এবং এ বিষয়ে দেশীয় ও ইসলামী আইনের তুলনামূলক পর্যালোচনাপূর্বক ইসলামী আইনের উপযোগিতা তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইভটিজিং একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা। যা অন্য সকল অপরাধকে হার মানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা সংস্কৃতি, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে চরিত্রহনন, বিভিন্ন দিবস পালনের নামে তরুণ-তরুণীদের অবাধ উন্মাদনা, আধুনিক পোষাকের নামে উলঙ্গপনা, ফেইসবুকে তরুণ-তরুণীদের অবাধ হৃদয় বন্ধন ইত্যাদি নানাবিধ অনৈতিক কাজের ফলাফল স্বরূপই আজকের সমাজে নেমে এসেছে ভয়াল ইভটিজিং। ইভটিজিং আইন, সমাজ, রাষ্ট্র কারো দ্বারাই প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। মুসলিম সমাজে নৈতিক মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে ইভটিজিং ঠেকানোও সম্ভব নয়। তাই আজকের সমাজে ইভটিজিং থেকে বাঁচতে হলে ইসলামী অনুশাসন ও এর আইনী ব্যবস্থা মেনে চলা অপরিহার্য। কেননা একমাত্র ইসলামী অনুশাসনই হতে পারে ইভটিজিং প্রতিরোধের সর্বোত্তম পন্থা। ইভটিজিং এর পরিচিতি, এর সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যয়সমূহ, ইভটিজিং প্রতিরোধে দেশীয় ও ইসলামী আইন সমূহ, সর্বোপরি ইভটিজিং প্রতিরোধে একটি সুপারিশমালা পেশ করাই এ প্রবন্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
ইভটিজিং বলতে কী বুঝায়? ইভটিজিং শব্দটি যৌন হয়রানির একটি অমার্জিত (ংষধহম) ভাষা। ইভ (ঊাব) দ্বার বাইবেলে বর্ণিত প্রথম নারী হাওয়াকে বুঝানো হয়েছে। “অফধস হধসবফ যরং রিভব ঊাব, নবপধঁংব ংযব ড়িঁষফ নবপড়সব ঃযব সড়ঃযবৎ ড়ভ ধষষ ঃযব ষরারহম. (ঞযব ঐড়ষু ইরনষব, এবহবংরং, ৩:২০)” আর ইভটিজিং (ঞবধংরহম) বলতে ঠাট্টা করা, বিরক্ত করা, বিব্রত করা ইত্যাদি বুঝায়। “ঊফরঃড়ৎরষ ইড়ধৎফ, ইৎরঃধহহরপধ, টঝঅ, ঊহপুপষড়ঢ়ধবফরধ ইৎরঃধহহরপধ, ওহপ, ১৭৬৮,ঠড়ষ.৫,ঢ়.১১৯” সুতরাং ইভটিজিং (ঊাবঃবধংরহম) বলতে নারীর প্রতি বিব্রতকর, লজ্জাকর, নিপীড়নমূলক যে কোনো আচরণ বুঝায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ শব্দটি (ঝবীঁধষ ঐধৎধংংসবহঃ) এর পতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত। ১৯৯৯ সালে সাংবাদিক সুসান ব্রাউন মিলার সর্বপ্রথম (ঝবীঁধষ ঐধৎধংংসবহঃ) শব্দটি ব্যবহার করেন। “ঝঁংধহ ইৎড়হি সরষষবৎ, রহ ড়ঁৎ ঃরসব; সবসড়রৎ ড়ভ ধ জবাড়ষঁঃরড়হ, ঘবি ুড়ৎশ, উরধষ ঢ়ৎরংং, ১৯৯৯. উক্ত গ্রন্থেও ভূমিকায় উল্লেখ আছে, ঞযবৎব ড়হপব ধিং ধ ঃরসব যিবহ ঃযব পড়হপবঢ়ঃ ড়ভ বয়ঁধষ ঢ়ধু ভড়ৎ বয়ঁধষ ড়িৎশ ফরফ হড়ঃ বীরংঃ, যিবহ ড়িসবহ ড়ভ ধষষ ধমবং বিৎব “মরৎষং,” যিবহ ধনড়ৎঃরড়হ ধিং ধ নধপশ-ধষষবু ঢ়ৎড়পবফঁৎব, যিবহ ঃযবৎব ধিং হড় ংঁপয ঃযরহম ধং ধ ৎধঢ়ব পৎরংরং পবহঃবৎ ড়ৎ ধ ংযবষঃবৎ ভড়ৎ নধঃঃবৎবফ ড়িসবহ, “ংবীঁধষ যধৎধংংসবহঃ” যধফ হড়ঃ ুবঃ নববহ হধসবফ ধহফ ফবভরহবফ.
পরিভাষায় ইভটিজিং একটি ব্যাপকার্থক পরিভাষা, যা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুসারে ইভটিজিং (যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন) বলতে বুঝায়: শারীরিক ম্পর্শের মত অপ্রত্যাশিত যৌনকাক্সক্ষামূলক ব্যবহার। প্রশাসনিক, কর্তৃত্বমূূলক অথবা পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্বেগ বা চেষ্টা, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষাগত আচরণ, যৌন সম্পর্কের দাবি বা অনুরোধ, পর্ণোগ্রাফি প্রদর্শন, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি। অশালীন অঙ্গভঙ্গি, অশালীন ভাষায় প্রয়োগসহ যৌন কামনা থেকে হয়রানি। চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, এসএমএস, পোষ্টার, নোটিশ, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, নোটিশ বোর্ড, দেয়ালে লিখনের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা। ব্ল্যাকমেইলিং এবং চরিত্র হনন-এর উদ্দেশ্য স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ। লিঙ্গীয় ধারণা থেকে বা যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে শিক্ষা, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতায় বাধা প্রদান। প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া এবং প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে চাপ সৃষ্টি ও হুমকি প্রদান। মিথ্যা আশ্বাস, প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা। “২০০৮ সালে যৌন হয়রানি রোধে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক রীট আবেদনের  প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের  ১৪ই মে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নরোধের লক্ষ্যে দিক নির্দেশনা প্রদানপূর্বক নির্দেশনাবলী জারি করেন।
এ. এফ. সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে আরেক ব্যক্তি সভ্যতা, ভদ্রতা ও নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি বা বাক্য প্রয়োগ করার একটি মারাত্মক রূপ ইভটিজিং। “উপ-সম্পাদকীয় কলাম, ইভটিজিং আপন বেঁধে রাখি, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ঢাকা, ৬ নভেম্বর ২০১০।
সর্বোপরি ইভটিজিং হলো ব্যক্তি চরিত্রের নগ্ন রূপের এক চরম বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ আচরণ, যা শারীরিক নির্যাতন, “পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ (২০১০ সালের ৫৮নং আইন) এর ‘৩’ নং ধারার ‘ক’ নং উপধারা: “শারীরিক নির্যাতন” অর্থে এমন কোন কাজ বা আচরণ করা, যাহা দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা শারীরের কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে অপরাধমূলক অপরাধমূলক কাজ করিতে বাধ্য করা বা প্ররোচণা প্রদান করা বা বলপ্রয়োগও ইহার অন্তর্ভূক্ত হইবে”, মানসিক নির্যাতন “প্রাগুক্ত, ‘৩’ নং ধারার ‘খ’ নং উপধারাা: “মানসিক নির্যাতন” অর্থে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহও অন্তর্ভূক্ত হইবে, যথাঃ (অ) মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন বা এমন কোন উক্তি করা, যাহা দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি-মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; (আ) হয়রানি; অথবা (ই) ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অর্থাৎ স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশের উপর হস্তক্ষেপ, যৌন নির্যাতন “প্রাগুক্ত, ‘৩’ নং ধারার ‘গ’ নং উপধারা: “যৌন নির্যাতন” অর্থে যৌন প্রকৃতির এমন আচরণও অন্তর্ভূক্ত হইবে, যাহা দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির সম্ভ্রম, সম্মান বা সুনামের ক্ষতি হয়’’, নারী নির্যাতন “জাতিসংঘ কতৃক ঘোষিত (১৯৯৩-এর ডিসেম্বর) নারী নির্যাতন বিষয়ক ঘোষণার (উবপষধৎধঃরড়হ ড়হ ঠঅড) এর ধারা (১) : এই ঘোষণা মতে নারী নির্যাতন বলতে বুঝাবে সেই ধরনের জেন্ডারভিত্তিক সহিংস আচরণ যাতে নারীর শারীরিক মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি ও দুঃখ কষ্টের কারণ হবে এবং যাতে কোনো নারীর ব্যক্তিগত ও বাইরের জীবনে নিষ্ঠুরভাবে কোনো স্বাধীনতায় আঘাত ও বাধা সৃষ্টি করে”, মানহানি “বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারা “মানহানি (উবভভধসধঃরড়হ) : যদি কোন ব্যক্তি জেনে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তির নিন্দাবাদ প্রণয়ন করে কিংবা সুনাম নষ্ট করার জন্য কোন কার্য করে, তবে সেই ব্যক্তি উক্ত অপর ব্যক্তির মানাহানি করেছে বলে গণ্য হবে।’’ ইসলামী আইনে মানহানি বলতে : মিথ্যা রটনা, ভুল ধারণা, বিদ্রƒপ করা, হেয় প্রতিপন্ন করা ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। মানহানি সম্পর্কে মনাহানি সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের কতিপয় আয়াত, ৪৯ (আল-হুজরাত) : ৬,১১-১২. ২৪ (আন-নূর) : ০৪, ১৭ (আল-ইসরা) : ৩৬, ১০৪ (আল-হুমাযাহ) : ০১। (তারেক মোহাম্মদ জায়েদ ও শহীদুল ইসলাম, প্রচলিত ও ইসলামী আইনে মানহানি : এক তুলনামূলক বিশ্লেষণ, ইসলামী আইন ও বিচার, বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ এন্ড লিগেল এইড সেন্টার, বর্ষ: সংখ্যা: ২৩, জুলাই-সেপ্টেম্বর: ২০১০, পৃ. ১২৯-১৪৭” ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে যা ফৌজদারী কার্যবিধি “ফৌজদারী কার্যাবলী’’ ঈড়ফব ড়ভ পৎরসরহধষ ঢ়ৎড়পবফঁৎব, ১৮৯৮ (অপঃ ৫ ড়ভ ১৮৯৮)”  অর্থ, মোতাবেক অপরাধ বলে গণ্য, যা শিশু, “শিশু’’ আঠারো বৎসর পূর্ণ হয় নাই এমন কোন ব্যক্তি। (পরিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ (২০১০ সালের ৫৮ নং আইন) এর ‘২’ নং ধারার ‘১৮’নং উপধারা)। ইসলামী দৃষ্টিকোণে “শিশু” হলো, ১৪/১৫ বৎসরের পূর্ব পর্যন্ত। (মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, ইসলামের দৃষ্টিতে শিশুর বয়স-সীমা: সমস্যা ও সমাধান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বর্ষ: ৪৮, সংখ্যা: ৪র্থ, এপ্রিল-জুন: ২০০৯, পৃ. ১৯৫)” সাবালক, “বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অন্য সব ব্যক্তি (১ম অনুচ্ছেদেও অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ ব্যতীত) আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার পর সাবালকত্ব লাভ করেছে মর্মে গণ্য হবে এবং তদ্পূর্বে নয়। (সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫ (১৮৭৫ সালের ৯নং আইন) এর ‘৩’ নং ধারার ২য় অনুচ্ছে)”, সকল শ্রেণীর নারীর প্রতি হতে পারে।
উত্যক্ত করা ও মানহানি করা অর্থে পবিত্র কোরআনে ইভটিজিং শব্দের ব্যবহার হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: হে নবী! আপনি আপনার পতœীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে (পর্দানশীন হিসেবে) চিনতে পারা যায় ও এর ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। “আল-কোরআন, ৩৩ : ৫৯”। এছাড়া কুরআনে একে অপবাদ নামের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে- এরা সতী-সধ্বী, সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। “আল-কুরআন, ২৪ : ২৩”
সুতরাং বুঝা যায় যে, ইভটিজিং মূলত মানুষের একটি বিকৃত আচরণ ও অনৈতিক কর্ম। যার সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সমাধান দেয়া হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও আল-হাদীসে।
ইভটিজিং-এর ধরণ ও এর অন্তর্ভুক্ত কাজ ঃ ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি, সমাজে নানাভাবে-নানারূপে ইভটিজিং লক্ষণীয়।
ক. বাচনিক কার্যাবলী: অশালীন মন্তব্য, শিস বাজানো, যৌন আবেদনময়ী গান, হুমকি প্রদান, যৌন সম্পর্কের আবেদন, প্রস্তাব, অনভিপ্রেত বিয়ের প্রস্তাব। খ. অবাচনিক কার্যাবলী : লোলপ চাহনি, উস্কানিমূলক তালি, কুরুচিপূর্ণ ছবি প্রদর্শন, কমোদ্দীপক গানবাজনা, অশুভ ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টি, পিছু নেয়া, মোবাইলে কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ দেয়া, মিসকল দেয়া, ভষরহম শরংং (উড়ন্ত চুমু), চলার পথে বাধা দান, ই-মেইল কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ দেয়া ইত্যাদি। গ. শারীরিক কার্যাবলী : ঘাড় ও কাঁধে হাত দেয়া, গা ঘেঁষে দাঁড়ানো, জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া, শরীরে ধাক্কা দেওয়া, ব্লাকমেইল করার অভিপ্রায়ে চিত্র ধারণ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইভটিজিং ঃ ইভটিজিং বর্তমান সময়ে একটি মারাত্মক সমস্যা। যার ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের পারিবারিক, সামাজিক সহ সকল ক্ষেত্রকে আক্রান্ত করছে। বাংলাদেশে সংঘটিত ‘ইভটিজিং’ এর একটি সমীক্ষা নিম্নে প্রদান করা হলো:
* পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, গত এক বছরে ইভটিজিং এর অপরাধে মামলা হয়েছে ১০৫টি, জিডি ৩৩৭টি, থানায় অভিযোগ ১২৯৬ জনের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৫২০ জন। ‘‘দৈনিক প্রথম আলো, ২৮ অক্টোবর ২০১০, পৃ. ০৯”
* জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির গবেষণা অনুযায়ী ২০০৯ সালে ৭ মেয়ে বখাটেদের উৎপাতে আত্মহত্যা করে। আর ২০১০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫তে এবং মোট ইভটিজিং এর প্রত্যক্ষ শিকার হয় ৫২ জন। “প্রাগুক্ত”
* বিভাগভিত্তিক কয়েক মাসের ইভটিজিং এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়; রাজশাহীতে ১৩টি মামলা, সিলেটে ১৮টি মামলা, বরিশালে ২৭টি মামলা, ৪টি জিডি, রংপুরে ৫টি মামলা, চট্রগ্রামে ২৩৭টি ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটে। “প্রাগুক্ত”
ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে এখন আক্রমণের শিকার হচ্ছে অভিভাবক। যেমন: নাটোরের মিজনুর রহমান, ফরিদপুরের চাঁপা রাণী ভৌমিক। এমতাবস্থায় দেশব্যাপী ইভটিজিং এর প্রতিরোধ সভা, সেমিনার, প্রবন্ধ রচনা, আইন প্রণয়ন, মিছিল, মানব বন্ধনসহ নানা আয়োজন চলছে।
ইভটিজিং এর কারণ ঃ ইভটিজিং একটি অপরাধ, এ অপরাধের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। অপরাধ সংগঠনের পেছনে স্থান-কাল, অবস্থান, ব্যক্তির মূল্যবোধ ইত্যাদি জড়িত। ইভটিজিং সংগঠনের কারণগুলোর অন্যতম কয়েকটি হলো- ১. স্বভাবজাত ঝোঁক, ২. ইসলামী শিক্ষার অভাব, ৩. ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি উদাসীনতা, ৪. অশালীন পোশাক , ৫. মুক্ত আকাশ সংস্কৃতি, ৬. পারিবারিক শিক্ষার অভাব, ৭. রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ৮. অপসংস্কৃতির প্রভাব, ৯. আইন ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা, ১০. নেশা ও মাদকতা, ১১. বেকারত্ব, ১২ . সামাজিক দায়বদ্ধতা না থাকা, “মুহাম্মদ আমিনুল হক, ইভটিজিং ১৩. তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার, ১৪. পারিবারিক শৃংখলার অভাব, ১৫. হতাশাব্যঞ্জক জীবন, ১৬. সুস্থ বিনোদনের অভাব , ১৭, প্রশাসনিক অবহেলা, ১৮. অর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড, ১৯. একে অপরের প্রতি মর্যাদা ও শ্রদ্ধাবোধের অভাব। “নাজনীন আখতার, ইভটিজিং-১, দৈনিক জনকণ্ঠ, ঢাক, ২৯মে ২০১০, পৃ. ১” ২১. মিডিয়ায় অশ্লীলতা, ২২. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ২৩. মাতা-পিতার অবাধ্যতা, ২৪. নৈতিক অবক্ষয়, ২৫. যথাযথ আইনের অভাব, ২৬. আইনের প্রয়োগ না থাকা, ২৭. নারীর প্রতি সমাজের (পুরুষদের) নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, ২৮. রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক সম্পর্ক, ২৯. পর্ণোগ্রাফির ব্যাপক ছড়াছড়ি এবং ৩০. মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি।
ইভটিজিং সম্পর্কিত বাংলাদেশের আইন
বাংলাদেশে ইভটিজিং সম্পর্কিত অনেক আইন রয়েছে। নিম্নে প্রচলিত কয়েকটি আইনের ধারা উল্লেখ করা হলো,
* নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০, ধারা: ১০।
“যৌন পীড়ন, ইত্যাদি দন্ড। যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তাহা হইলে এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন তিন বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।” “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশেধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ধারা ৫ বলে নতুন ধারা ১০ প্রতিস্থাপিত”
* নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩, ধারা: ১০।
“নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, ইত্যাদিও শাস্তি। কোন নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত (ডরষৎঁষ) কোন কার্য দ্বারা সম্ভ্রমহানি হইবার প্রত্যক্ষ কারণে কোন নারী আত্মহত্যা করিলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপ কার্য দ্বারা আত্মহত্যা করিতে প্ররোচিত করিবার অপরাধে অপরাধী হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।” “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩০নং আইন) এর ধারা ৪ বলে নতুন ধারা ৯ক প্রতিস্থাপিত। উল্লেখ্য ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০(২) ধারায় যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় অন্যান্য বিষয়ের সাথে (অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ শব্দটি ২০০৩ সালের সংশোধনীতে বাদ দেয়া হয়েছে।
* বাংলাদেশে দ-বিধি ১৮৬০ (সংশোধিত) ২০০৪ এর ২৯০, ২৯৪, ৩৫৪, ৫০৯ ধারা।
* ঢাকা মেট্রোপলিটন পুুলিশ অধ্যাদেশ, ০৯৭৬ ধারা: ৭৬।
* গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদেও ২নং ধারা।
“রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন। “এছড়াও সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১০, ১৯-১,২, ২৭ ২৮-১,২,৩, ২৯-১,২-ধারাগুলো দ্বারা নারী পুরুষের সমতা বিধানের কথা ঘোষণার দ্বারা ইভটিজিং এর প্রতি আইনগত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে” এদেশের অধিকাংশ মানুষ ইভটিজিং প্রতিরোধে এসব আইন সম্পর্কে জানেন না। “সারনি-১ দেখুন” সুতরাং তাদরকে এসব আইন সম্পর্কে জানাতে এবং আইনের সুফল ভোগ করতে সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী।
ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলামী অনুশাসন ঃ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবধর্মী যুগোপযোগী জীবন ব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি দিকের সমাধান এ ধর্মে ব্যবস্থা থেকে পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, আমি এ কুরআনকে সকল কিছুর সমাধান স্বরূপ নাযিল করেছি। “আল-কুরআন, ১৬: ৮৯”। এমতাবস্থায় ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী ইভটিজিং প্রতিরোধের কারণসমূহের সাথে ইসলামী আইনের কতটুকু সামঞ্জস্য রয়েছে তা আলোচনা করা যায়-
দৃষ্টিশক্তির হেফাজত ঃ ইভটিজিং এর পেছনে সবচেয়ে ক্ষতিকর যে কারণ তা হল: অবাধ দৃষ্টি প্রয়োগ। ইভটিজিং প্রতিরোধে ইসলাম বর্ণিত দৃষ্টি সম্পর্কিত ফৌজদারী আইনের অনুশীলন জরুরী। মহান আল্লাহ বলেন, (হে রাসূল) ঈমানদার পুরুষদেরকে বলুন, তার যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে। “আল-কুরআন, ২৪: ৩০”
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ স. বলেন, (অসংযত) দৃষ্টি হচ্ছে ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলো থেকে একটি তীর। যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে তা ত্যাগ করবে, আমি তার বদলে তাকে এমন ঈমান দান করবো, যার স্বাদ সে নিজের হৃদয়ে অনুভব করবে। “সুলায়মান বিন আহমদ বিন আয়ুব তাবরানী, আল-মুজামুল ওয়াসীত, কায়রো: দারুল হারামাইন, তাবি, হাদীস নং: ১০৩৬২”। পূর্বেই আমরা উল্লেখ করেছি, দৃষ্টিশক্তির অবাধ নিয়ন্ত্রণহীনতার ফলেই ইভটিজিং ঘটছে। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে ইসলাম প্রদর্শিত পন্থায় দৃৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সতর ঢেকে রাস্তায় চলাচল ঃ সতর না ঢেকে উগ্র, অর্ধ উলঙ্গ চলাচলের প্রভাবে সমাজের যুবকদের সুপ্ত যৌন আকাঙ্খা উস্কে দেয়া হয়। যার প্রভাবে ইভটিজিং এর মতো অনৈতিক কর্মকান্ডের উদ্ভব হয়। সুতরাং ইভটিজিং প্রতিরোধে শালীন পোশাক পরিচ্ছদের অনুশীলন জরুরী। মহান আল্লাহ বলেন, যে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য এমন পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জস্থানকে আবৃত করে রাখবে এবং যা হবে ভূষণ। আর পরহেযগারীর, পোশাক এটি সর্বোত্তম। “আল-কুরআন,৭: ২৬”। সতরের সীমারেখা সম্পর্কে হাদীসের বাণী, আম্র বিন শুআইব রা . সূত্রে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন , নিশ্চয় পুরুষের সতর হলো নাভি ও হাঁটুর মধ্যবর্তী স্থান। “সুলায়মান বিন আহমদ বিন আয়ুব তাবরানী, আল-মুজামুল সাগীর, বৈরূত: কুতুবুল ইসলামিয়্যা, ১৪০৫ হি., হাদীস নং: ৩২২”। আল্লহ তাআলার বাণী, “তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তবে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায়। “আল-কোরআন, ২৪: ৩১” আয়তে ‘যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায়’ দ্বারা অধিকাংশ ইমামের মতে- মুখম-ল, হতের তালু ও বহিরাবরণকে বোঝানো হয়েছে। “ইবনু আব্বাস (রা.) মুজাহিদ ও ‘আতা (রা.) ঊলেন, “এর অর্থ হচ্ছে চেহারা ও হাতের তুলুতে ব্যবহৃত রং ও সুরমা। ইবনু উমর ও আনস (রা.) প্রমুখ থেকেও বর্ণিত রয়েছে। ইবনু আব্বাস (রা.)-এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এর অর্থ হলো- হাতের তালু, চেহারা ও আংটি। আবু বকর আল- জাস্সাস, আহকামুল করআন বৈরুত: দারু ইহয়িয়া আত তুরাসিল আরাবী, ১৪০৫ হি., খ. ৫, পৃ. ১৭২”
সর্বোপরি নারীর সতর সম্পর্কে কতিপয় আলিমের মতভেদ থাকা সত্ত্বেও পরপরুষের সামনে বিনা প্রয়োজনে চেহারা খোলা রাখা নিষিদ্ধ হবার ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সুতরাং প্রতিটি নারীর জন্য উচিত হবে, রাস্তায় চলাচল অথবা মাহরাম ব্যতীত অন্য কারো সামনে যেতে হলে অবশ্যই দেহ আবৃত রাখা। পর্দা সংক্রান্ত সূরা আহযাব ও সূরা নূরের সবগুলো আয়াত অধ্যয়ন করলে এবং সাহাবায়ে কিরামের আমল পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, পরপুরুষের ক্ষেত্রে মহিলাদের মুখমন্ডলও সতরের অন্তর্ভূক্ত হবে। মহিলাদের মুখমন্ডলের গুরুত্ব সম্পর্কে মুহাম্মদ আলী আস সাবুনী বলেন, “মুখমন্ডল হচ্ছে সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিপর্যয়ের উৎস ও বিপদের ঘাঁটি। “মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী,রাওয়ায়িউল বায়ান ফী তাফসীরি আয়াতিল আহকামি মিনাল কুরআন, দামেস্ক: মাকতাবাতুল গাজালী, ১৯৮০ খ্রি., খি. ২, পৃ. ১৫৬”, “ইমাম কুরতুবী বলেন, “মুখমন্ডল হচ্ছে রূপ সৌন্দর্যেও কেন্দস্থল, সৃষ্টিগত সৌন্দর্য এবং নারী জীবনের মাহাত্ম-মাধুর্য এখানেই।” “আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ উবনু আহমদ আল-কুরতুবী, আল-জমিউ লি আহকামিল কুরআন, কায়রো: দারু কুতুবিল মিসরিয়াহ, ১৯৮৪ হি., খ. ১২, পৃ.২২৯” উপযুক্ত আলোচনার সারমর্ম হিসেবে আল্লামা মুহাম্মদ আলী আস সাবুনী রাহ.-এর মতামত প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, “মহিলাদের দিকে থাকানো জায়িয নয় শুধু ফিতনার আশঙ্কায়। আর চেহারা খোলা তাকলে যে ফিতনার সৃষ্টি হয় তা পা, নলা এবং চুল খোলা রাখার চেয়েও মারাত্মক। যেখানে পায়ের নলা এবং চুলের দিকে তাকানো সর্বসম্মতভাবে হারাম, সেখানে চেহারার দিকে তাকানো আরো বেশি হারাম হওয়া উচিত। কারণ তা হচ্ছে সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু ও ফিতনার উৎস। “মুহাম্মদ আলী আস-সাবুনী, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬৫”। সুতরাং বোঝা গেলো যে, ইভটিজিং বন্ধে মহিলাদেরকে সতর হিসেবে তাদের মুখমন্ডলসহ সমস্ত শরীরই ঢেকে রাখতে হবে। সাধারণত কিশোরী, তরুণী ও যুবতীরাই ইভটিজিং এর শিকার হয়ে হয়ে থাকে। কারণ এ সময় তারা নিজেদেরকে আবেদনময়ী সাজসজ্জা করে পরপুরুষের কাছে উপস্থাপন করা। “সারণি-২ দেখুন।”
রাস্তায় আড্ডা না দেয়া ঃ আজকের সমাজে যে সব স্থানে ইভটিজিং হয় তা হল রাস্তা, ঘাট, বাজার, বিপনী বিতান, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, অতচ এসব ব্যাপাওে ইসলামের বিধান যদি মানা হত তাহলে মনে হয় ইভটিজিং নামক শব্দটির উদ্ভব হত না। এ প্রসংঙ্গে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী বলেছেন, তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো। সাহাবীগণ বলেন, আমাদের তো রাস্তার উপরে বসা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। আমরা তো সেখানে বসেই আলাপ করে থাকি। রাসূলূল্লাহ (সা.) বললেন- যদি তোমরা একান্তই রাস্তায় বসতে চাও, তাহলে তোমরা রাস্তার হক আদায় করবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। রাস্তার হক কী? রাসূলূল্লাহ সা. বললেন, “রাস্তার হক হল- চক্ষু অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজে বাধাদান করা। “ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: আল-মাজালিম ওল গাদাব, অনুচ্ছেদ: আফনিয়াতি আদদাউরি ওলজুলুসি ফীহা ওলজুলুুসি আলাস সাউদাত, দামেশক: দারু ত’কুন নাজাত, ১৪২২ হি. ঘাদীস নং- ২৪৬৫; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: আল-লিবাস ওয যীনা,, অনুচ্ছেদ: আন-নাহি আন জুলুসি ফী তুরুকাত ও ইতাইত তারিকি হাক্কাহু, বৈরুত: দারে ইহইয়া আত তুরাস আল-আরাবী, তা.বি., হাদীস নং-২১২১/১১৪”। আলোচ্য হাদীসের নির্দেশনা যদি সমাজে বাস্তবায়িত হতো, তাহলে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এত আড্ডার আসর হত না এবং ইভটিজিংও হত না। সুতরাং ইভটিজিং বন্ধে রাস্তার হকসমূহের যথাযথ অনুশীলন জরুরী। বাংলাদেশে সংঘটিত ইভটিজিং এর অধিকাংশ ঘটে রাস্তা ঘাটে, স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন গার্মেন্টস-এর সামনে অবস্থানকারী বখাটে উগ্র যুবকদের দ্বারা। “সারণি-৩ দেখুন”। (চলবে)