আলমগীর চেয়ারম্যানের ছেলের অভিযোগ : পাথর লুটের মূল হোতাদের আড়াল করতে আলম চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল

12

স্টাফ রিপোর্টার

বালু ও পাথর লুট এবং ধলাই সেতুর আন্দোলন করতে গিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর আলম বালু-পাথরখেকোদের রোষানলের শিকার হয়েছেন এবং মূল হোতাদের পরিচয় রক্ষা করতেই তাকে গ্রেপ্তার করে মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছেÑ এমনটা অভিযোগ করেছেন তার ছেলে রায়হান আলম।
শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সাদাপাথর লুটপাটকারীরা অনেকটা শক্তিশালী। নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আমার বাবা প্রশাসনের কাছে বার বার ধর্ণা দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায়। প্রশাসনও এই প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত। যে কারণে পুরনো মিথ্যা একটি মামলায় আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। আর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার বাবাকে জড়িয়ে বলা হয়েছে- পাথর লুটের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমন সংবাদে সামাজিক ও মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে রায়হান আলম বলেন, আমার পরিবার এবং ইউনিয়নের লোকজন বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এসব সংবাদে প্রকৃত সত্য ঘটনা আড়াল করা হয়েছে। যে মামলায় বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটিও একটি পুরনো সাজানো মামলা।
রায়হান বলেন, আমার বাবা আলমগীর আলম একজন প্রতিবাদী জনপ্রতিনিধি। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সবসময় সোচ্চার। যেখানেই অনিয়ম হয়েছে আমার বাবা সেখানেই ছুটে গেছেন। সবসময় পর্যটন কেন্দ্রসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে তার কঠোর ভ‚মিকা ছিল। এই কারণে আমার বাবাকে সাদা পাথর ও ধলাই সেতু রক্ষা কমিটির আহবায়ক করা হয়।
তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এম সাইফুর রহমান সেতু অবৈধ বালুখেকোদের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও ইলেকট্রনিকস্ মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিজের ৫০/১০০ ফুট কাছে থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আমার বাবা। এটি বন্ধে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চাইলেও কোনো কাজ হয়নি।
রায়হান বলেন, বাবা সেতু রক্ষায় গত ১৯ মার্চ সিলেটের জেলা প্রশাসক ও ২৭ জুলাই সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জোরালো প্রতিবাদের কারনে অনেকেই তার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিভিন্ন সভায় তিনি সাদাপাথর সহ সকল পর্যটন কেন্দ্র রক্ষা করার জন্য সোচ্চার বক্তব্য রেখেছেন।
গত ১৩ আগস্ট আলমগীর আলমকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা গ্রেপ্তারের আগের দিন সাদা পাথর ও ধলাই সেতু রক্ষায় এলাকাবাসী আয়োজিত অনুষ্ঠানে লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্যের পুরোটাই ছিল সাদাপাথর ও ধলাই সেতু রক্ষার আবেদন। গেল বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাদাপাথরসহ সরকারের বিভিন্ন খনিজ সম্পদে চোখ পড়ে লুটেরা চক্রের। আমার বাবা ওই সময় ছিলেন রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় একজন যোগ্য পাহারাদার। তিনি সে সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এলাকায় গিয়ে পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমার বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় সাদাপাথরসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। যা গণমাধ্যমেও লাইভ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার বাবা অনেকের বিরাগভাজন ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে এলাকায় যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লাইভে গিয়ে কথা বলেছেন। বিভিন্ন সময় লাইভে থাকা আমার বাবার বক্তব্যগুলো যদি আপনারা পর্যালোচনা করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী ভ‚মিকা রেখেছেন আমার বাবা। আর এসব কারণে অনেকেই তার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমার বাবাকে ২০২৪ সালে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, হয়রানিমূলক ওই মামলায় গত ১৪ আগস্ট ভোর রাতে আমার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি করেন ইউনিয়ন ভ‚মি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শিপলু কুমার দে। মামলায় পিয়াইন নদীর জুগনির খাল থেকে বুড়িডহর হাজী হাছন আলী স্কুল পর্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় ২০/২৫টি লিস্টার মেশিন মালামালসহ চুরির অভিযোগ করা হয়। বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত মেশিনগুলো কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। অথচ মিথ্যা ওই মামলায় আসামী করা হয় আমার বাবাকে।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চেয়ারম্যান মো. আলমগীর আলমকে নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহŸান জানিয়ে তিনি সরকারের উপদেষ্টাসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা পাথর লুটপাটের মূল হোতা প্রকৃত সেসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন। মূল ব্যক্তিদের আড়াল করে এভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখলে রাষ্ট্রের উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে।