মাহাবুবুর রহমান, শাবি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাশ পার্থ। আটকদের মধ্যে আদনান নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো মোখলেসুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা বলেন, ঈদের আগে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীকে সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অচেতন করে ‘যৌন নির্যাতন’ ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, তাদের একজনকে ক্যাম্পাস থেকে এবং আরেকজনকে সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘যৌন নির্যাতনের’ অভিযোগ ওঠার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আপাতত তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে আসে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনার পর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রক্টর বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের বিশেষ আইনি সহায়তায় তাদেরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন ও বিশ^বিদ্যালয়ের নীতিমালার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) অভিযোগ পাই। অভিযোগ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে প্রক্টর অফিসে হাজির করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী কতৃক ধর্ষণের ঘটনায় দুই ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ধর্ষক শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাস পার্থ এর ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিও জানান আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (২০ জুন) বিকাল তিনটায় গোলচত্বর থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ধর্ষনবিরোধী বিভিন্ন সেøাগান দেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসাইন বলেন, ধর্ষকের মানুষ বলে পরিচয় দেয়ার কোনো অধিকার নেই। এরা পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি অবিলম্বে ধর্ষকদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হোক।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রাফিয়া তাসকিন নুর দোলা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায়ও মেয়েরা নিরাপদ না। নিজের সহপাঠী কতৃক এই ধরনের ধর্ষনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।
এসময় আরও বক্তব্য প্রদান করেন জেমিমা জামান সেলিয়া, তাসফিয়া ফরহাদ ঐশি, মীম, মিনহাজ হোসেন, নুরুদদীন রাজু।





