সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রেসক্লাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সাংবাদিক মহলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারক দিরাই প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে নানা অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অবশেষে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
প্রেসক্লাবের একটি অংশ দাবি করছেÑতারা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক প্রেসক্লাব গঠনের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
প্রেসক্লাবের সভাপতি পদপ্রার্থী সামছুল ইসলাম সরদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইমরান হোসাইন নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ তিনজন প্রার্থীÑজিয়াউর রহমান লিটন, আবু হানিফ ও প্রশান্ত সাগর দাসÑএর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কমিশন সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।
এ বিষয়ে সামছুল ইসলাম সরদার বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিকভাবে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত প্রেসক্লাব চেয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব আমাদের সেই উদ্যোগকে ব্যাহত করেছে।”
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইমরান হোসাইন জানান, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের নিয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছে, যা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।” এর পর একটি মহল বিএনপির কিছু নেতাদের নামে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে প্রেসক্লাবকে রাজনৈতিক রূপদিতে অপচেষ্টা করে আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
৫ জুন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাকারিয়া হোসেন জুসেফ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর বিভিন্ন অনিয়ম ও অস্পষ্ট প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। অভিযোগ ওঠেÑমনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করেও প্রার্থিতা দেওয়া হয়েছে কিছু প্রার্থীকে, যার লিখিত ব্যাখা চাইলে কমিশন ব্যর্থ হয় তা দিতে।
পরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন সামছুল-ইমরান প্যানেল ও তাদের সমর্থকরা। এনিয়ে আবার বিপাকে পরে নির্বাচন কমিশন। অর্ধেকের বেশী ভোটার নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালে বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
ফ্যাসিস্টদের নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ূম বিষয়টি নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। নির্বাটনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সংঘাত এড়াতে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন স্থগিত করার আহŸান জানান। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন স্থগিত করেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে দিরাইয়ে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এবং সচেতন মহল আশা করছেন, সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে দিরাই প্রেসক্লাব শিগগিরই গণতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব পাবে।





