কাশ্মীরে আটক ১৫০০

9

কাজির বাজার ডেস্ক

কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের অভিযোগের তীর পাকিস্তানের দিকে। প্রথম দিকে এই অভিযোগ প্রচ্ছন্ন হলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে দোষারোপ করছে। সেই হাওয়ায় ভেসে নরেন্দ্র মোদির সরকার পাকিস্তানের স্বার্থবিরোধী একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। ফলে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তান ‘ইটের বদলে পাটকেল’ নীতিতে প্রবেশ করল।
এখন বিশ্বের নজর ভারতের দিকে। ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তার বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। কারণ, মোদি বারবার বলছেন, অভিযুক্ত এবং পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রæত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি ভারতে তার দলের নেতাদের সাথে দেখা করছেন। জরুরি সেসব বৈঠকে কী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হচ্ছে তা সাংবাদিকদের জানানো হচ্ছে না। সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নজির শঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে। ভারত ২০১৬ সালে সীমিত পর্যায়ে পাকিস্তানে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায়। ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় হামলায় আধা সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪০ সদস্য নিহত হওয়ার পর ভারত বালাকোটে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালায়। তখন দেশটি দাবি করেছে, তারা কথিত সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে। ওই সময় পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করে। দু-দেশের শক্তি প্রদর্শন থামে ভারতীয় এক বিমানচালককে আটকের মধ্য দিয়ে। পরে সেই উত্তেজনা যুদ্ধে গড়ায়নি।
এ ঘটনার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান। কিন্তু এবার ভারত সেই যুদ্ধবিরতি ভাঙলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পরে।
কারণ, ইসলামাবাদ এবার ছাড় নাও দিতে পারে। ভারতের যে কোনো ধরনের সামরিক হামলার পাল্টা ব্যবস্থা ভয়ংকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ‘মিসক্যালকুলেশন’ বা ভুল হিসাবের আশঙ্কা। উভয় দেশের কাছে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র থাকায় সংঘাত সীমিত না থেকে বিস্তৃত আকারও নিতে পারে।
ভারতের সামরিক ইতিহাসবিদ শ্রীনাথ রাঘবন বিবিসিকে বলেন, ভুল হিসাবের ঝুঁকি সবসময় থাকে। একপক্ষ একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখালে, অপরপক্ষও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য হয়Ñএভাবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ভারত কিছুটা সীমিত আকারে পাল্টা আঘাত হানতে পারে, কিন্তু পাকিস্তান তা কীভাবে গ্রহণ করবে সেটাই মূল প্রশ্ন। কারণ প্রতিটি প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি আছে।
ফলে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্ব কি আরও একটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে? চির বৈরী দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের ধকল সইতে কি পারবে বিশ্ব?
কাশ্মীরে হামলা নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যাচার ফাঁস : ভারতের কাশ্মীরের পেহেলগামে মঙ্গলবারের ভয়াবহ হামলায় নিহত নৌ কর্মকর্তার একটি ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পুরোনো এক দম্পতির ছবি ভারতীয় গণমাধ্যমে ওই নৌ কর্মকর্তার ছবি বলে প্রচার করা হয়েছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় নৌবাহিনীর এক অফিসারসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সদ্যবিবাহিত ওই তরুণ অফিসার কাশ্মীরে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। ভারতীয় নৌবাহিনীর অফিসার লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়াল হরিয়ানার কারনালের বাসিন্দা। তিনি পেহেলগামের সন্ত্রাসী হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। নারওয়াল সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন এবং কাশ্মীরে ছুটি উপভোগ করছিলেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পেহেলগামে মঙ্গলবারের হামলার পর যে ছবিটি নিহত নৌ কর্মকর্তার বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি আসলে ওই দম্পতির নয়। মূল ছবি যে দম্পতির তারা এক ভিডিওতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা বেঁচে আছি। আমি জানি না কেন আমাদের ছবিগুলো ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।’
ভারতীয় ওই দম্পতি তাদের বিবৃতিতে বলেন, আমাদের ছবিকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বলে দেখানো হচ্ছে, যা বোধগম্য নয়।
ভারতের বিরুদ্ধে যেসব সিদ্ধান্ত জানাল পাকিস্তান : ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে ভারতের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি বৃহস্পতিবার ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা স্থগিত, ভারতের বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ও ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কার্যালয় থেকে ‘কঠোর ভাষায়’ পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পানি বন্ধ বা অন্য দিকে প্রবাহিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধের উসকানি’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ‘জাতীয় ক্ষমতার পূর্ণ শক্তি দিয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াগাহ সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ‘বিনা ভিসা প্রকল্পের’ আওতায় দেওয়া সব ভিসা স্থগিত করেছে পাকিস্তান। এ ছাড়া ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে ক‚টনীতিকদের সংখ্যা ৩০ জনে কমিয়ে আনতে এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ৩০ এপ্রিলের আগে পাকিস্তান ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। ভারতীয় মালিকানাধীন বা ভারতীয়দের পরিচালিত বিমান সংস্থাগুলোর জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যও স্থগিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘বিশ্বস্ত তদন্ত ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের অনুপস্থিতিতে’ পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে ভারতের প্রচেষ্টা ‘অপ্রাসঙ্গিক, যুক্তিহীন ও সর্বাংশে অযৌক্তিক’।
পাকিস্তান ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ‘নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখÐতা রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম ও প্রস্তুত’ বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পেহেলগামে হামলার ফলে উ™‚¢ত পরিস্থিতি বিবেচনা করার জন্য বৃহস্পতিবারের এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এই বৈঠকে ইসলামাবাদের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ইসাক দার, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার, তারিক ফাতেমি ও অ্যাটর্নি জেনারেল মনসুর উসমান আওয়ান। রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিতের পর পাকিস্তানের নেতারা এখন ‘ভারতের তাড়াহুড়া করে নেওয়া, আবেগপ্রবণ ও অবাস্তব পানি ব্যবস্থাপনার’ প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করবে।
পাকিস্তানিদের জন্য ভিসাসেবা স্থগিত ভারতের : অন্যদিকে পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভারতের ইস্যু করা সব বৈধ ভিসা ২৭ এপ্রিল থেকে বাতিল করা হচ্ছে।’এতে আরো বলা হয়েছে, ‘ভারতে অবস্থানকারী সব পাকিস্তানি নাগরিককে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারত ত্যাগ করতে হবে।’
পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ইস্যু করা শুধু মেডিক্যাল ভিসা ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এ ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণে বিরত থাকা এবং সে দেশে অবস্থানকারী ভারতীয়দের দ্রæত দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে।
বুধবার রাতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করে, যার মধ্যে রয়েছে সার্কের ভিসা প্রকল্প বাতিল করা।
কড়া হুঁশিয়ারি মোদির : ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে ভারত। দেশটি এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে। এবার এই হামলা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) মোদি বলেছেন, ভারত প্রত্যেক সন্ত্রাসী এবং তাদের সমর্থকদের চিহ্নিত করবে, তাদের খুঁজে বের করবে এবং শাস্তি দেবে।
তিনি বলেছেন, আমাদের মনোবল কখনও ভেঙে যাবে না। বিহারের মধুবানিতে সরকারি এক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষণ শুরু করেন মোদি।
তিনি বলেছেন, পেহেলগামে সন্ত্রাসীরা যে নির্মমভাবে নিরীহ পর্যটকদের হত্যা করেছে, তাতে সমগ্র দেশ বেদনার্ত। পুরো দেশ শোকাহত পরিবারের পাশে আছে। সরকার আহতদের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এবং যারা এর পরিকল্পনা করেছে তারা এমন শাস্তি পাবে যে কল্পনাও করতে পারবে না। সন্ত্রাসের আশ্রয়স্থলে যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা ধ্বংস করার সময় এসেছে, বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গত বুধবার ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি- ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিওরিটি বা সিসিএস বৈঠকে বসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, বৈঠকে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সীমান্ত পারের যোগসাজস তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে সাফল্যের সঙ্গে নির্বাচন হওয়ার পরেই এই আক্রমণ হলো। এমন একটা সময়ে হামলা হলো যখন সেখানে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।
বুধবার রাতে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে মিশ্রি ঘোষণা করেন, সন্ত্রাসী হামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে নিচের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে:
১. ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি অবিলম্বে স্থগিত করা হচ্ছে যতক্ষণ না পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং পাকাপাকিভাবে সীমান্ত পারের সন্ত্রাসের প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে।
২. (পাঞ্জাবে অবস্থিত) সমন্বিত আটারি চেকপোস্ট অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওই পথ দিয়ে যারা বৈধভাবে পারাপার করেছেন তারা পয়লা মে-র আগেই ফিরতে পারবেন।
৩. সার্ক দেশগুলোর জন্য ‘বিনা ভিসা প্রকল্প’-এর অধীন বিশেষ ভিসা নিয়ে পাকিস্তানের নাগরিকরা ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। যে পাকিস্তানি নাগরিকদের আগেই ওই ভিসা দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করা হলো। ওই বিশেষ ভিসা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতে রয়েছেন যে পাকিস্তানের নাগরিকরা, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে।
৪. দিল্লিতে পাকিস্তানি দূতাবাসে সেদেশের প্রতিরক্ষা, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর যে ‘পরামর্শদাতারা’ রয়েছেন, তাদের ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’, (অর্থাৎ অবাঞ্ছিত) বলে ঘোষণা করছে ভারত। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে।
ভারতও ইসলামাবাদে তাদের দূতাবাস থেকে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর পরামর্শদাতাদের ফিরিয়ে আনবে। দুই দেশের দূতাবাসগুলোতে এই পদগুলো বিলুপ্ত করা হলো। দুই দেশের দূতাবাসেরই সামরিক পরামর্শদাতাদের পাঁচজন করে কর্মীকেও নিজের দেশে চলে যেতে হবে।
৫. দুই দেশের রাজধানীতে অবস্থিত কর্মী সংখ্যা বর্তমানের ৫৫ থেকে কমিয়ে পয়লা মের মধ্যে ৩০ এ নিয়ে আসতে হবে।
‘সব ভারতের নাটক, নিজেরাই হামলা করিয়েছে তারা’ : সাইফুল্লা খালিদ ওরফে সইফুল্লা কাসুরি, ভারতের দাবি মতে তিনিই কাশ্মীর হামলার মূলহোতা। ভারতের গোয়েন্দারা বলছেন, মঙ্গলবার পাহেলগাঁওয়ের হামলার মূল হোতা সাইফুল্লা। তাঁর নির্দেশেই পাঁচ-ছয় জন মঙ্গলবার দুপুরে পাহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় নির্বিচারে গুলি চালায়। অন্তত এমনটাই মনে করছিলো ভারতীয় বাহিনী। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এবার হামলার দায় এড়ালেন খোদ সাইফুল্লা। তিনি বলেছেন, সব ভারতের সাজানো নাটক!
আজ মঙ্গলবার দুপুরের ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও অনেকে। হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)।
২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতির আবহে জন্ম হয়েছিল এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর। সে সময় পাক লশকর-ই-তাইয়েবার ‘ছায়া সংগঠন’ হিসাবে উঠে আসে টিআরএফ। আর সাইফুল্লা লশকরের অন্যতম প্রধান। তাই টিআরএফ হামলা চালালেও পুরো পরিকল্পনাই করেছিলেন সইফুল্লা, এমনই মনে করা হচ্ছিল গোয়েন্দা সূত্র। কিন্তু সে সব জল্পনা উড়িয়ে দিলেন সইফুল্লা নিজেই। জানালেন, পাহেলগাঁওয়ে হামলায় কোনও ভ‚মিকাই ছিল না তাঁর।
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। তাতে সাইফুল্লাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ভারত নাটক করছে। ওরা নিজেরাই এই হামলা করিয়েছে। পাহেলগাঁওয়ে হামলার সঙ্গে পাকিস্তান বা তার কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগ নেই। পাশাপাশি, ভারতের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক সুর শোনা গিয়েছে সইফুল্লার গলায়।
কাশ্মীরে আটক ১৫০০ : পাহালগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িতদের খোঁজ দিতে পারলে বা জঙ্গি নিধন অভিযানে সাহায্য করার মতো কোনও তথ্য দিতে পারলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
কাশ্মীরের পাহালগামে পর্যটকদের ওপর নির্বিচারে হত্যালীলা চালানো জঙ্গিদের মধ্যে চারজনের ছবি ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। এবার জঙ্গিদের খোঁজে পুরস্কারও ঘোষণা করা হল।
ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদসংস্থার দেওয়া খবর অনুসারে, জম্মু এবং কাশ্মীরের অনন্তনাগ পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পাহালগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িতদের খোঁজ দিতে পারলে বা জঙ্গি নিধন অভিযানে সাহায্য করার মতো কোনও তথ্য দিতে পারলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত জানা গেছে, অন্তত ৬ জন সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। তাদের সবার হাতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, একে-৫৭ এবং এম৪ কারবাইন ছিল। ভারতীয় কতৃপক্ষের অভিযোগ, পর্যটকদের আইডি কার্ড চেক করে, হিন্দু পর্যটকদের আলাদা করে চিহ্নিত করে, রীতিমতো বেছে বেছে গুলি চালায় তারা।
ভারতীয় কতৃপক্ষের সন্দেহ, এই জঙ্গিরা পীরপঞ্জাল পাহাড়ি পথ দিয়ে পাহালগামের বৈসরন উপত্যকায় পৌঁছায় অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিছু জঙ্গি খাকি ইউনিফর্ম পরে, যুদ্ধের সাজে ছিল, আবার কেউ কেউ সাধারণ পাঞ্জাবি-পাজামায় ছিল।
নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি, এই ছ’জনের মধ্যে দু’জন কাশ্মীরি, যারা ২০১৭ সালে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিল এবং সম্প্রতি অন্যান্য বিদেশি জঙ্গিদের সঙ্গে অনুপ্রবেশ করে ভারতে প্রবেশ করে। এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে লস্কর-ই-তইবারও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীর উপত্যকায় প্রায় ৬০ জন সক্রিয় জঙ্গি রয়েছে, যার মধ্যে শুধু লস্করের সদস্যই ৩৫ জন এবং জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য ২১ জন।