মুরাদ হাসান, জৈন্তাপুর
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সদর বাজার যেন এখন চোরাচালানের পশুর বৈধ হাটে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ গরু-মহিষ-ছাগল প্রবেশ করছে এই বাজারে। এখান থেকে সরকারি চালান সংগ্রহ করে এসব পশু ছড়িয়ে পড়ছে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি হরিপুর বাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালানোর পর থেকেই চোরাচালানকারীদের নতুন আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে জৈন্তাপুর বাজার। আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী থাঁসিহাওর, আলুবাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, বাননঘাট, ডিবিরহাওর, ফুলবাড়ী, বাঘছড়া, সিঙ্গারীরপাড়সহ অন্তত ৪০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী।
চোরাচালানের তালিকায় রয়েছে চিনি, প্রসাধনী, সুপারী, ভারতীয় শাড়ি-লেহেঙ্গা, মাদকদ্রব্য (মদ, ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল), মোবাইল হ্যান্ডসেট, মোটরসাইকেল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, আমদানিনিষিদ্ধ নাছির বিড়ি, চা-পাতা ও ভারতীয় ঔষধ। এসব মালামাল সীমান্ত দিয়ে এনে বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ২০-২৫ জন এ চক্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতায় এবং চাঁদার বিনিময়ে এসব পশু বৈধ কাগজপত্রে রূপান্তরিত হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাচ্ছে। অথচ জৈন্তাপুর উপজেলায় কোনো পশুখামার নেই। তাহলে প্রতিদিন শত শত গরু-মহিষ আসছে কোথা থেকে? এই প্রশ্ন এখন জনমনে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার মো. বদরুজ্জামান বলেন, “সীমান্ত ঘেঁষা বাজার হওয়ায় আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধের দায়িত্ব মূলত অন্যান্য বাহিনীর।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভ‚মিকা কামনা করছে সচেতন এলাকাবাসী। জনস্বার্থে দ্রæত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সর্বস্তর থেকে।






