ছেলের হাতে পিতা হত্যা মামলা : সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতে প্রথম ভার্চুয়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ

26

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছেলের হাতে পিতা কৃষক সোনা মিয়া হত্যা মামলায় সিলেটের আদালতে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৫ এর আদালতে ভার্চুয়ালে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শায়লা শারমিন ভার্চুয়ালে এ মামলার সাক্ষী ডা: নাজলী রহমানের সাক্ষ্য ‘গ্রহণ’ করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুছ ছাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ১৪ (১৮-০২-২০১৫/, দায়রা-৬৪০/১৫) নং হত্যা মামলার একমাত্র আসামী গোয়াইনঘাট থানার শাহপুর গ্রামের নিহত কৃষক সোনা মিয়ার ছেলে শামীম আহমদ (২৮)। বৃহস্পতিবার আসামীর উপস্থিতিতে এ হত্যা মামলার সাক্ষী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ও লাশের ময়না তদন্তকারী ডা: নাজলী রহমান ভার্চুয়াল (অডিও-ভিডিও) এর মাধ্যমে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৫ এর আদালতে প্রথম বারের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ প্রদান করেন। বর্তমানে এ মামলার সাক্ষী ডা: নাজলী রহমান ঢাকা গ্রীণ লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, আসামীর পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণে জেরা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মুকিত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারী সকাল ৮ টার দিকে বাড়ীর পূর্ব দিকে শাহপুর হাওয়রে বোরো ক্ষেতে পানি সেচ দিতে যান কৃষক সোনা মিয়া। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শামীম আহমদকে বিদেশে না পাঠানো ও পারিবারিক কলহের কারনে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন পিতা-পুত্র। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এই শামীম আহমদ তার পিতা সোনা মিয়াকে পাশ্ববর্তী খালের পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শামীমের বড় ভাই মোঃ সরুজ মিয়া বাদি হয়ে একমাত্র শামীম আহমদকে আসামী করে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১৪ (১৮-০২-২০১৫)। এ মামলার প্রেক্ষিতে পরদিন ১৯ ফেব্রæয়ারী পুলিশ শামীম আহমদকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। মামলার তদন্ত শেষে গোয়াইঘাট থানার এসআই মোঃ আব্দুল হাদি একই বছরের ১৭ মে একমাত্র শামীম আহমদকে আসামী করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং-১১১) দাখিল করেন এবং ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ মামলার বিচারকার্য্য শুরু হয়। এ মামলার মোট সাক্ষী ২৮ জন।