বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে বড়দিন উদযাপন

10

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। বড়দিন উপলক্ষে গতকাল সকালে নগরীর নয়াসড়কস্থ প্রেসবিটারিয়ান চার্চে সুধীজনদের মিলনমেলা বসে। সেখানে কেক কাটা হয়।
কেক কাটা অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটে দায়িত্বরত ভারতের সহকারী হাইকমিশন নিরাজকুমার জসওয়াল, চার্চের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ঢিকন নিঝুম সাতমা, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, সিলেট সিটি করপোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর শাহানারা বেগম শাহানা, রেভা. ফিলিপ বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, গতকাল সকালে চার্চে বিশেষ উপাসনার আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করা হয়। প্রেসবিটারিয়ান চার্চে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজনের ভিড়ও দেখা গেছে। র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চার্চে উপহার প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন রঙের জরি লাগিয়ে রঙিন করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্যাথলিক চার্চ (শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী) প্রাঙ্গণ। আশপাশে জ্বালানো হয়েছে রঙিন বাতি। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দিতে শহর ও শহরতলীর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তাদের সবার অংশগ্রহণে প্রার্থনা আর উৎসবের মধ্য দিয়ে শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক মিশনে উদযাপিত হলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শুভ বড়দিন।
রবিবার বড়দিন পালিত হলেও এর আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগের দিন শনিবার থেকেই। শনিবার রাত থেকেই শুরু হয় প্রার্থনা। রবিবার দুপুর পর্যন্ত আনন্দ উৎসব আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এর আনুষ্ঠানিকতা। এর সঙ্গে ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। কোনও কোনও বাড়িতে ও উপাসনালয়ে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসরও বসেছে।
শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ফাদার নিকোলাস বাড়ৈ সিএসসি বলেন, ‘এবারের প্রার্থনার মূল ভাবনা ছিল দেশ ও জাতির শান্তি এবং মঙ্গলকামনা বিশেষ প্রার্থনা। তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন পাপের অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিলো, তখন তাদের সেই মুক্তির আলো ছড়াবার জন্য মুক্তিদান করার জন্য যীশু এই জগতে এসেছিলেন।’
শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ফাদার নিকোলাস বাড়ৈ সিএসসি সভাপতিত্বে শ্রীমঙ্গলে বড়দিনের আয়োজনে নেতৃত্ব দেন সিলেট ধর্ম প্রদেশের ধর্মপাল শরৎ ফান্সিস গোমেজ। ঢাকা থেকে আগত ফাদার এবং সিস্টারগণ এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি ডমনিক সরকার রনি।
এছাড়া বড়দিনের অনুষ্ঠানে ধর্মপল্লির আওতায় মৌলভীবাজার জেলার ৭৪টি গ্রাম, চা বাগান ও খাসিয়া পুঞ্জির প্রায় সহ¯্রাদিক খিস্টান ধর্মাবলম্বী সব বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
বড়দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে ক্যাথলিক মিশনে জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং যীশুর জন্মদিনের কেক কাটেন।
ড. মো.আব্দুস শহীদ বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সকল ধর্মের মানুষ একে অপরকে ভাল বাসবে এই হচ্ছে ধর্মের বড় শিক্ষা। আসুন এই দেশকে সকলে মিলে সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলার জন্য আজকের এই শুভ বড়দিনে পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’
ক্যাথলিক মিশনে জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও বড়দিনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।