কাজিরবাজার ডেস্ক :
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মনিটরিংয়ের জন্য সরকার ইরান থেকে ড্রোন কিনে তা বিএনপির সমাবেশে ওড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে খবরে দেখলাম সরকার ইরান থেকে ২১টি ড্রোন আমদানি করেছে। তারা বলেছে, ভাসানচর মনিটরিংয়ের জন্য ড্রোন কেনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন, ড্রোন চালানোও দেখেছেন। কিন্তু সেই ড্রোন এখন বিএনপির সমাবেশের ওপর ওড়ানো হচ্ছে। যারা গণতন্ত্র চান, তাদের মনিটর করা হচ্ছে।’
ফখরুল বলেন, ‘ড্রোনের নাম শুনলে আমরা খুব ভয় পাই। কেন ভয় পাই, আমরা দেখি ড্রোন দিয়ে কীভাবে অন্য দেশে গিয়ে বিভিন্ন নেতাকে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা দেখি, গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করছেন, তাদের ড্রোন দিয়ে কৌশলে হত্যা করা হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (১১ আগষ্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে ফখরুল এসব কথা বলেন।
জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নজিরবিহীন লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
দলীয় কর্মসূচিতে ড্রোন উড়িয়ে মনিটর করার তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন ড্রোনের দিকে আমাদের কর্মীরা তাকাচ্ছিলেন, তখন ড্রোন ওড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের আমি বলেছি, এটা তো বেআইনি। তারা আমাকে জানালেন, পাঁচ পাউন্ডের নিচে ড্রোন চালাতে অনুমতি লাগে না।’
আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমি একমত যারা আওয়ামী লীগকে ফোর টোয়েন্টি পার্টি বলেন। আমি শুধু তাদের সঙ্গে এতটুকু যোগ করতে চাই, আওয়ামী লীগ প্রতারকের দল, এ সরকারও প্রতারকদের সরকার।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন ১০ টাকা কেজি চাল দেবো, বিনামূল্যে সার দেবো, ঘরে ঘরে চাকরি দেবো, এখন জনগণ দেখছে সব মিথ্যা। উল্টো আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন না। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে, সংবিধানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বাতিল করেছে। পুলিশকে আওয়ামী লীগের দলীয় বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
ফখরুল বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ানোয় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গরিব মানুষ। তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন না করে কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজের লোক দিয়ে টাকা লুটপাট করেছে।’
অবৈধ সরকারকে হঠাতে ছাত্র, তরুণ, যুবকদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ দেশকে আবার স্বাধীন করতে হবে। এ লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। রাজপথ দখল করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করাতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সমাবেশ থেকে আগামী ২২ আগস্ট থেকে দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সমাবেশের ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশটাকে আওয়ামী লীগ দেউলিয়া করে দিয়েছে। দেশের টাকা পাচার করেছে, আরও করছে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আফরোজা রিতা, আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালের প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক।






