সুষ্ঠু সমাধান

4

উপাচার্যের দুঃখ প্রকাশে শান্ত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। ফিরে এসেছে স্বস্তি। প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ২৮ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোয় ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আশ^াসে কেটেছে অচলায়তন। ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং ব্যারিকেড সরে গেছে। বন্ধ হয়েছে বিক্ষোভ স্লোগান। ২৭ দিন নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ থেকে উপাচার্য বের হয়েছেন। দেশব্যাপী তোলাপাড় করা এই ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে সবার মনে। একটি ছাত্রী হলের কিছু দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল এই আান্দোলন। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা এবং উপচার্যের কিছু বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি পরিণত হয় এক দফায়। এ নিয়ে অনশন করেছে তারা। ১৬৩ ঘণ্টা পর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জাফর ইকবালের মধ্যস্থতায় অনশন ভাঙ্গেন শিক্ষার্থীরা। এরপরও আন্দোলন থামেনি। উপচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেছে তারা।
গত শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি যান ক্যাম্পাসে। তিনি কয়েক দফা কথা বলেন উপাচার্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত উপচার্যের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে দু’পক্ষের সমঝোতা হয়। বিশ^বিদ্যালয়ে ফিরে আসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। দুঃখ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যারা মর্মাহত হয়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।’ একই সঙ্গে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার জন্য মন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ইতিহাস নতুন নয়। ছোটখাটো দাবি আলোচনায় মীমাংসা না হলে শিক্ষার্থীরা শুরু করে আন্দোলন। প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অভিভাবকের কাছে যায়। প্রতিষ্ঠান প্রধানের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে তাকে অবরোধ করার ঘটনাও ঘটে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্দোলন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। শাবির সাম্প্রতিক ঘটনাও ছিল তাই। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকরা হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। পিতা-মাতা সন্তানদের যে চোখে দেখেন, শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের সেই চোখে দেখা উচিত। বাবা-মায়ের কাছেও সন্তানদের দাবি থাকে। সবসময় সব দাবি বাবা-মা পূরণ করতে পারেন, তা নয়। তাই বলে কখনও বাবা-মাকে অবরোধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় না। শিক্ষাঙ্গনে তা কেন হচ্ছে বার বার? তাহলে কি শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কেও কোথাও ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনীতি। প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি যদি শুরু থেকেই রাজনীতির দিকে চলে যায়, তবে খারাপ হয় পরিস্থিতি। আমাদের প্রত্যাশা, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক এবং ছাত্রের পবিত্র সম্পর্ক বজায় থাকুক। ছোটখাটো ঘটনার শুরুতে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ রক্ষা করা হোক। দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে বজায়ে থাকুক লেখাপড়ার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ।