জগন্নাথপুরে ইউপি সদস্য সহ কৃষকদের মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন

4

জগন্নাথপুর থেকে সংবাদদাতা :
জগন্নাথপুরে বোরো জমির পানি রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী ইজারাদার পক্ষের মামলায় এক ইউপি সদস্য সহ প্রতিবাদী কৃষকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভা করেছেন স্থানীয় ৩ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ সাধারণ কৃষক, শ্রমিক-জনতা। জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্থানীয় নলুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রণধীর কান্তি দাস রান্টু সহ ১০ জন কৃষককে মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে স্থানীয় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদী জনতার উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬ জানুয়ারি বুধবার স্থানীয় দাস নোয়াগাঁও গ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কান্তি দাস। এতে বক্তব্য রাখেন, নলুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রনজিত কান্তি দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা নরেন্দ্র কুমার দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিন্দ্র কুমার দাস, প্রবীণ মুরব্বি গৌরাঙ্গ কুমার দাস, গণেশ চন্দ্র দাস, আরশ আলী, তাজিম আলী, স্থানীয় প্রতিবাদীদের মধ্যে গুনেন্দ্র কুমার দাস, টুনু মিয়া, আবরু মিয়া, বারুত মিয়া, সিরাজুল মিয়া ও ভূরাখালি গ্রামের আবদুল মনির, মাজহারুল হক লিটন, শাহাদত মিয়া, দিলদার হোসেন, আনোয়ার হোসেন এবং হরিণাকান্দি গ্রামের জিতুনুর মিয়া, রাশিদ উল্লাহ, আবদুল কাহার, করিম উল্লাহ, নাজির মিয়া প্রমূখ। এতে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ কৃষক, শ্রমিক-জনতা অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোরো জমি আবাদের পানি রক্ষায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের সবার প্রিয় ও শান্তিপ্রিয় মানুষ ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস সহ ১০ জন কৃষককে মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। যা কোন অবস্থায় মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, বেশ কিছু দিন আগে ইজারাদাররা নলুয়ার হাওরের কুড়েরপার নামক স্থানে খাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য হাওরের পানি শুকিয়ে নেয়। এ সময় বোরো জমি আবাদের স্বার্থে এ খালে ছোট বাঁধ দিয়ে পানি রক্ষা করতে যান স্থানীয় কৃষকরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এ ঘটনায় প্রভাবশালী ইজারাদার পক্ষের মানিক লাল বিশ্বাস বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু সহ ১০ জন কৃষককে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামী হন সবার প্রিয় ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু। এ নিয়ে স্থানীয় জনতার মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলা থেকে ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু সহ সকলকে অব্যাহতি দিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রতিবাদী জনতা।