পানির বর্ধিত বিল প্রত্যাহার করতে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের আহবান

1

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন পানির বিল দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে, এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নগরবাসী পানির বিল কমানোর বার বার দাবি জানালেও মেয়র মহোদয় কেনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না বরং এ নিয়ে তিনি গড়িমসি করেছেন। অনতিবিলম্বে পানির বর্ধিত বিল প্রত্যাহার করতে মেয়র মহোদয়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পানির বিল বর্ধিতকরণের বিষয়টি সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সকল মহলের মধ্যে তা নাড়া দিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে কারো সাথে পরামর্শ না করা সহ গণশুনানি উপেক্ষা করে হঠাৎ পানির বিল বর্ধিতকরণের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অমানবিক। করোনা মহামারীর মধ্যে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে নাজুক সেখানে তাদের কথা বিবেচনা না করে পানির বিল বর্ধিতকরণের বিষয়টি জনবিরোধীও বটে। ইতিমধ্যে মহানগরীর সচেতন নাগরিক তথা ভুক্তভোগী জনগণ মেয়র মহোদয়ের এরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শুরু করেছেন। বিভিন্ন সংগঠন ও এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। পানির বিল কমানোর জন্য সিসিক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু মেয়র মহোদয়ের পক্ষ থেকে এখনো আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ আমরা দেখতে পাইনি যা সত্যিই দুংখজনক। যদি নগরবাসীর কথা চিন্তা না করে পানির বিল সহনীয় পর্যায়ে না নিয়ে আসা হয় তাহলে মহানগর আওয়ামী লীগ প্রিয় নগরবাসীকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ ।নেতৃবৃন্দ বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পানির বিল বর্ধিতকরণের বিষয়টি প্রত্যাহার করে নগরবাসীর সহনীয় মাত্রায় নতুন বিল আরোপ করার জন্য মেয়র মহোদয়ের প্রতি আহবান জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ইদানীং নগরীতে মশার উৎপাত তীব্র আকারে ধারণ করেছে। সিসিক’র পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মশা নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মশা নিধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নগরবাসীর বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন অনেক সময়ই উদাসীন থাকে। সেই সব বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আহবান জানান।
উল্লেখ্য গত ১ জুলাই থেকে পানির বিল বর্ধিতকরণের বিষয়টি কার্যকর হয়েছে। আবাসিক সংযোগে প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বিল ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বিল ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা এবং এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তাছাড়া বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সংযোগে আধা ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বিল ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা, পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বিল ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করা হয়। এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২০০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা ও সরকারি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি