সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

2

তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশে আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা এখনও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা বাড়লেও ব্যাংকগুলো চলছে সমূহ ঝুঁকি নিয়ে। এটিএম বুথগুলোও হতে পারেনি ঝুঁকিমুক্ত। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা আরও বেশি দুর্বল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলো সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল পুরোপুরি স্থাপন করতে পারেনি। এটিএম বুথে এ্যান্টিস্কিমিং ডিভাইস স্থাপন করতে পারেনি অর্ধেক ব্যাংক। স্বাভাবিকভাবে ঝুঁকিতেই রয়ে গেছে ডিজিটাল লেনদেন।
বর্তমানে অগণিত ব্যক্তি ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এটিএম কার্ডের কারণে এখন টাকা তুলতে খুব একটি ব্যাংকে যেতে হয় না। কার্ড দিয়ে বুথ থেকে টাকা ওঠানো, একই কার্ডে কেনাকাটা কিংবা আর্থিক এ্যাপসে (বিকাশ-নগদ-রকেট ইত্যাদি) টাকা ঢোকানো, ঘরে বসে প্রায় সব ধরনের বিল পরিশোধ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে। কার্ড দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে পণ্য কেনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা। এ কারণে প্রায়ই শোনা যাচ্ছে নানা অঘটনের খবর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতার পর ব্যাংকগুলো অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত করেছে। এটিএম বুথ সেবাও বন্ধ রেখেছে কিছু ব্যাংক। সরকারের ডিজিটাল ক্রাইম এজেন্সিও সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পূর্বাভাস পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে আসছে। এসব তৎপরতার কারণে ব্যাংকগুলো অনেক বেশি সচেতন হয়েছে এবং সতর্ক করার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি সতর্ক করতে পয়লা অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে সচেতনতা মাস। আমরা আশা করব, এই মাসে ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সকল দুর্বলতা কাটিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে সাইবার খাতে আর্থিক নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করবে।