সিলেট সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এরিয়া কমান্ডার ॥ বিশ্বের শান্তি রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

6
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে সিলেট সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত পিস কিপারস কমেমোরেশন অনুষ্ঠানের ্একাংশ।

সিলেট সেনানিবাসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৭টায় সিলেট সেনানিবাসে পিস ‘কিপারস কমেমোরেশন’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সিলেট এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য। তেত্রিশ বছর ধরে পেশাদারিত্ব, কর্তব্য নিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্ব শান্তি রক্ষার এই দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ১৫৯ জন সদস্য জীবনোৎসর্গ করেছেন এবং ২৪০ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বিশ্বের শান্তি রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুরদর্শীতা, সংবিধানের দিক নির্দেশনা, মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুপ্রেরণা ও প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অবদান উত্তরোত্তর বৃদ্ধ পাচ্ছে। আজ আমরা বিশ্বের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ শান্তিরক্ষী বাহিনীর আসনে অধিষ্ঠিত। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সাম্প্রতিক সফরের কারণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের অফিসারদের অন্তির্ভুক্তি আমাদের গৌরবের বিষয়। বিশ্বের শান্তি রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন আহম্মদ, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনসহ সেনাবাহিনীর সিলেটর এরিয়ার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। পরে এক বর্নাঢ্য র‌্যালি সিলেট সেনানিবাসের মুজিব চত্তর থেকে শুরু হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১৯৪৮ সাল থেকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালের আগষ্ট মাস হতে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রয়াসের সাথে সম্পৃক্ত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে মোট ১০টি দেশে ৬ হাজার ৭৪৩ জন সামরিক ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন। বিজ্ঞপ্তি