রমজান ও লকডাউনকে কেন্দ্র করে ॥ নগরীর রাস্তা-ঘাট ও দোকানপাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, অসহনীয় যানজট

18

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটসহ দেশব্যাপী রাত পোয়ালেই কঠোর লকডাউনে পড়ছেন মানুষ। পাশাপাশিও কাল বুধবার থেকে হতে পারে মাহে রমজান শুরু। এমনিতেই রমজান মাস আসার পূর্বেই সিলেটে ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোযার প্রস্তুতিমূলক আগে ভাগেই বাজার সদাই করে নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। যে যার মতো বাজার সদাই করে নিচ্ছেন। সবার ভেতরেই অজানা এক আতঙ্ক কীভাবে কাটবে এবারের কঠোর লকডাউন।
সরজমিনে, গতকাল সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় তারই চিত্র। প্রায় প্রত্যেকটি বাজারে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন যে যার মতো করে সদাইপাতি কিনে নিচ্ছেন। নগরীর কালীঘাট, বন্দরবাজার, লালবাজার, আম্বরখানা, রিকাবীবাজারসহ প্রায় প্রত্যেকটি বাজারেই ক্রেতাদের ভিড়। এছাড়া করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়ার কারণে চলমান লকডাউনের অষ্টম দিনে নগরীর সড়কগুলোতে এর ছিঁটেফোঁটাও লক্ষ করা যায়নি। প্রত্যেকটি সড়কে ছিলো তীব্র যানজট। এক তো চৈত্রের প্রখর গরম আর তার উপর যানজট। সব মিলিয়ে বলা যায় গতকাল নগরবাসী ছিলেন এক অসহনীয় অবস্থার মুখোমুখী।
নগরীর বন্দরবাজারে সোমবার বিকেল চারটায় যানজটে আটকে পড়া অটোরিক্সা যাত্রী সাইফুল ইসলাম জানান, করোনার প্রকোপের মধ্যে এমন যানজটে করোনার চাষ হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে।
কালীঘাটের মুদির দোকানদার জানান, ভাই, মনে হচ্ছে সবাই ঈদের বাজার করছেন, কাষ্টমারের এমন চাপ ঈদেও থাকে না।
নগরীর শিবগঞ্জের নাসিম আহমদ জানালেন, কী হবে এত ভয় করে? লকডাউনের কারণে গত বছর ঈদেও সুবিধামতো কেনাকাটা করতে পারিনি। এবারও যদি কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসছে তবে ঠিকমতো ঈদে কেনাকাটা করতে পারবো না। তাই এখনই কেনাকাটা সেরে ফেলছি।
নগরীতে এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, কী করবো ভাই, করোনার জ্বালা থেকে পেটের জ্বালা বেশি। অবশ্য ক্রেতাদের বার বার শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করছি আমরা। কেউ মানে, কেউ মানে না।
দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় এবং বিধি অমান্য করার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম বলেন, বিভাগের মধ্যে সিলেট ও মৌলভীবাজার রয়েছে করোনার ভয়াবহ ঝুঁকিতে। এই দুই জেলায় আক্রান্ত বাড়ার কারণ হচ্ছে ঢাকাসহ অন্যান্য স্থান থেকে লোকজন আসা। তিনি বলেন, কয়েকদিন থেকে সিলেট জেলায় বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা। এর প্রধান কারণ হলো জনগণের অসেচতনতা, বাজার-হাট ও দেকানপাট-মার্কেটে জনসমাগম এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানা ইত্যাদি। এখনই সিলেটের মানুষকে সচেতন না হলে এর চড়া জন্য মূল্য দিতে হবে।
এদিকে, রমজান ও লকডাউন এক সাথে হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। যেন কেউ দেখার নেই। ফলে জিনিসপত্র ও নিত্যপণ্যে দাম বাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নও মধ্যবিত্তের মানুষ জন।