জঙ্গির মৃত্যুদন্ড কার্যকর চাই

9

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত হত্যাযজ্ঞের পর যে অমানিশার অন্ধকারে সারাদেশ আটকে পড়ে সেখানে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধূলায় লুণ্ঠিত হয়। এর পরবর্তী ইতিহাস জ্বালাময়ী এবং শ্বাসরুদ্ধকর। অপশাসন আর দুর্বৃত্তায়নে স্বাধীনতাবিরোধীরা যে মাত্রায় উন্মত্ত আর উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে তার দাম চুকাতে হয় দীর্ঘ ২১ বছর ধরে। বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠন আওয়ামী লীগের অবস্থানও ছিল বিপন্ন, দিশেহারা। আর বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার জীবন ছিল একপ্রকার কোন মতে টিকে থাকা। সেখান থেকে বের হয়ে আসতে আরও ছয় বছর অতিক্রম করতে হয়। শেষ অবধি ১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা যেন ইতিহাসের অমোঘ নির্দেশ। ততদিনে বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীনতার মূলমন্ত্র বিস্তৃতির অতলে তলিয়ে যাবার অপেক্ষায়। আর বাংলাদেশের ভূমিতে হাসিনার পদার্পণে অনেক ঝড় ঝঞ্ঝার কঠিন আবর্ত তৈরি হওয়া সেও এক অনাকাক্সিক্ষত বিপর্যয়। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা থেকে আরম্ভ করে পরবর্তী সময় তাঁর মূল্যবান জীবনটি কখনও নিরাপদ আর নির্বিঘ্ন ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হরণকারী দুঃশাসনে তিনি সব সময় জিম্মি থেকেছেন অপশক্তির কঠিন ছোবলে। ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশ মূল চেতনাকে ধূলিসাৎ করে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ আর সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পকে সারাদেশে সম্প্রসারিত করার হরেক রকম কূটকৌশল প্রয়োগে বিন্দুমাত্র পিছপা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার প্রচেষ্টা জনসমক্ষে দৃশ্যমান হতে বেগও পায়নি। তারই দুঃসহ প্রেক্ষাপটে আরেক জঘন্য কর্মযোগ প্রায়ই দুশ দশক আগে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার এক জনসমাবেশের স্থানে বোমা পুঁতে রাখা চরম সর্বনাশা অপতৎপরতা। ২১ বছর আগে করা এই মামলার রায় প্রদান করা হয় ২৩ মার্চ মঙ্গলবার। অভিযুক্ত ১৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় মহামান্য আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মোঃ কামরুজ্জামান রায়ের আদেশে এমন জঘন্য হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কারণে সবাইকে প্রাণদণ্ডের হুকুম দেয়া হয়। ফায়ারিং স্কোয়াডে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথাও উল্লেখ করা হয়। ১৪ জন অভিযুক্ত আসামির মধ্যে ৯ জন কারাবন্দী বাকি ৫ জন এখনও পলাতক। আসামিদের উপস্থিতিতে বিচার কার্যবিধিতে রায় পড়ে শোনানো হয়। ১৪ জনই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতাকর্মী। পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। জামিনে থাকা দুই আসামিও আদালতে হাজির হয়। আর এমন জঘন্য ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন বিএনপি সরকার সরাসরি জড়িত থাকার দুঃসহ চিত্রও উঠে এসেছে। দোষীরা শাস্তিও পেয়েছে। তবে মূল আসামি তারেক জিয়া পলাতক এবং ধরাছোঁয়ারও বাইরে। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় জঙ্গিদের এমন নৃশংসতার বিরুদ্ধে আদালতের সঠিক বিবেচনা জনমনে স্বস্তি এনেছে। তবে অপরাধীরা যেন পার না পায় এবং দ্রুততার সঙ্গে এই দণ্ড কার্যকর করাও সময়ের দাবি।