জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কাল, ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

40

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে কাল শনিবার। নির্বাচনে মেয়রপদে ৮ জন, পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৯ ওয়ার্ডে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে ৯জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। মোট ভোটার রয়েছেন ১২ হাজার ৩৩৮ জন। আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা বৃহস্পতিবার মধ্যে রাতে শেষ হয়ে যাবে। এরপর নিরবেই চলবে ভোট প্রার্থনা। নিরব ভোটারদের দিকে থাকিয়ে আছেন প্রার্থীরা। বিজয়ের হাসি ফুটাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সকল প্রার্থী ও সমর্থকেরা। অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় নির্বাচন অফিস।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার শাদমান সাকীব জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নিñিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে জকিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনে শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৯ টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নয়টি মোবাইল টিম, পুলিশের দুটি স্টাইকিং ফোর্স, বিজিবির দুটি স্টাইকিং ফোর্স, র্যা বের একটি স্টাইকিং ফোর্স, জরুরী দুটি স্টাইকিং ফোর্স থাকবে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত দুজন জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কাজ করে যাবেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি মোবাইল টিম থাকবেন। তাছাড়া ৭ জন পুলিশ, ১১ জন আনসার সদস্য ভোট সেন্টারে দায়িত্ব পালন করবেন। ৯ সেন্টারে ভোটগ্রহণে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং ৩৬ জন ও পোলিং অফিসার ৭৭ জন থাকবেন। ৯ টি ভোট সেন্টারের মধ্যে দুটিকে প্রাথমিকভাবে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে নিয়েও জিরো টলারেন্সে রয়েছি। চিহ্নিত ভোট কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্স কাজ করবে। নির্বাচনে কেউ প্রভাববিস্তার ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে সাথে সাথে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। ভোটের দিন সকালে ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। কোনোভোবেই নির্বাচন নিয়ে বির্তক তৈরীর সুযোগ থাকবেনা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।
নির্বাচনে মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌরসভার বর্তমান মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন (নৌকা)। বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী পৌর বিএনপির আহবায়ক সাবেক মেয়র ইকবাল আহমদ তাপাদার (ধানের শীষ)। জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হয়েছেন পৌর জাপার সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক (লাঙল)। দলের বিদ্রোহী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ (জগ), উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল আহাদ (নারিকেল গাছ), উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা (চামচ), স্বতন্ত্রভাবে পৌর আল ইসলাহর সভাপতি হিফজুর রহমান (মোবাইল), সোনার বাংলা সমিতির সভাপতি জাফরুল ইসলাম (হ্যাঙ্গার)।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে গেছে, ভোটগ্রহণের আর মাত্র কয়েকঘন্টা হলেও বিজয়ের ব্যাপারে সকল মেয়রপ্রার্থী আশা প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের ধারণা নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোন দলীয় প্রতীক এবার আলোচনায় এখন পর্যন্ত স্থান পাচ্ছে না। ভোটারদের আলোচনায় উঠে আসছে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহমদ (জগ), স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান (মোবাইল) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আহাদ (নারিকেল গাছ)। তবে শেষ পর্যন্ত পট পরিবর্তন হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। আলোচনায় যোগ হতে পারেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল আহমদ তাপাদার, জাতীয় পার্টি আব্দুল মালেক ফারুক, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফরুল ইসলাম ও বিএনপি বিদ্রোহী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা। একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, ভোটের লড়াইয়ে কেউ থেকে কেউ পিছিয়ে নেই। সকল প্রার্থীই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আছেন। ভোটারদের এক চতুর্থাংশই নীরব ভোটার। উপজেলা জুড়ে একই আলোচনা চলছে, কে হাসবেন শেষ হাসি? নিরব ভোটাররা যাকে ভে টে বেছে নিবেন তিনিই মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সমস্যায় জর্জরিত জকিগঞ্জ পৌরসভায় যিনিই মেয়র নির্বাচিত হবেন তিনি জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পৌর ভবন র্নিমান, গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বাজার উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং শিক্ষা বিস্তারে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখী হতে হবে।