দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জেল সুপার বদলি

6

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাদ্য ও রক্ষীদের রেশন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিলকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে- নির্ধারিত খাবার থেকে বঞ্চিত করে বরাদ্দের ৩ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করা হতো বন্দিদের এবং বাকি ২ ভাগ কারাগারের বাইরে বিক্রি করা হতো।
এছাড়াও কারারক্ষীদের রেশনের পরিবর্তে যে নগদ অর্থ দেয়া হয় সেখানেও পদে পদে অনিয়ম। চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের প্রকৃত দামের অর্ধেক টাকা পান রক্ষীরা। এসব ঘটনার নেপথ্যে জেল সুপার আবদুল জলিলের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
এদিকে, গত সোমবার কারাগারে পরিদর্শনে আসা জেলা প্রশাসকের সামনে ওই চাপা ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটান এক বন্দি। এদিন জেল সুপারের শরীরে মানববিষ্ঠা নিক্ষেপ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান ওই বন্দি। ওই বন্দির নাম শফিকুল ইসলাম জাবেদ। এ ঘটনার রেশ ধরে সন্ধ্যার পর জাবেদকে নিরাপত্তা সেলের ভেতরে বেদম প্রহার করে মনফর নামের এক কারারক্ষী। সারা রাত তাকে উলঙ্গ করেও রাখা হয়।
জাবেদের সেলে দায়িত্বরত একজন কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জাবেদের অভিযোগ- জেল সুপার আবদুল জলিল তাকে বুদ্ধি দিয়ে কারাগারে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার স্বীকারোক্তি নিয়েছেন।
হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে জাবেদ দাবি করেছেন। জেল সুপার তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ঘটনার স্বীকারোক্তি দিলে যতদিন কারাগারে থাকবেন ততদিন নিরাপত্তা সেলের যে কক্ষে তিনি বন্দি আছেন, সেখানে একটা টিভি দেয়া হবে। এমনকি আইনি সহায়তা দিয়ে জেল থেকে মুক্তি ছাড়াও ভালো ভালো খাবার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তাকে। জাবেদের অভিযোগ, টিভি দেয়াতো দূরের কথা কারা বিধি অনুযায়ী ঠিকমতো খাবারও দেয়া হয় না তাকে।
কম খাবার পরিবেশনের অভিযোগ শুধু জাবেদের নয়, সব বন্দির। এরপরই ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার জেল ভিজিটের অপেক্ষায় ছিলেন এ জাবেদ।
জানা যায়, গত সোমবার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। জেল ভিজিটের খবর পেয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নেন জাবেদ। একটি সেভেন-আপের বোতলে মানববিষ্ঠা গুলিয়ে নিজের কাছে রাখেন। দুপুর ১২টার দিকে জেল সুপার জেলা প্রশাসককে নিয়ে ওই সেলের সামনে গিয়ে এ বন্দির সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ ওই বোতলের ময়লা জেল সুপারের শরীরে ছুড়ে মারেন।
এ সময় লজ্জায় জেলা প্রশাসক জেল সুপার আবদুল জলিলের উদ্দেশে বলেন, ‘এভাবেই জেলখানা পরিচালনা করেন আপনারা?’ একথা বলেই দ্রুত জেলখানা থেকে বেরিয়ে যান ডিসি। ক্ষুব্ধ জেলা প্রশাসক জেল কর্তৃপক্ষের কোনো আপ্যায়নই গ্রহণ করেননি। এমনকি সেখানে তিনি এক গ্লাস পানিও খাননি।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ওই বন্দি মানসিক বিকারগ্রস্ত- এমনটি আমাকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখব।’
আরও জানা গেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আবদুল জলিলকে সোমবারই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বদলি করা হয়েছে।