জঙ্গি দমনে অভিযান অব্যাহত থাকুক

8

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও জঙ্গি হামলার সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো এখন অতীত হয়েছে। জঙ্গি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনেকটাই সফল হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর তৎপরতা অনেক সুনির্দিষ্ট হয়েছে। তাদের কাজের ধরন এবং প্রযুক্তি সহায়তার দিকগুলোও অনেক উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশের এই সাফল্যের স্বীকৃতিও মিলছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘কান্ট্রি রিপোর্ট অন টেররিজম ২০১৮’ বলা হয়, বাংলাদেশে আগের বছরের তুলনায় জঙ্গি কর্মকাণ্ডের প্রবণতা ও বিস্তার কমেছে। জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের এই সাফল্য আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এতেই সন্তুষ্ট থাকা যাবে না। জঙ্গি সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটাতে এখনো অনেক বিরুদ্ধ শক্তি অনবরত ষড়যন্ত্র করে চলেছে। তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, জঙ্গিরাও নানাভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই বিভীষিকা যাতে আবার ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য সব ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ২০১৮ সালের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। সে বছরও দুটি জঙ্গি হামলা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। একটি ছিল মুন্সীগঞ্জের প্রগতিশীল লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী শাজাহান বাচ্চুকে হত্যা এবং অপরটি ছিল কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা। তা সত্ত্বেও সে বছর হামলার সংখ্যা ছিল আগের বছরের তুলনায় কম। চলতি বছরেও কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে আছে গুলিস্তান, মালিবাগ ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে পুলিশের ওপর হামলা। আইএস এসব হামলার দায়ও স্বীকার করেছে, যদিও আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে আইএসের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করা হয়েছে। জঙ্গি সন্দেহে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ বেশ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তা থেকে প্রমাণ হয়, জঙ্গিরা এখনো সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আইএসের দায় স্বীকার থেকেও বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারের চেষ্টা করছে। এর আগে আল-কায়েদাও বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারের ঘোষণা করেছিল। তা ছাড়া বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা যেসব শক্তির পছন্দ নয়, তারাও নানাভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। জঙ্গিদের সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়েও নানা রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। তাই এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের আরো সজাগ থাকতে হবে।
দেশের মানুষ অতীতের মতো জঙ্গি সন্ত্রাসের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। ধর্মান্ধদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং তাদের গতিবিধি কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। বিমানবন্দর, স্থল ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। সর্বোপরি জঙ্গিবাদবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।