অপরাধ রোধে নানা ক্ষেত্রে ভূমিকা ॥ আজ ‘কমিউনিটি’ পুলিশিং ডে

11

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে কমিউনিটি পুলিশ। মাদক কারবারি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটিও করে এই বাহিনী। এছাড়া, কোথাও অপরাধীদের সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই, তাদের শনাক্ত করাসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশকে সযোগিতা করাও এই বাহিনীর কাজ। সার্বিকভাবে অপরাধ ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই কাজ করেন কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা। অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্য সামনে রেখে আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে’।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে পুলিশ সদর দফতরের অর্গানোগ্রামে পুলিশের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের (ডিআইজি-অপারেশন্স) অধীনে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্পেক্টর জেনালের (এআইজি) তত্ত্বাবধানে পাবলিক সেফটি অ্যান্ড ক্রাইম প্রিভেনশন (পিএস অ্যান্ড সিপি) শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। যা কমিউনিটি পুলিশিং নামে পরিচিত।
বর্তমানে পুলিশের সব জেলা, রেলওয়ে, হাইওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটে এই বাহিনীর কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে ৬০ হাজার ৯১৮টি কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির সদস্য সংখ্যা ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩২৮ জন। অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিমাসে কমিটিগুলো ওপেন হাউজ ডে’র আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানে অপরাধমূলক কাজ, মাদকমুক্তকরণ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং সমস্যা, যৌন হয়রানি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিয়ে, বহু বিয়ে, যৌতুক প্রতিরোধ, বয়স্ক শিক্ষা, জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে আলোচনা করা হয়।
পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধেও বিভিন্ন কাজে অংশ নেয় কমিউনিটি পুলিশিং। প্রত্যেক থানা এলাকায় পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের সমন্বয়ের টহল কার্যক্রম পরিচালনা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় পাহারা দেওয়া, অপরাধ প্রতিরোধে আগাম তথ্য সরবরাহ করা, জঙ্গি-সন্ত্রাসী, অপহরণ, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন তারা।
এসব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ৯৬ হাজার ৪৪৬টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ সালের একই সময়ে এক লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি, ২০১৬-২০১৭ সালের একই সময়ে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৫৩টি, ২০১৫-২০১৬ সালের একই সময়ে এক লাখ এক হাজার ৭৯৩টি এবং ২০১৪-২০১৫ সালের একই সময়ে ৮২ হাজার ৯৮১টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের কমিউনিটি পুলিশিং বিভাগের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘অপরাধ প্রতিরোধ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সামগ্রিক উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আর কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে পুলিশের সঙ্গে পাবলিক কমিউনিটির সেতুবন্ধন। পুলিশ কমিউনিটি আর পাবলিক কমিউনিটি মিলে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অপরাধ হয়ে যাওয়ার পরের কাজগুলো পুলিশের। কিন্তু অপরাধ ঠেকানোর কাজ কমিউনিটি পুলিশিংয়ের। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার কাজটাই তারা করে। এছাড়া ছোটখাটো পারিবারিক বিরোধগুলো তাদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করতে সুবিধা হয়।’ সামাজিক বন্ধন তৈরির কাজটাই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা করেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।