ইংল্যান্ড-আফগানিস্তান মুখোমুখি আজ

23

স্পোর্টস ডেস্ক :
বিশ্বকাপে দিনের একমাত্র ম্যাচে আজ আয়োজক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ইংল্যান্ড আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে, ঘরের মাটিতে ১২তম বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট। দুর্দান্ত ইয়ন মরগানের দল এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ৪ খেলায় ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার নম্বরে ইংলিশরা হেরেছে কেবল পাকিস্তানের কাছে। সেমির পথে অনেকটাই এগিয়ে তারা। অন্যদিকে সমান ৪ ম্যাচে এখনও জয়ের দেখা পায়নি গুলবাদিন নাইবের আফগানিস্তান। দলটির বড় তারকা রশীদ খান আগেই জানিয়েছিলেন, তারা যে আর কাগুজে বাঘ নয়, বিশ্বকাপেই সেটি প্রমাণ হয়ে যাবে। কিন্তু হালে পানি পাচ্ছে না এশিয়ার উদীয়মান ক্রিকেট খেলিয়ে দেশটি। বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা যে কতটা কঠিন সেটি তারা বুঝেছে টানা চার হারে। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।
ইংল্যান্ডের যাত্রা শুরু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে। ৮ উইকেটে ৩১১ রানের পাহাড়গড়ার পর প্রোটিয়াদের ২০৭ রানে গুড়িয়ে দিয়েছিল ইংলিশরা। তুলে নিয়েছিল ১০৪ রানের বিশাল জয়। তবে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল ১৪ রানে। ৩৪৮/৮-এর জবাবে মরগনরা করে ৩৩৪/৯। ভেস্তে যায় জো রুট (১০৭) ও জস বাটলারের (১০৩) জোড়া সেঞ্চুরি। তবে পরের ম্যাচেই বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। জেসন রয়ের ১৫৩ রানের অতিমানবীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৮৬ রানের বড় স্কোর গড়ার পর প্রতিপক্ষকে ২৮০ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। সবশেষ ৮ উইকেটে জয়ের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও উড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ড। মাত্র ২১৩ রানের টার্গেটে এদিন আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন জো রুট। যদিও আগেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভোগা অধিনায়ক এদিন মরগান নতুন করে পিঠের ইনজুরিতে পড়েন। তিনি আজ খেলবেন কি না, ইংলিশ ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত না খেললে নেতৃত্ব দেবেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বাটলার। ওদিকে ওই ম্যাচেই ফিল্ডিংয়ে ইনজুরির কবলে পড়া ওপেনার জেসন রয়ের আজ খেলা হচ্ছে না। পরিবর্তে জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে ওপেন করতে পারেন জো রুট। যেমনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয়েছিল। রাজার খেলা ক্রিকেটের জন্ম নাকি ইংল্যান্ডে। অথচ দীর্ঘ ৪৪ বছরে একবাও শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। এর মধ্যে চারবারের আয়োজক ছিল ইংলিশররা, এবার নিয়ে পঞ্চমবার। এবারের মতো এত ফেবারিট হিসেবে বোধ হয় আগে কখনও বিশ্বকাপে নামেনি তারা। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ইয়ন মরগানের দল। ব্যাটিংয়ে জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, জো রুট, বোলিংয়ে ক্রিস ওকস, জোফরা আর্চার, আদিল রশিদ, অলরাউন্ড পজিশনে বেন স্টোকস, মঈন আলী- দুর্র্ধষ লাইনআপ আসলেই কতটা দুর্ধর্ষ সেটি সবার জানা। গত (২০১৫) বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর খোলনচে বদলে পাওয়ার ক্রিকেটের পসার নিয়ে হাজির ইংলিশরা এখন সত্যি ভয়ঙ্কর। তাদের খেলার ধরন আর ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংই সেটি প্রমাণ করে।
অন্যদিকে তিন তারকা রশীদ খান, মোহাম্মদ নবী ও মুজিব উর রহমানকে নিয়ে আফগানদের স্পিন আক্রমণ বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। দলটির নেতৃত্বে আছেন গুলবাদিন নাইব। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে এসেছে ক্রমশ এশিয়ান ক্রিকেটের উদীয়মান দল আফগানিস্তান। গতবার তারা ৬ ম্যাচের মাত্র একটিতেই জিততে পেরেছিল, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানো আফগানদের নজর ছিল এবার আরও উঁচুতে। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হারের দিনে ২০৭ রানে অলআউট হয় গুলবাদিন নাইবের দল। এরপর তারা হারে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। আফগানিস্তান এশিয়ান ক্রিকেটের উদীয়মান শক্তি। গতবার প্রথম পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ খেলা দলটি এরই মধ্যে কিছু সাফল্য তুলে নিয়েছে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তারা হারিয়েছে এক সময়ের পরাক্রমশালী জিম্বাবুইয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও। দলটির বড় তারকা লেগস্পিনার রশীদ খান। বিশ্বজুড়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক তিনি। আছেন মোহাম্মদ নবী আর মুজিব উর রহমন। তবে বিশ্বকাপে এখনও সেভাবে আতঙ্ক ছড়াতে পারেননি কেউই।
এবার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর পর অতিআত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক নাইব যেমন বলেছিলেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপে রশীদ ও মুজিব (উর-রহমান) ছিল না। এবার লক্ষ্য সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া। আমাদের যে টিম কম্বিনেশন তাতে অবশ্যই কয়েকটি দলের বিপক্ষে আপসেট ঘটাব। কোন কোন দলকে হারাব আমরা তা চিহ্নিত করেছি। তবে অবশ্যই দলগুলোর নাম আমি বলব না!’ এখন তারা কোন জয় পাবে কি না, সেটি নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে! ব্যর্থতার মাঝে আফগানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে ছিটকে যাওয়া মোহাম্মদ শাহজাদের বিতর্কিত মন্তব্য। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েন মাংসবহুল শরীরের অধিকারী এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কান্নারত একটি ভিডিও বিতর্কের জন্ম দেয়। যেখানে তিনি দাবি করেন, ফিট থাকা সত্ত্বেও তাকে জোর করে বাদ দেয়া হয়েছে। আর বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে হঠাৎ করেই আসগর আফগানকে সরিয়ে গুলবাদিন নাইবকে অধিনায়ক করায় খোদ নবী-রশীদরাও বোর্ডের সমালোচনা করেছিলেন। সব মিলিয়ে টানা চার হারে বিধ্বস্ত আফগানরা বাকি ম্যাচগুলোতে কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।