ইয়াবা ব্যবসা ও জোরপূর্বক শিশুদের পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত করার অভিযোগ ॥ পুলিশের এসআই ও তার ভুয়া স্ত্রী গ্রেফতার, ২ শিশুকন্যা উদ্ধার

177
র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকা সহ আটক আর্মড পুুলিশ ব্যাটালিয়নের এসআই রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভুয়া স্ত্রী রিমা বেগম।

স্টাফ রিপোর্টার :
ইয়াবা বিক্রি ও অপ্রাপ্ত শিশুদের জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত করানোর দায়ে নগরীর দাড়িয়াপাড়া থেকে ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসআই ও তার ভুয়া স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯ এর একটি দল। ঐ সময় র‌্যাব দুটি অপ্রাপ্ত শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- নগরীর মুন্সিপাড়ার মৃত আব্দুল রশিদের পুত্র বর্তমানে দাড়িয়াপাড়া মেঘনা-এ ২৬/১ নং নিচতলা বাসার বাসিন্দা লালাবাজার ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসআই মো: রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও তার ভুয়া স্ত্রী নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি থানার আটগাঁও গ্রামের মৃত মফিজুল মিয়ার কন্যা রিমা বেগম (৩৫)।
উদ্ধার হওয়া কন্যা শিশুরা হচ্ছে- কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার মাঝিকোনা গ্রামের মো: জুয়েল মিয়ার কন্যা তামান্না আক্তার তমা (১২) এবং সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার ফুলবাড়ী গ্রামের মো: আশুক আহম্মেদের কন্যা দিপা (১৩)।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নগরীর দাড়িয়াপাড়া মেঘনা-এ ২৬/১ নং নিচতলা বাসায় একজন পুলিশ সদস্যর মাধ্যমে পুলিশের ভুয়া স্ত্রী সেজে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি ও শিশুদের দিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি করে আসছে একটি চক্র গোপনে এমন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-৯’র সদস্যরা গত শনিবার রাত পৌণে ২ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান যায়। এ সময় র‌্যাব-পুলিশে উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে মানব পাচারকারীর চক্রের সদস্য আর্মড পুলিশের এসআই রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভুয়া স্ত্রী রিমা বেগমকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট যার মূল্য ৩০ হাজার টাকা, নগদ ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪শ’ ২২ টাকা ও শিশু কন্যা তামান্না আক্তার তমা ও দিপাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কপোরেশন ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাট বাদি হয়ে পুলিশ সদস্য রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভুয়া স্ত্রী রিমা বেগমকে আসামী করে মানব পাচার আইনে কোতোয়ালী থানায় গতকাল রবিবার (নং-৩২) একটি মামলা দায়ের করেন এবং একই ঘটনায় র‌্যাব-৯’র এসআই (নি:) মো: সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে একই আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোতোয়ালী থানা রবিবার (নং-৩৩) আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দু’টির তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম।
এ ২ মামলার আসামী রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও রিমা বেগমকে রবিবার সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেমের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ ও উদ্ধার হওয়া ২ শিশু কন্যাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী-২) সাইফুর রহমানের আদালতে হাজির করে তাদের জবানবন্দী নেয়ার আদেশ প্রদান করেন। বিচারক সাইফুর রহমান ২ শিশু কন্যার জবানবন্দী রেকর্ড করে বাগবাড়ী নারী ও শিশু নিরাপদ হেফাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ তাদেরকে রবিবার রাতেই বাগবাড়ী নিরাপদ হেফাজতে প্রেরণ করেছে।
র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দাড়িয়াপাড়ার একটি বাসায় শিশুদের আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং ওই বাসা থেকে ইয়াবা ব্যবসা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অন্যান্য অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও ২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় র‌্যাব সদস্যরা।
মনিরুজ্জামান আরও জানান, রোকন উদ্দিন ভুইয়া ও রিমা বেগম ভালো চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরীব, অসহায় এবং সুন্দরী নারী ও শিশুদের এনে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতো। এছাড়া তারা ইয়াবা ব্যবসায়ও জড়িত ছিল।