আসামে বাংলাদেশিদের কোনো ঠাঁই হবে না -সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য

কাজিরবাজার ডেস্ক :
ভারতের অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন নেতা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ভারত ভারতীয়দের জন্য। আসামও ভারতীয়দের জন্য। অবৈধ বাংলাদেশিদের ঠাঁই এ রাজ্যে হবে না।’
ভারতের আসামে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০ লাখ বাসিন্দা এখন চালাচ্ছেন নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াই। আদৌ তারা জানেন না, শেষ পর্যন্ত কী আছে ভাগ্যে। এমন সময়ই এই মন্তব্য করলেন সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য।
অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকৃত কোনো নাগরিকই বাদ যাবে না, আর রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের হুঁশিয়ারি, বাদ পড়ারা ‘অবৈধ বাংলাদেশি’- তাদের বিতাড়িত করাই নাগরিক তালিকা হালনাগাদের উদ্দেশ্য।
এ অবস্থায় ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, বিপুল সংখ্যক এ বাসিন্দা ভারতের এ রাজ্যের অর্থনীতিতে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রেখে চলেছেন। তারা কোনো জটিলতায় পড়লে তার প্রভাব পড়বে আসামের অর্থনীতিতেও।
চোখে-মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক। ভাগ্য তাদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে, তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তারা।
তাদের মধ্যে একজন বলেন, আসামে কীভাবে থাকবো, বুঝতে পারছি না। আমরা ভারতীয়। তবুও বলা হচ্ছে ভারতের নাগরিক নই। নাগরিকত্বের জটিলতা নিয়ে এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় জীবন-যাপন করছি।
আসামে শুক্রবার থেকে চলছে বাদ পড়া ৪০ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াই। তবে আগের চেয়ে শঙ্কা বেড়েছে কারণ, অনেক বাসিন্দার কাছে দাখিল করার মতো নতুন কোনো নথি নেই এখন। যদিও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, বাদ দেয়া হবে না প্রকৃত নাগরিকদের।
আসাম নাগরিক তালিকা সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা বলেন, ‘খুব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমরা কাজ করছি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেলেই আপনারা তা বুঝতে পারবেন। আমি আবারও নিশ্চিত করতে চাই, কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এ তালিকা থেকে বাদ যাবেন না।’
গেলো ৩০শে জুলাই আসামের রাজধানী গৌহাটি থেকে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধনের খসড়া প্রকাশ করা হয়। এতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৩ কোটি ২৯ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লাখকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদ গেছেন ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭শ ৭ জন। যারা স্থান পাননি তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকে।
বাদ পড়া এসব নাগরিকের বেশির ভাগই হতদরিদ্র। তবে রাজ্যে তাদের অবদান খাটো করে দেখার মতো নয়। তারা বঞ্চিত হলে, তা রাজ্যের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
আসাম অর্থনীতিবিদ নানি গোপাল মহন্ত বলেন, ‘বাদ পড়া এসব মানুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তারা প্রতিনিয়তই রাজ্যের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। আসামের অর্থনীতির জন্য তাদের প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
গণমাধ্যম বলছে, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে অভিযোগ ও আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমেই আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এরই মধ্যে, আগামী ১৬ই আগস্ট আদালতে এনআরসি কর্তৃপক্ষকে বাদ পড়া নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।