ক্ষমতা আর জেলখানা পাশাপাশি এটা জানি – প্রধানমন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
রাজনীতি করতে হলে কারাগারে যেতে হবে এই বিষয়টি জেনেই দেশের কল্যাণে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ঝুঁকি নিয়েই দেশের কল্যাণে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট ছিল বলেই এখন দেশ একটি পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত করতে পেরেছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীতে জনপ্রশাসন দিবস এবং জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতিতে প্রাকৃতিক এবং মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। উল্লেখ করেন সেনা শাসন এবং জরুরি অবস্থা জারি, বিরুদ্ধে পরিবেশে মানুষের কাজ করার ভীতির কথা।
এর মধ্যেও রাজনীতিবিদদের কাজ করে যেতে হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি, ক্ষমতা আর জেলখানা পাশাপাশি এটা আমরা জানি। আমাদের কখনও কারাগারে কখনও নানা ধরনের যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে। কিন্তু দেশটাকে ভুগতে হয়েছে, দেশের মানুষ যন্ত্রণা ভোগ করেছে, সেটা হচ্ছে বড় কথা।’
ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে জড়ানো শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন ১৯৮১ সালে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর জিয়াউর রহমানের সেনা শাসনামলে ওই বছরই দেশে ফেরেন তিনি। এরপর নানা সময় তাকে গ্রেপ্তার বা গৃহবন্দী রাখা হয়। আর সবচেয়ে বেশি বন্দী জীবন ছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত।
দেশে ফেরার দুই বছর পর ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ ও সাংবিধানিক ধারা পুনর্বহালের দাবিতে কথা বলায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। ওই বছর ১ মার্চ মুক্তি পান তিনি।
একই বছরের ২৭ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের দাবিতে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে তাঁর মহাখালীর বাসায় অন্তরীণ করে রাখে সে সময়ের সরকার।। ১৪ ডিসেম্বর গৃহবন্দিত্ব থেকে তিনি মুক্তি পান।
১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর আন্দোলন করতে গিয়ে আবার গ্রেপ্তার হয়ে গৃহবন্দী হন শেখ হাসিনা। ১০ ডিসেম্বর এই অন্তরীণ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।
সবশেষ ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে ৩৩১ দিন শেরে বাংলা নগর সাবজেলে বন্দী থাকেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বন্দী করে রাখে। তখন বঙ্গবন্ধু বন্দী ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে।
দেশের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু কন্যা তার নেয়া নানা পদক্ষেপ আর পরিকল্পনা ও দর্শনের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সব সময় মনে করি আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী নই, জাতির পিতার কন্যা। সেই হিসাবে সবাই আমার পরিবার।’
‘আপনজন হারিয়ে আমি বাংলাদেশে এসেছি। এই দেশের সব মানুষ আমার পরিবার। কাজেই এই দেশটাকে আমি সেভাবেই গড়ে তুলতে চাই যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।’
অনুষ্ঠানে সরকারি চাকুরে সবাইরে কর্মচারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সবার বেতন আর আরাম আয়েশ হয়। কাজেই তারা যেন সেবা পান, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লাল ফিতার দৌরাত্ম দেখতে চান না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ফাইল পড়ে থাকবে, এটা যেন না হয়। পাশাপাশি অহেতুক কেবল অর্থ খরচের জন্য যেন কোনো প্রকল্প নেয়া না হয়, তার ওপরও জোর দেন তিনি।
সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কী কী করতে চান, সেটিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরে জনপ্রশাসনের সহযোগিতাও চান তিনি।
২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প থেমে গিয়েছিল জানিয়ে ভবিষ্যতে যেন এমনটি না হয়, সে জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সরকার প্রধান।