সিলেট সহ তিন সিটিতে নির্বাচন ৩০ জুলাই

কাজিরবাজার ডেস্ক :
রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ জুলাই সোমবার। মঙ্গলবার এ তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তবে মঙ্গলবার নির্বাচনের তফসিল দেয়া হলেও তা কার্যকর হবে ১৩ জুন থেকে। প্রার্থীরা ২৮ জুনের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হবে ১ ও ২ জুলাই। ৯ জুলাই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে। ১০ জুলা প্রতীক বরাদ্দ।
এর আগে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এই তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন সিটিতে নির্বাচনের জন্য সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৩০ জুলাই ভোট করার সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।
ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারের সুযোগ দিয়ে আচরণ বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন তা সংশোধন করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেটে এমপি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আচরণবিধি এখনও সংশোধন হয়নি। সংশোধন হলে তখন বলা যাবে। তিনি বলেন, স্থানীয় এমপিরা প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। তবে, অন্য এমপিরা পারবেন।
তিন সিটিতে আইনী জটিলতার বিষয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। সীমানা সংক্রান্ত আইনগত কোন জটিলতা নেই। কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, এমপিদের প্রচারের বিষয়ে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনা শেষে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে ১৩ জুনের আগে যদি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা সম্ভব হয় তাহলে এই তিন সিটিতে এমপিরা প্রচারের সুযোগ পাবেন। তবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আগেই তফসিল হওয়ার কারণে সিটিতে এমপিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনগুলোরও মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে। রাজশাহীর ৫ অক্টোবর, সিলেটের ৮ অক্টোবর ও বরিশালের ২৪ অক্টোবরে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষ হয়ে আসার কারণে আইন অনুযায়ী রাজশাহীতে ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবর, বরিশালে ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবর, সিলেটে ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত ২০১৩ সালের ১৫ জুন নির্বাচনের পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে ৯ এপ্রিল। সিলেট সিটির প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ অক্টোবর, ১১ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে।
বরিশাল সিটির প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হয়েছে ২৭ এপ্রিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটির ভোটের পরিকল্পনায় খুলনায় নির্বাচন হয়েছে গত ১৫ মে। আর গাজীপুরের ভোট হবে ২৬ জুন। চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারের অংশ নেয়ার সুযোগের বিষয়ে বলেন, কেবল সিটি কর্পোরেশন নয়, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এ সুযোগ পাবেন না। এ বিধান সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে। তিনি বলেন, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে নির্বাচনের বিধান ছিল না। বর্তমান দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়। এজন্য দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দলীয় কর্মীর প্রচারে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাছাড়া সংবিধানের ৩৭ ও ৩৮ ধারায় সবার সভা, সমাবেশ ও চলাফেরার অধিকার রয়েছে। যার কারণে বর্তমান বিধানটি আমাদের কাছে ঠিক মনে না হওয়ায় এ বিধানটি বাদ দিয়ে আমরা এমপিদের প্রচার চালানোর সুযোগ দিয়েছি। এমপিরা রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী নন। তারা কোন সরকারী অফিস ব্যবহার করেন না। এজন্য আমরা মনে করি, এখানে নেতিবাচক কোনও প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।
স্থানীয় এমপিদের প্রচারের সুযোগ না দেয়ার বিষয়ে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এমপিদের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের ত্রাণ, অনুদান দেয়ার ক্ষমতা আছে। তারা কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে নির্বাচন যেন প্রভাবিত না হয় সেজন্য আমরা তাদের প্রচরের বাইরে রেখেছি। তবে তারা এলাকায় যেতে পারবেন এবং ভোট দিতে পারবেন। এলাকায় গেলে বা ভোট দিলে প্রভাবিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করেন।