সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ॥ আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত সহ ৪ আসামীকে বাদ দিয়ে পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার :
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর হামলার মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। আলোচিত এ মামলা থেকে পুলিশ রহস্যজনক কারণে হত্যা মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলীসহ তার তিন সহযোগীকে বাদ দিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন কোতোয়ালি থানার এসআই হাদিউল ইসলাম। গতকাল দুপুরে তিনি সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত আগামী ২০ ফেব্র“য়ারি অভিযোগপত্রের শুনানীর দিন ধার্য্য করেছেন।
এদিকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের খবরে বিস্মিত হয়েছেন নির্যাতিত সাংবাদিক ও মামলার বাদি যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন নিরানন্দ পাল। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বাদির সাথে কোন কথা না বলেই আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন। চার্জশীট প্রত্যাখান করে তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি দ্বারা প্রভাবিত বিধায় আমি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানাবো।
বাদি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মঈনুল হক বুলবুল বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা যে মনগড়া চার্জশীট দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আদালতে আমরা নারাজি দেব। আগামি ২০ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত আদালত সময় দিয়েছেন। পাশাপাশি বাদিকে না জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন। এটা গুরুতর অপরাধ। কোতোয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান-সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৩ আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এজাহারে উল্লেখিত ৪ জন বাদ দেয়া হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে তাদের শনাক্ত করতে না পারায় তাদেরকে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। চার্জশীট থেকে বাদ পড়া ৪ অভিযুক্ত হচ্ছে- জৈন্তাপুরের মল্লিফৌদ গ্রামের ওয়াজিদ আলী টেনাইয়ের পুত্র লিয়াকত আলী, নয়াখেল গ্রামের মতিউর রহমানের পুত্র ফয়েজ আহমদ বাবর, আদর্শ গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র শামীম আহমদ ও খারুবিল গ্রামের আলী আহমদের পুত্র মো: হোসাইন আহমদ।
চার্জশীটে অভিযুক্তরা হচ্ছে-জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামের খাতির আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম, হরিপুর গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র জুয়েল আরমান, চাল্লাইন গ্রামের সাইফ উদ্দিনের পুত্র নুরুদ্দিন মড়া, ঘাটেরছটি গ্রামের লুৎফুর রহমান কালার পুত্র এম জেড জাহাঙ্গীর, শফিকুর রহমানের পুত্র তোফায়েল আহমদ, আলু বাগান গ্রামের মোস্তফা মিয়ার পুত্র সৈয়দ রাজু, বাউরবাগ মল্লিফৌদ গ্রামের মোহাম্মদ আলী মড়ার পুত্র ফারুক আহমদ, হাটিরগাঁও গ্রামের হোসেন মিয়ার পুত্র শাব্বির আহমদ, আদর্শ গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র মনির মিয়া, লক্ষ্মীপুর পূর্ব গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র তাজ উদ্দিন, সরুফৌদ গ্রামের সিদ্দিক আলীর পুত্র হোসেন আহমদ উরফে টাটা হোসেন, সরুখেল পশ্চিম গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র সুলতান আহমেদ ও বাউরবাগ গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র নুরুল ইসলাম। জব্দ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে এই ১৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে চার্জশীটে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।