নাগরিক সংলাপে বক্তারা ॥ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যে ও স্বদেশে ফেরত পাঠাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার জন্য নিজেদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলতে সরকারকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার (১ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটে রোহিঙ্গা: অতীত-বর্তমান ও বাংলাদেশ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেট রিপোর্ট ডটকম এর উদ্যোগে নগরীর মধুবনস্থ সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকেরা রাখাইন প্রদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে বেসরকারী উদ্যোগ বিশেষ করে সিলেটের প্রবাসী ও আলেম উলামাদের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নিউইর্য়ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন এর সিইও আবু তাহের। সিলেট রিপোর্ট সম্পাদক মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ লে. কর্ণেল সৈয়দ আলী আহমদ, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি সেলিম আউয়াল, দৈনিক নয়াদিগন্তের সহসম্পাদক আবুল কালাম, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, নূরবিডি ডটকমের সম্পাদক সৈয়দ সামছুল হুদা। মুখ্য আলোচক ছিলেন, গবেষক, কবি মুসা আল হাফিজ। অন্যান্যের মধ্যে সংলাপে অংশ নেন, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, সাংবাদিক শফিক আহমদ শফি, লেখক শামসীর হারুনুর রশীদ, মাওলানা নুরুয্যামান সাঈদ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সেক্রেটারী এম সাইফুর রহমান তালুকদার, শাহিদ হাতিমী, সৈয়দ উবাযদুর রহমান, কায়সান মাহমুদ আকবরী, রাসেল মাহফুজ, কামরুল ইসলাম মাহি প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ছাড়া মিয়ানমারকে আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন ও গণহত্যা বন্ধে বাধ্য করা যাবে না। শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতেও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে নীতি নিয়েছে, তা কেন অগ্রহণযোগ্য, সেটা বিশ্বসম্প্রদায়কে বোঝাতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে এখন এটা তুলে ধরা জরুরি যে দেশটির রোহিঙ্গাবিরোধী নীতির কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলছে। এই সমস্যার কোনো দায় বাংলাদেশের না থাকলেও জনবহুল এই দেশটিকে ১০ লাখ শরণার্থীর ভার বইতে হচ্ছে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি। মিয়ানমার শুরু থেকেই আরাকান রাজ্যে বর্তমানে চলমান রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান ও গণহত্যাকে ‘মুসলিম জঙ্গিদের’ তৎপরতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। সফল ও কার্যকর কূটনীতিই পারে এ ধরনের ভুলগুলো ভেঙে দিতে। আমরা আশা করছি, সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি সামগ্রিক ও কার্যকর কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। বিজ্ঞপ্তি