পুরাতন সংবাদ: July 28th, 2018

শব্দ

মাযহারুল ইসলাম অনিক

শব্দ দিয়ে ভাল্লাগে ভাই
লিখতে নানান ছড়া,
শব্দ দিয়ে করি আমি
শুধু নড়াচড়া।

শব্দ দিয়ে বানাই আমি
নানান রকম ঘুড়ি,
শব্দ দিয়ে শত্র“ বুকে
দ্রোহী আভা ছুড়ি।

শব্দ দিয়ে ভাল্লাগে ভাই
খেলতে নানান খেলা,
শব্দ সুতোয় যায় কেটে যায়
আমার সারাবেলা।

শব্দ দিয়ে বাঁধি আমি
আমার সুখের ঘর,
শব্দ দিয়ে তুলি আমি
জীবন নাশী ঝড়।

শব্দ দিয়ে জ্বালাই আমি
শত্র“ বুকে আগুন,
শব্দ ভয়ে শত্র“গুলো
দেশ ছেড়ে আজ ভাগুন।

শব্দ দিয়ে তুলি আমি
নদীর মাঝে ঢেউ,
শব্দ দিয়ে আঁকবো ছবি
আটকাবে না কেউ।

শব্দ দিয়ে গড়ি আমি
আমার নরম মন,
শব্দ দিয়ে ভাল্লাগে যে
খেলতে সারাক্ষণ।

শব্দ দিয়ে নিই যে আমি
আমার দেহে শ্বাস,
শব্দ সাথে এইতো আমার
সুখের বসবাস।

 

পথিক রূপে

রমজান আলী রনি

পাগল বলে জনে-জনে
নিন্দা করে যখন
মনের সুখে পথিক রূপে
ঘোড়ায় চড়ি তখন।

কাজল চোখে কত কিছুই
আঁধার কালো লাগে
স্বপ্নময়ী জীবন আমার
পাগল অনুরাগে।

পাড়ায়-পাড়ায় বেড়াও তুমি
আমায় চিনো কতো?
আসমানে চাঁদ তারা যেমন
পথিকও ঠিক ততো!

পথিক রূপে পাগল আমি
নিন্দা করে বলো
পরোজনম বৃথা তোমার
পথিক রূপে চলো?

 

বাবুর পাখি

রেজাউল রেজা

গাছের ডালে উঠল বাবু
পাড়ল পাখির ছানা,
এত সুন্দর হয় যে পাখি
ছিল না তার জানা।

যতন করে লোহার খাঁচায়
রাখল প্রিয় পাখি,
দিনে রাতে পাখি দেখে
জুড়ায় বাবুর আঁখি।

পাখির তরে বনে বনে
ফড়িং খোঁজে বাবু,
প্রয়োজনে বনের মাঝে
টানায় থাকার তাবু।

বাবু এখন হাসি খুশি
থাকে সারা বেলা,
মনের সুখে পাখির সাথে
করে বাবু খেলা।।

সত্য বাণী

মুহাম্মদ রেজাউল ইসলাম

গঙ্গা জলে করিলে স্নান যায় কি মুছে পাপ।
কুসুম সম হৃদয় তাহার করলে অনুতাপ।।
আল্লাহ তে নাই মনের রাজি
ক্বাবা গেলেই হয় কি হাজী
দুঃখ দিলে ব্যথা মিলে কিংবা অভিশাপ।
শেষ বিচারে মন্দ ভালোর হবে সমান মাপ।।

পরের কথা আড়াল বসে নিত্য দিনে তাই।
পাপের ভাগি দিবা নিশি তাহার হিসাব নাই।।
এতীম দুখীর বস্ত্র হরণ
পেটের মাঝে অগ্নি পোষণ
লোভে যে পাপ, পাপে মরণ সত্য কথা ভাই।
দিন ফুরালে আঁধার আসে মনে রাখা চাই।।

আল্লাহতাআলা কোথায় তবে খুজিস নারে মন।
নিজের মাঝে নিজের খবর কোথায় বৃন্দাবন।।
জীবের দয়া করে যে জন
আল্লাহ পাবে সত্যি সে জন
সব ধরমের একই বাণী বলেন গুরুজন।
পথের কাঁটা ফেললে দূরে মুক্ত হবে মন।।

 

আমার আমি

ডলি পারভীন

আমার আছে, আমার আমি,
আমার কাছে কাব্য দামী,
যা খুশি লিখি আপন মনে
যা কিছু থাকে মনের কোণে।

যে যাই ভাবুক পরোয়া করিনা
কারো কথার ধার ধারিনা,
আমি সেই, আমার মতই
মন্দ বলুক লোকে যতই।

পাখনা মেলি নীল আকাশে
কখনোবা সবুজ ঘাসে,
ইচ্ছে ঘুড়ি উড়াই বেশ,
ঘুরি আবার স্বপ্নের দেশ।

হে সুন্দর আগামী

আসাদ ইসলাম

তোমার জন্য হে আগামী।
হে সুন্দর আগামী। হে নিষ্কলঙ্ক আগামী।
তোমার জন্য-
আর কতকাল এ ধরণীর কোণে কোণে
রক্ত ঝরাবে মানুষ।
শুধু তোমার জন্য- আর কতকাল
অপেক্ষার প্রহর গুণবে
দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই মানুষ।
শুধু তোমার জন্য-
অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল বলে,
শুধু তোমাকে চেয়েছিল বলে,
কত টগবগে যুবকের বুকের তাজা খুন ঝরল।
কত মায়ের খালি হলো বুক,
কত মেয়ে হলো ধর্ষিতা,
কত মানুষের গলে দড়ি ঝুললো।
কত মানুষ নিখোঁজ হলো চিরতরে।

হে আগামী। হে নিষ্কলঙ্ক আগামী।
তোমার বিরুদ্ধে দেখ কত অসুর আজ।
কত শক্তি আজ।
নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষের উপর দিয়ে বৃষ্টির মত
বোমা ছোড়ে অহরহ।
কত হাসপাতালে ছাদ ধ্বসিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেয়
ডাক্তার আর রোগীর শরীর।
যারা চেয়েছিল তোমায়- হে আগামী।

তোমার জন্য হে নিষ্কলঙ্ক আগামী।
অসুরদের বিষাক্ত গ্যাসের দমকা হাওয়ায়-
নিজের একমাত্র মাস্কটি খুলে
ছোট্ট ভাইয়ের মুখে লাগিয়ে
নিস্তেজ হয়ে যায় যে মেয়ে–
তার কী কোন দামই নেই তোমার কাছে হে আগামী?
হে সুন্দর আগামী। শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্য-
দুবেলা ক্ষুৎপিপাসা মিটানোর আকাক্সক্ষায়
একটু ঠাঁই, পরনে কাপড় পাবার নিমিত্তে
আর কতকাল উদ্বাস্তু হবে মানুষ,
আর কতকাল বনে-জঙ্গলে, পথে-প্রান্তরে
উদ্ভ্রান্তের মত ছুটবে মানুষ।
আর কতকাল সমুদ্রের বালিতে
মুখ থুবড়ে পড়ে রবে
নিস্তব্ধ, নিষ্পাপ আইলানেরা।
আর কতকাল ভেসে ভেসে যাবে
শত মানুষের ফুলে ওঠা বেওয়ারিশ লাশ।

হে সুন্দর আগামী।
দেখো, তোমার পথ ধ্বসে কত অসুর আজ।
কত সারি সারি অসুর।
সন্ত্রাস নির্মূলের কথা বলে
কত রক্তের নদী বহায়,
কত মৃত লাশের উপর দাঁড়িয়ে
দানবের হাসি হাসে, অট্টহাসি–

হে সুন্দর আগামী। হে নিষ্কলঙ্ক।
তুমি কী আসবে সত্যিই?
না কি কোনদিনই নয়।

নির্বাচন

আব্দুর রহমান লায়েক

আসছে এবার নির্বাচন,
খালি খালি টেনশন।
জনগণের আবেদন,
নেতা নেত্রীর সমর্থন।
সব নেতাই যোগ্য নেতা,
জনগণে কয় কত কথা।
মাইকে শুনি পবিত্রতা,
শুনলে লাগে মনে ব্যথা।
পেশাব করে লয়না পানি,
কাজ করে শুধু বেইমানি।
চতুর্দিকে মিথ্যা শুনি,
বেইমানি করলে বলে জ্ঞানী।

 

ঘাসের নির্যাস

জালাল জয়

হালকা হালকা ধোঁয়া,ভোরের শিশির ছোঁয়ে
পড়ছে জলে ভেজা ঘাসে। একটু আধো,
একটু কুসুম, শীতল হাওয়ায় উড়ছে
গোলাপের পাঁপড়ি। স্পর্শকাতর চোখে,
শুরু হয় কম্পন শুধুই কম্পন…

আহা! হারিয়ে ফেলি দিশা,শুয়ে থাকি ঘাসে,
ধানসিঁড়ির বুকে। কেমন যেন নি:স্বপ্নে
জড়িয়ে রাখা আদরগুলো জেগে ওঠতে লাগলো
ঐ রক্তমাখা সূর্যরশ্মির হাত ধরে।

 

 

বর্ষায় জনদুর্ভোগ

মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তায় আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ভরা বর্ষায় অবিরাম বৃষ্টির ধারা যেমন শান্ত-স্নিগ্ধ প্রলেপ বুলিয়ে দেয় পাশাপাশি জনজীবনে দুর্ভোগেরও শেষ থাকে না। আষাঢ় মাস গেল প্রায়ই অনাবৃষ্টিতে। তার আগে জ্যৈষ্ঠ মাসের বৃষ্টিতে প্রকৃতি ঠিক তার নিয়মে চলেনি। আর শ্রাবণ মাসের শুরুটা তো ছিল প্রচন্ড রোদের খরতাপে জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের জীবন কাহিল হওয়ার অবস্থায়। ফলে প্রকৃতি যথানিয়মে যা করার তাই করল। অর্থাৎ অত্যধিক জলীয় বাষ্পের পরিণতিতে সারাদেশে নিম্নচাপের মতো প্রাকৃতিক সমন তৈরি হলো। আশঙ্কা করা হচ্ছিল ঝড় এবং অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস। মঙ্গলবার থেকে সেটাই প্রবল বেগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় বৃষ্টির ধারায় বর্ষিত হলো। সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি মানেই জলাবদ্ধতা, মাত্রাতিরিক্ত যানজট সঙ্গে আরও তীব্রভাবে সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
বৃষ্টির কারণে এমনিতেই যানজট অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে, সঙ্গে যদি জলাবদ্ধতার মতো অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাহলে সেই দুরবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকে সে কথা বলারও অপেক্ষা থাকে না। বর্ষণস্নাত বাংলার নিরন্তর বৃষ্টির ধারা জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিলেও নাজেহাল করতেও এর জুড়ি নেই। তবে এখানে শুধু প্রকৃতির ওপর দায় চাপালে চলবে না, মানুষের সৃষ্ট কোন সমস্যা কতখানি প্রভাব ফেলছে জনজীবনে সেটাকেও বিবেচনায় আনা অত্যন্ত জরুরী। সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক সমস্যা। তার ওপর রাস্তার চারপাশে খানাখন্দ খোঁড়াও এক ধরনের সঙ্কটাপন্ন অবস্থা তৈরি করে। প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে যেভাবে রাস্তা কাটা হয়ে থাকে তাকে ঠিকঠাক সংস্কার না করাও এক ধরনের অপরাধ। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা-ই হয়ে থাকে। এ ছাড়াও নর্দমা এবং নালার পানি নিষ্কাশনেও থাকে হরেক রকম বাধাবিপত্তি। বিভিন্ন অপরিশোধ্য বর্জ্য যেখানে সেখানে জমা করে রাখাও সড়ক ব্যবস্থাকে দুর্দশার শেষ পর্যায়ে নিয়ে যায়। বিশেষ করে পলিথিনের মতো বর্জ্য নালা-নর্দমাকে যে পরিমাণ সঙ্কটে আবর্তিত করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে জলাবদ্ধতাকে কোনভাবেই আটকানো যাবে না। ফলে পথচারী এবং যাত্রী দুর্ভোগও কমানো একেবারে অসম্ভব। বর্ষাকাল বাংলার সমৃদ্ধ প্রকৃতির অবারিত দান। এই বর্ষণ যাতে গণমানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কোন ধরনের হুমকি তৈরি করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, আধুনিক এবং জনবান্ধব করা এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি প্রয়োজন। প্রত্যাশিত বর্ষা তার প্রকৃতিগত আবেদন নিয়ে বার বার ফিরে আসবে কিন্তু তাই বলে জনদুর্ভোগের মতো পরিস্থিতি বেসামাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়াও সঙ্গত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহৃদয় বিবেচনায় এসব সমস্যা আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।