পুরাতন সংবাদ: November 11th, 2017

রম্য গল্প- সুবাইতার কান্ড

হাজেরা সুলতানা হাসি

বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে সুবাইতা। খুবই চঞ্চল। ওর কথা বলার ভঙ্গি এতোই চমৎকার যে, কথা বলার সময় ওর অবয়ব পানে তাকিতে থাকতে ইচ্ছে করে। সুবাইতাকে এবার স্কুলে ভর্তি করাবেন, মা-বাবা ঠিক করলেন। শুনে তো ছোটমণিটার সে কী আনন্দ!! পাশের বাসার আন্টির মেয়ে- স্নিগ্ধা আপুর মতো ওরও থাকবে অনেক সহপাঠী, যাদের সাথে খুব মজা করবে। তো কোন খেলার সাথী নেই। ও ছোট বলে ওকে বাইরে বেরুতে দেওয়া হয় না। স্নিগ্ধা তো বিকেল হলেই টেনিস কোর্টে গিয়ে ওর সহপাঠীদের সাথে খেলে। ও তখন ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখে, গাড়ীর ছোটাছুটি, মানুষের হৈ হুল্লোড়। এসবই দেখে ওকে বিকেলের মুহূর্তটা পার করতে হয়। এ ছাড়া যে ওর কোন উপায় নেই। ছোট বলে ও ফ্লাটের অদূরে টেনিস কোর্টে যেতে পারে না। মা-বাবার কথা হলো, আরেকটু বড় হও তারপর যাবে। সপ্তাহ খানেক পর সুবাইতার জন্মদিন।
পাঁচ থেকে ছয় বছরে পা দিবে। সুবাইতার মনে মহা খুশির ঢেউ, সেই দিনটির অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে, ওর সময় কাটে। কারণ জন্মদিন এলেই তো বড় হয়ে যাবে। তখন আর কেউ ওকে বাধা দিতে পারবে না। ছোট মনে ভাবনার মাঝে উঁকি দেয়, -ইশ, যদি দু’দিন পর পর জন্মদিন আসতো! তাহলে অল্প ক’দিনেই তো ও স্নিগ্ধা আপুর মতো বড় হয়ে যেতো। মামণি ডাকেন- সুবাইতা জ্বি আম্মু, -খেতে এসো তাড়াতাড়ি। মায়ের ডাকে সুবাইতা ছোট্ট পায়ে নাচতে নাচতে ছোটে যায়, মায়ের আহবানে সাড়া দিতে….। সুবাইতা এখন স্কুলে যায় নিয়মিত। বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া, ক্লাসে গিয়ে সহপাঠীদের সাথে মজার মজার গল্প করা, সব মিলিয়ে খুব আনন্দে দিন পার করছে সুবাইতা। সুবাইতার প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ হলো। ছুটিটা গ্রামের বাড়ীতে কাটালো। সারাদিন কাজিনদের সাথে খেলাধূলা, হাসি-আনন্দে মেতে উঠা, ইত্যাদিতে ছুটিটা বেশ উচ্ছ্বাসে পার করলো। বাসায় যাওয়ার দু’দিন পরই রেজাল্ট প্রকাশ হলো, প্লে-তে পঞ্চম স্থান অধিকার করলো। বাবার সাথে রেজাল্ট আনতে গেলো সুবাইতা। পঞ্চম স্থান শুনে সুবাইতার মনটা ভার হয়ে গেলো। ওর মলিন মুখ দেখে ওর বাবা জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে মামণি তোমার? মুখটা এমন ভার করে আছো কেন? সুবাইতা তখনই কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো, স্নিগ্ধা আপু কতো ভালো রেজাল্ট করে -বিশ, একুশ নাম্বার হয় অথচ আমি হলাম মাত্র পাঁচ! কথাগুলো বলে কাঁদতে শুরু করলো সুবাইতা।
সুবাইতার কথা শুনে তো বাবা ওমর ফারুক একদম আক্কেল গুড়ুম! বলে কি মেয়েটা। বলে কি মেয়েটা। মেয়েটাকে যতো বুঝাতে চেষ্টা করেন যে, রেজাল্ট এর বেলায় যতো কম নাম্বার হওয়া যায়, ততোই ভালো। কিন্ত কে শোনে কার কথা!! সুবাইতা তো ভাবছে ওকে সান্ত্বনার জন্য বাবা এসব বলছেন। বাসায় পৌঁছার পর মা ও সব শুনে, বোকা বনে গেলেন। বুঝলেন, মেয়েটার স্নিগ্ধার রেজাল্ট এর কারণেই এ মনোভাব তৈরী হয়েছে। ওদের আশপাশে বাসার কোন ছেলে-মেয়ে নেই কেবল স্নিগ্ধা ছাড়া। আর দু’তিন জন আছেন মহিলা উনারা নিউ ম্যারিড বাচ্ছা নেই কারো। স্নিগ্ধা তো বরাবরই রেজাল্ট এমন করে পড়ায় তেমন একটা ভালো না। স্নিগ্ধা ক্লাস সিক্স এ পড়ে। ও ছোট বলে ওকে খেলায় স্নিগ্ধা নিতে চায় না, কিন্ত সুবাইতা ওকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। সারাক্ষণ একা থাকে তাই স্নিগ্ধাকে অল্প সময়ের জন্য কাছে পেলেও ও মহা খুশি। যাই হোক, বাসায় যাওয়ার পর থেকে কিছুই মুখে পুরছে না সুবাইতা। অনেক বুঝানোর পরও সুবাইতার একই কথা, পাঁচ হতে চায়নি স্নিগ্ধার মতো ওর বিশ পঁচিশ নাম্বার হওয়া চা-ই চাই। হঠাৎ মা পারভীনের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। তাই তিনি স্নিগ্ধার পাশে বসে আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, সত্যিই মা তুই ঠিকই বলেছিস, পাঁচ তো মাত্র। আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন একশত বা দুইশত হতাম। তুমিও চাইলে এমন রেজাল্ট করতে পারবে। পদ্ধতি কিন্ত আমার জানা আছে, শোনবে তুমি? মায়ের কথা শুনে তো সুবাইতা মহা খুশি, একশত নাম্বার হলে ও স্নিগ্ধা আপুর চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। তখন আর স্নিগ্ধা আপু ওকে খেলায় নিতে অনাগ্রহী হবে না। ওকে নিয়েই টেনিস কোর্টে যাবে। স্নিগ্ধা যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে মায়ের মুখ পানে তাকালো, মিষ্টি করে বললো, হ্যাঁ মা, বলে দাও আমায় পদ্ধতি। মা সোহানা খানম মিষ্টি হেসে বললেন, তুমি মন দিয়ে পড়তে হবে। আগের চাইতে দ্বিগুণ পড়তে হবে। তাহলেই তুমি পারবে একশত নাম্বার হতে। মায়ের কথা শুনে সুবাইতার খুশি আর ধরে না। মায়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বললো, দেখে নিও আমি একশত নাম্বার হবোই। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষে রেজাল্ট আনতে, বাবার সাথে স্কুলে ছুটলো মায়াবী চেহারার অধিকারী, মিষ্টি মেয়ে সুবাইতা। রাস্তার হেঁটে যেতে যেতে বাবাকে ইত্যাদি প্রশ্ন করে বাবার একদম বেহাল অবস্থা করে দিল। ধৈর্য্যের সাথে মেয়ের সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন, কারণ অভিমানী মেয়েটিকে অল্প ধমক দিলেই, সারাদিন ওর পিছে পিছে ছুটে অভিমান ভাঙাতে এই ভুলের মাশুল দিতে হয়। রেজাল্ট কার্ড দেখে তো বাবা ওমর ফারুক চমকে গেলেন! নিজের চোখকে যেনো বিশ্বাস করাতে পারছেন না। এ কি! স্বপ্ন!! নাকী নাকি মতিভ্রম!! নাকি বাস্তব?! তার একমাত্র আদুরী মেয়ে সুবাইতা, সব বিষয়ে আটানব্বই, নব্বইয়ের ঊর্ধ্বে পেয়ে এক নাম্বার হয়েছে। শুধু তাই নয় স্কুলের মধ্যে সেরা হয়েছে সবাইকে পিছু ফেলে। সুবাইতার টিচার ম্যামরা সুবাইতাকে কনগ্রাচুলেশন জানাচ্ছে। সুবাইতা যখন জানতে পারলো ও এক নাম্বারে ফাষ্ট হয়েছে। মনটা কালো মেঘে ঢেকে গেলেও এখন টিচারদের এমন কান্ডকারখানা দেখে অবাক হলো, এক হওয়াতেই এতো খুশি! তাহলে আগের বার পঞ্চম হওয়াতে খুশি হলেন না কেন?? একশো নাম্বার! হলে কি আরো বেশি খুশি হতেন??? দ্বিধার ঘোর কাটানোর জন্য কানে কানে বাবাকে বললো মনের কথা, বাবা! আমি এক নাম্বার হওয়াতে টিচাররা এতো খুশি তাহলে কি একশত নাম্বার হলে আরো বেশি খুশি হতেন? মেয়ের কথা শুনে ওমর ফারুক হেসে ওঠলেন, টিচাররা পাশে বসা ছিলেন সমস্বরে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে? কি বললো পাকনী বুড়িটা? ওমর ফারুক কিছু বলার আগেই সুবাইতার ইংলিশ টিচার পারভীন বললেন, নিশ্চয় মেয়েটা বলছে বাসায় যাওয়ার আগে মিষ্টির অনেকগুলো প্যাকেট নিয়ে যেতে হবে…? হেসে ওঠলেন সবাই ম্যমের কথা শুনে। না না তা না আসল ব্যাপার হচ্ছে… বললেন প্রথম থেকে পুরো কাহিনী এবং মেয়ের মায়ের বুদ্ধির প্রশংসা করলেন। লজ্জা আর অপমানে সুবাইতার মুখ লাল হয়ে গেলো। বাংলা টিচার সুবাইতার পাশে এসে বললেন, পড়া-লেখার ক্ষেত্রে একশ, দুইশ এসবের কোন মূল্য নেই, মূল্য হলো যারা এক, দুই ও তিন এ রকম রেজাল্ট করে তাদের। তাইতো দেখ, আজ তোমার এ রেজাল্ট এ আমরা এতো আনন্দিত। সুবাইতা নিজের ভেতর রাখা প্রশ্নকে আর চেপে রাখতে পারলো না। বাবার দিকে তাকিয়ে বললো- তাহলে মাম্মি যে বললো। মাম্মি একশ এ রকম নাম্বার হতেন আর মাম্মিকে সবাই খুব আদর করতো…? সুবাইতার কথা শুনে আবারো হাসির রোল পড়লো স্কুল অফিস কক্ষে। বাবা বললেন, তোমার মা তো তোমার ভালোর জন্যই বলেছেন, কারণ তখন তো তুমি একশ দুইশকেই মনে করতে অনেক বেশি, তাই বুদ্ধি করে এমনটা বলেছেন। বুঝলে এবার আমার পাকনী মামণি? আর এজন্য তোমার মা-কে তোমার উচিত ধন্যবাদ দেওয়া। পাশ থেকে বলে ওঠলেন অংক টিচার রাহুল। হুম তাইতো, চলো বাবা মাম্মিকে ধন্যবাদ জানাবো। হুম্ম চলো, বলে এক ঝাঁক খুশির ছ’টা নিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন সুবাইতার বাবা ওরফে ওমর ফারুক।

দুই জোড়া চোখ

আবিদ আল আহ্সান

আপনি যখন সাগরপারে
ঢেউয়ের সাথে চলতে ছিলেন
মনের কথা কেমন যেন
মনের সাথেই বলতে ছিলেন।

আমি তখন এগিয়ে গিয়ে
হাতটি ধরে কাছে টেনে
মনের কথা সব শুনেছি
সাগর থেকে মুক্তো এনে।

আপনি তখন মুক্তো পেয়ে
দুঃখ বিষাদ সব ভুলেছেন
নতুন করে বাঁচতে শিখে
আমার বীণায় সুর তুলেছেন।

সুরের ঘোরে ভুবন ভরে
মাতিয়ে গেছি ফুলের পাড়া
আপনি-আমি আমরা দুজন
হইছি কেমন আত্মহারা।

উড়াই ঘুড়ি-জীবন ঘুড়ি
উড়ছে ঘুড়ি দারুণ বেগে
ঘুড়ির সাথে রঙিন স্বপন
দুলছে কভু বাতাস লেগে।

আকাশ জুড়ে মেঘের বহর
হঠাৎ যেন ঘূর্ণি এলো
দমকা হাওয়ায় ছিঁড়লো সূতো
ধুলোয় আকাশ এলোমেলো।

কোথায় ঘুড়ি যায় না দেখা
হয়তো গেছে নিচে পড়ে
আপনি-আমি মুক্তো কুড়োই
এখন দুজন সেই সাগরে।

কেউ কারো নই তবুও আপন
ঢেউয়ের মতো জীবন চলে
মুক্তো আনার অতীত ভেবে
চোখ ভরে যায় দুখের জলে।

একলা সাগর, আপনি-আমি
দুই জোড়া চোখ আকাশ পানে
আমার বীণাও হারিয়ে গেছে
সেদিন সেই সে ঝড়-তুফানে।

বলুন দেখি আপনি কি আজ
ভুলেই গেছেন সে সব স্মৃতি
নাকি আবার অধিক শোকে
জীবন পাতার টানেন ইতি?

বলুন দেখি কথার কথা
বলতে পারেন ইচ্ছে মতো
বলতে পারেন আগের সে সব
মুক্তো কেমন দারুণ হতো!

শোনেন তবে আমিই বলি
আমার কথা মনের কথা
আপনি আমি গাছের ডালে
ছড়িয়ে থাকা স্বর্ণলতা।

আমার মতো আপনাকে আর
কেইবা নেবে আপন করে
আপনি ছিলেন আপনি আছেন
আপনি রবেন জীবন ভরে।

তোমার বিষাক্ত মন

শাহীন নীল

ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে দূরে চলে যাই,
ঐ দূর আকাশের থেকেও অনেক দূরে,
তোমাকে শূন্য করে চলে যাই,
তোমাকে একা করে চলে যাই,

চলে যেতে চাই
তোমার বিষাক্ত ভরা মন থেকে
অনেক অনেক দূরে,
যেখানে গেলে তোমার বিষাক্ত মন,
আমাকে ছুঁতে পাবেনা।।

হারিয়ে যেতে চাই,
অজানা অচেনা কোন গন্তব্যে,
যেখানে তোমার বিষাক্ত ভরা
স্মৃতি গুলোখুঁজে পাবেনা আমাকে।।

নতুন কোন রূপ নিয়ে,
অনেক দূরে গিয়ে বাঁচতে চাই,
আমি চলে যেতে চাই,
অনেক অনেক দূরে,
ঐ দূর আকাশের থেকেও অনেক দূরে।।

প্রেমের আরতি

তোফায়েল আহমেদ টুটুল

সে আমারে ভুলে গেছে
পরম বন্ধু যেজন,
বিশ্বাস ভক্তি প্রেম দিয়ে
হইনি আমি সুজন।

পাঠিয়ে দিল আপন ইচ্ছায়
মায়া জগত সংসারে,
আমি কি আর পর ভেবেছি
রেখেছিলাম এ অন্তরে।

পথের বাঁকে হারিয়ে তাকে
খুঁজে মরি সেই দোসর,
যেজন আমায় শুধু ভালবাসে
দিবা নিশি অষ্ট প্রহর।

আল্লাহ ঈশ্বর হরি ডাকি ভগবান
পূজিতে রাঙ্গা চরণ,
তোমার করুণায় সুন্দর পৃথিবীতে
পেয়েছি জীবন মরণ।

সাধনা সাধিতে জপেছি নাথ শ্যাম
নিত্য আরাধনার মিনতি,
হৃদয়ের বিশ্বাসে রাখি ভক্তির প্রেম
সাজানো প্রেমের আরতি।।

 

 

বাসর সজ্জা

ড. সুজিত কুমার বিশ্বাস

তখন আসিল হেমন্তক্ষণ
রঙিন সূর্য বেলা;
কোন অছিলায় ছিলে গো বন্ধু-
আমার দরজা খোলা।
বহুদিন পরে তুমি এলে কাছে
দেখেছি তোমায় চেয়ে;
আমার মনের সকল বাসনা
আসিল তখন বেয়ে।

তুমি এসে সেই নব ভঙ্গিতে
দাঁড়ালে আমার চোখে;
চেয়ে চেয়ে শুধু দেখে গেছি আমি
তোমারেই অপলকে।
বলেছ আমায় আপনার কথা
শুনেছি মনটি দিয়ে;
আড়ে আড়ে শুধু দেখেছি তোমায়
ওগো ও সোনার মেয়ে।

চন্দ্রিমা জোড়া মুরতি তোমার
সোহাগ বদন খানি;
বারে বারে যেন দেখে গেছি আমি
মনের কাছেতে আনি।
সিঁথির মাঝেতে সিঁদুরের টিপ
বদন জোড়া সে হাসি;
মনে হয় বলি কাছেতেই ডেকে
তোমাকেই ভালোবাসি।

কানে দোলে ওই হাতের কাজের
দুখানি আপন পাশা
কণ্ঠে তোমার শোভিছে যে প্রিয়
আমার সকল আশা।
নবরূপে আজ সাজিয়াছ তুমি
তোমার আঁচল মাঝে;
আজ বুঝি আমি বাঁধা পড়ে গেছি
হেমন্তের এই সাঁঝে।

তোমার কাছেতে যা ছিল আপন
আমারে দেখালে এসে;
কোথা ছিলে তুমি! এতদিন ধরে
ছিলে বুঝি দূর দেশে।
আমার খবর নিয়েছ যে তুমি
চুপি চুপি অনায়াসে।
কীবা সে চাহুনি কীসের মহিমা
আমার মনেতে ভাসে।

তুমি এসে আজ চলে যাবে জানি
আছে যে তোমার কাজ;
তোমারে দেখিয়া হয়েছি নীরব
স্তব্ধ রয়েছি আজ!
তোমাতে চাহিয়া তোমাকে দেখিয়া
মুখ ঢাকি লজ্জায়;
শুধু ভাবি প্রিয়, সেদিন আসোনি
এ বাসর সজ্জায়!

 

 

মানবতার জন্য প্রার্থনা

জসিম উদ্দিন জয়

আল্লাহ তুমি মহান সর্বশক্তিমান,
তোমার হাতেই রয়েছে সৃষ্টির বিধান,
তোমার কাছে চাই মানবতার সমাধান।

হে আল্লাহ বিচার কর অত্যাচারিদের
নিষ্পাপ আত্মার মানুষ হত্যাকারিদের
আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার লড়াই,
নিরীহ নিধন করে করছে শক্তির বড়াই।

আল্লাহ্ তুমি, পরম দয়ালু আর রাহমান,
তোমার হাতেই পৃথিবীর গতি বহমান,
তোমার কাছে চাই শান্তি আর সম্মান।

হে আল্লাহ রক্ষাকর ভাগ্যহত নির্যাতিত রহিঙ্গা যত
এই পৃথিবীর সৃষ্টিযত জানি সবই তোমার অনুগত
তুমি জাগ্রত করো বিশ^ বিবেক, হও সহায়,
মানবতা আজ ক্ষমতার কাছে, বড় অসহায়।

আল্লাহ তুমি, আর রাহীম পরম করুণাময়
তোমার হাতেই সৃষ্টির ভাগ্য লিখা হয়,
তোমার কাছে চাই পরকালের জান্নাতময়।

হে আল্লাহ পাশে দাঁড়াও যারা জনম দুঃখী
সাহায্যের হাত বাড়াও কর তাদের সুখী
সকল মঙ্গলের সকল তারিফ তোমার,
তুমি পারো, তুমিই আল্লাহ হুআকবার।

আল্লাহ তুমি, মহান কল্যাণদাতা আলবার
তোমার হাতেই শক্তি আর তরবার
তোমার কাছে চাই মুক্তি মানবতার ।

কলম আমার

ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি

বসে বসে ভাবি আমি
লিখতে হবে আজ
যে লেখা দেবে উপহার
সুন্দর এক সমাজ।

খোদার কাছে দু’হাত তুলে
করি মোনাজাত
লেখার মাঝে থাকে যেন
ঈমানী দাওয়াত।

প্রতি লাইনে থাকতে হবে
সৎ পথের চিত্র
বসে বসে এই কথাটি
ভাবি দিবা-রাত্র।

কলম আমার কামান হয়ে
নাশুক মিথ্যা সকল
বুকের ভেতর দাওগো খোদা
অসীম সাহস বল।

 

নীড়

আইরিন আসাদ

নীড় হারা মানুষ টা যে
নীড়ের টান বুঝলো না।

কাওকে ভালোবাসলো ও না
কারো ভালোবাসাটাও বুঝলো না।

কারো নীড়ে সে ঢুকবে না,
কাউকে তার নীড়ে প্রবশ করতেও দিবে না।

কাওকে কোন ঝামেলায় ফেলবে না
কারো ঝামেলায় সে জড়াবেও না।

বলা যেতে পারে এক কথায়
হুমায়ন আহমেদ এর ডিজিটাল হিমু।

হিমুর মতো হলদে পাঞ্জাবী পাজামা পরেনা
করে না ফ্যাশণ পড়ে সাদামাটা প্যান্ট সার্ট ।

দিনে লাগে তিন চার পেকেট সিগারেট
চা আর কফির হিসাব রাখে কে তার।

হিমুর মতো থাকেনা তো সে একা পড়ে
হর হামেসাই পড়ে থাকে বন্ধুদের আডডার মাঝে।

সব মেয়েকেই আকর্ষণ করে তার ব্যবহারে
পড়ে না সে তো সেসব মেয়েদের বেড়াজালে।

উড়নচন্ডীর মত ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়ায়
জড়াবে না তবুও কোন নীড়ের মায়ে ছায়া তলে ।

জাগার আগে

জালাল জয়

মৃত্যু আমায়
বাঁচতে শেখায়
বাঁচতে গিয়ে
জীবন পাতায়

মৃত্যু আমায়
স্বপ্ন দেখায়
স্বপ্ন আমায়
বাঁচতে শেখায়

বাঁচতে গিয়ে
যুদ্ধ করি
সৈনিক হাতে
অস্ত্র ধরি

বুলেট ছুঁড়ে
কাব্য লিখি
দিনরজনী
বাঁচতে শিখি

যুদ্ধ জীবন
যুদ্ধে মরণ
যুদ্ধ বিনে
শুধুই ক্ষরণ

বীর জননী
তুমি আমার
রক্ত দিয়ে
ভাঙবো পাহাড়

রক্ত নাশে
অস্ত্র হাসে
বিজয় এনে
মেঘের কোলে

আবার আমি
বাঁচতে শিখি
মৃত্যু তবুও
ডাক দিয়ে যায়

পিছু পিছন
ছুটে চলে
যখন তখন
আলোর জলে

ভেসে ভেসে
প্রাণে ভাসায়
দগ্ধ অনল
কেবল হাসায়

মৃত্যু তুমি
কত আপন
বুঝলে না হয়
অতি গোপন

আপন যত
কালকে ছিলো
আজকে সবি
পর যে হলো

কীসের নেশায়
জ্বলে ওঠি
দগ্ধ চোখে
জ্বালায় কাঠি

হায় রে হায়
মরণ আমার
পেলো না তো
সময় রে আর

যা দিয়েছি
বন্ধু তোমায়
মনে রেখো
একটু আমায়

ভুবন মাঝি
দিয়ে বিদায়
আপন ঘরটা
ছেড়ে আজি

চলে এলাম
একলা ঘরে
নাইরে কেহ
এই কবরে

কেমন আঁধার
কাঁপে শরীর
ভাবতে গিয়ে
জাগি আবার