বিভাগ: সাহিত্য

প্রেমের নামতা

তুষার অপু

বাসার ভেতর বাসা,
আমাদের কাছাকাছি আসা।
প্রেমের নিয়মে প্রেম,
একটা চিঠি লিখে ছিলেম।
চিঠির ছিল না খাম,
ভালোবাসা দিয়ে মোড়ালাম।
ভালোবাসা হলো কাল,
আবারও পুড়লো কপাল।
কপালের কিবা দোষ,
মনে রয়ে গেলো আফসোস!
আফসোসে লাভ নাই-
তার চেয়ে ঘরে ফিরে যাই।
ঘরের ভেতর ঘর,
একদিন তুমি আমি পর।
এতো পর হলে কবে-
এপারে আর কি দেখা হবে?
দেখা, সে নাইবা হলো-
চোখ থেকে চশমা তো খোলো।
চশমাটা নিলো চোখ,
সন্ধ্যায় আমিও বুড়োলোক।
বুড়ো হলে নড়ে দাঁত,
মনে আছে সেই ঝড়ো রাত?
ঝড়ে ঝরে গেলো সব,
যে বা যার প্রেম মিথ্যে ঢপ।
মিথ্যে দিলো অভিশাপ,
সেই থেকে ভালোবাসা পাপ।
পাপ করেছি না জেনে,
রাত যায় বিড়ি টেনে টেনে।
বিড়ির বাড়লো দাম,
কোথা থেকে কোথায় এলাম।
এসেছি যখন দেখি,
হাবিজাবি আরো কিছু লেখি।
লেখালেখি তবে থাক,
প্রেমের দুর্দশা কেটে যাক।
দুর্দশা যদি না কাটে,
চলে যান বটতলা হাটে।
হাটে আছে কবিরাজ,
তাবিজ কবজে হবে কাজ।
কাজটা যদিও মন্দ,
প্রেমে আবার কিসের দ্বন্দ্ব?
দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে যান,
প্রেমিকাকে দিন পড়া পান।
প্রেম হবে পান খেলে,
সোহাগ করবে কাছে গেলে।
কাছে আরো খুব কাছে,
ধরা খাইলে মাইর আছে!
মার খেলে আমি নাই,
প্রেমের নামতা তো এটাই!!!

অচেনায়

শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান

মোর ভাবনা নীলিমার নীলে
হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়
তার আসা যাওয়া সঙ্গোপনে
কি করে তার ভাব বুঝা যায়।

ঐ উড়ে উড়ে পাখি যারে খোঁজে
তার নাগাল কি খ্ুঁজে পাওয়া যায়
সে রয় অচেনায় অচিন দেশে
সহজে কি আর সে ধরা দেয়।

আমার বুকের ভিতরে অথবা
তোমার হৃদমাঝারে তার বসবাস
থেকে থেকে এদিকে ওদিকে খুঁজে
যায় কি পাওয়া বলো তার আভাস।

ভাবনায় ভাবনায় রঙ মিশিয়ে
সারাবেলার গানে নীলিমায় হারিয়ে
কোথায় মন তারে খুঁজে ফিরে
সে রয়েছে ভাবনায় মায়াতে জড়িয়ে।

মোর ভাবনায় মোর যাতনায়
মিশিয়েছি যত রঙ তার আঁখিজল
উড়ে উড়ে হাওয়ায় ভেসে ভেসে সুদূরে
অস্থির মন পায় কি তার নাগাল।

সালাম

আলম মুহাম্মদ

সালাম দেয়া নবীর সুন্নাত
অতি ছওয়াবের কাজ
সালাম দিতে ছোট বড়য়
কইরো না ক লাজ।

সবার আগে যে সালাম দেয়
সেই ত উত্তম অতি
আল্লাহ,রসুল হোন যে খুশি
খুশি হোন তার প্রতি।

সালাম দিলে হিংসা বিদ্বেষ
দূর হয় মনের কালো
সালাম দিয়ে অন্যের মনেও
যায় জ্বালানো আলো।

সালাম দিয়েই কথার শুরু
বিদায় বেলায় সালাম
নবীর শিক্ষা সালামের আগে
কেউ করোনা কালাম।

পায়ে ধরে সালাম করা
সে ত বেদায়াত হয়
হাই,হ্যালো হাত উঠানো
সালাম তাহা নয়।

সালামের লাগি বসে থাকা
অহংকারীর কাজ
সম্মান বাড়া,কিংবা কমা
নাই সালামের মাঝ।

সালাম হলো অন্যের প্রতি
উত্তম একটি দোয়া
সালাম বাড়ায় হৃদ্যতা আর
মহব্বতের ছোঁয়া।

ভয়াল বন্যাজল

তানভীর আহমেদ (মুসা)

স্বপ্নে ঘেরা সে সোনালি ফসল
বৈশাখী ঝড়ে হয়েছিল ধূলিসাৎ ,
আবার যে এলো ভয়াল বন্যাজল
বাড়িঘর সবই করিল নিপাত।

সহায়-সম্বল আর কিছুই নেই
হলাম যে সর্বহারা-দেউলিয়া,
চোখের জলে ক্ষুধার জ্বালায়
মহা-দুর্যোগের ঘটেছে প্রতিক্রিয়া।

ফুটপাতে কোনমতে সবাই একসাথে
নিয়েছি মাথা-গোঁজার ঠাঁই,
এতো ব্যথা নিয়ে নাজানি
কতো আর চলবে এ লড়াই।

অন্ধ সবাই বন্ধ ঘরে
বিবেকের হলো যে অবসান  ,
মানুষের এমন নিষ্ঠুরতায়
কাঁদে পাথরও ভুলে অভিমান ।

মায়ের সংগীত

শাজাহান কবীর শান্ত

কতদিন দেখিনা তোমায়
মা আমার মা,
তোমায় ছাড়া একলা কাটে
ঘুম আসে না।

তুমি কেন আর আমায়
করোনা যতন,
কেন একা রেখে গেলে
নিজেরী মতন।
স্মৃতি খানা মনে হলে
আসে কান্না।

মায়া ভরা নামে তুমি
কেন ডাকোনা,
আদরের সাথে কেন
কাছে থাকোনা।
আজ তুমি ছাড়া কেউ আমায়
ভালোবাসে না।

তুমি গেছো দূরে চলে
আঁধার রাতে,
কাছে কেন নিলেনা মা
তোমার সাথে।
কেঁদে কেঁদে খুঁজি মাগো
কাছে এসো না।।

বৃষ্টি

আশিকুজ্জামান

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঝুপ ঝুপ বৃষ্টি নামলো ব্যস্ত এই শহরে
কোলাহল থেমে নেমে এলো শশ্মানের নীরবতা।
সীমাহীন দুঃখে নিবিড় মায়ায়
অঝর ধারায় কাঁদছে শরতের আকাশ
তীব্র ক্ষোভে বিশাল শব্দে আছড়ে পড়ছে আলোর ঝলকানি।

খোলা জানালা,কোমল বাতাস ছুঁয়ে দিল আমাকে
অদ্ভুত এক শিহরণে ঘুম ভেঙে চোখ মেলে দেখলাম
বিজলী মেয়ের হাসির চমকে
নূপুর পায়ে রিমঝিম শব্দের তালে নেচে যায় জলপরী;
নীরবে গিয়ে দাঁড়ালাম জানালার পাশে;
হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে দিতেই মনে পড়ে গেল তোমাকে।

হৃদয়ে জাগল নিবিড় পুলক;
শীত থামাতে কাঁপা কাঁপা হাতে তুলে নিলাম গরম চাদর
শূন্য খাটে চাদর মুড়ি দিতেই বিষণœ জেগে উঠলো;
আমার সমস্ত অস্তিত্ব,শরীরের প্রতিটি কণা
তোমার স্পর্শ পেতে ব্যকুল হলো।

তোমার স্পর্শে আজকের বৃষ্টির মতো
অঝর ধারায় শান্তি ঝরে পড়বে দগ্ধ এই হৃদয়ে।
তখন স্বর্গের সুনীল সাগরের উপর বর্ণিল মেঘ হয়ে
ভেসে বেড়াব।
তুমি কেন এত দূরে থাকো? তুমি কি বোঝ না?
এই বৃষ্টি ভেজা রাতে
শুধুই খুঁজে ফিরি তোমার বুকের উষ্ণতা।

স্মৃতি কাতরতা

কবীর হুমায়ূন

মনটা এখন উদাসীন বড়ো, ঘুরে বেড়ায় সে
স্মৃতিকাতরতা নিয়ে অতীতেই; যেখানে এখনো
পাখ-পাখালিরা ভোরে-সন্ধ্যায়, গান গেয়ে যায়।
ঝিল্লিমুখর সাঁঝের বেলায়, ক্লান্ত পাখিরা
ফিরে আসে উড়ে আপন কুলায় জোড়ায় জোড়ায়।
একটানা সুর বড় সুমধুর ঝিঁ-ঝিঁদের গান,
উন্মন মন উদাসীন হয়! বৃষ্টিমুখর
রাতের বেলায় টিনের চালায় ঝমঝম সুর,
বর্ষারাতের আনন্দতায় স্বপ্ন-মধুর।
ঝাঁক বেঁধে সব কিশোর-কিশোরী নবীন জলের
পরশণ তরে উল্লাসে মাতে আনন্দে। হায়!
কত উচ্ছ্বাসে, শান্ত-স্নিগ্ধ পল্লীর গানে-
চেতনের কথা, জীবনের কথা, ভালোবাসাময়।
রাতের আঁধার নামলে পথেতে শেয়ালের ডাক
হুক্কা হুঁয়া বলে- ‘আমার সকল বন্ধুরা কই?’
মনে পড়ে আজ সন্ধ্যা হলেই ঝোপের আড়ালে
জোনাকি মেয়েরা প্রদীপ জ্বালাতো, সরাতে জমাট
অন্ধকারের কৃষ্ণ চাদর, সারারাতে জেগে।
শিশির পড়ার শব্দেরা আজ জেগে উঠে প্রাণে,
বিহ্বল করে চেতনার সব শিরা উপ-শিরা।
রাখালিয়া বাঁশি, মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালী সুর;
বহতা নদীর জলের স্বরের মোহনীয় গান,
সবকিছু একে একে মনে পড়ে, বিষণœ হয়
আমার এ প্রাণ, উদাসীন! তাই বিষণœতায়
গেয়ে যাই গান- ‘আনন্দ সব সুদূরে হারালো,
স্মৃতিময়তায় খুঁজে ফিরি তাই বহু বেদনায়;
বুকের ভেতরে কষ্টরা ক্রমে দীঘল রাতের
ঝঞ্ঝাবাতের ভয় এসে আজ দুঃখ জাগায়।

পেরেক বিদ্ধ শরীর

আতিক আজিজ

এ বিপন্ন দুপুরে চারদিকে উড়াউড়ি করে শিমুল তুলো
হৃদয়, বীজপত্র ও ধানের শীষ, শূন্য বাড়িঘর, পশুর খোয়াড়।
কয়েক’শ পেরেকবিদ্ধ এ শরীর, টানটান পেশী,
এমনভাবে বসে আছে যেন চুলের ভাজে লুকিয়ে আছে সাপ ও নদী,
এসব বেদনার গোপন রক্তস্রোতে, বিলাস থেকে দূরে
একতারার সুর শোনা যায়, অন্যকিছু শোনা যায় অন্য বুকে,
মুহূর্তে পটভূমি পাল্টে যাওয়া এ সময়, জটিল ভাঁজ
কীটনাশক হৃদয় ঔষধ ও বিজ্ঞাপন।
অস্ত্র ও বর্বরতার আদিম মন্ত্রবলে ভেসে যাচ্ছে আমার প্রফুল¬মালা
গোরাঘাটি, লাটিয়াছাড়া নিলয়, সুতারমুড়া, বংশীবাড়ী
আমার হেঁটে যাওয়া পথ, স্বপ্নকুমারী ও প্রিয় জংলীফুল,
প্রতিদিন পার হওয়া নদী, উঠানে বিছিয়ে রাখা কাঠআলুর
সাদা গুঁড়ো লাল হচ্ছে, ক্রমশ স্বপ্নে গলে পড়ছে
রাবার গাছের ঠুলির ভেতর, জমা হচ্ছে ঠুলির
মতো জংগলের খোড়লের ভেতর।

কবি নিস্তব্ধ নয়

আল-আমিন

নির্বোধ ঘাতকরা কবিতাকে নিস্তব্ধ করার জন্য কবিকে হত্যা করলো।
কবিতা কখনো নিস্তব্ধ হয় না,
কবির মৃত্যু হয় নি,
কবি আজ উত্তোলিত, উদ্ভাসিত।
কবি শিশু কিশোর তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে,
কবি বাংলার কবিতায়, বাঙালির চেতনায়।

সেই নির্বোধ ঘাতকরা জানত না,
কবিকে হত্যা করা হলে কবির জন্য পাতায় পাতায় কবিতা লিখা হবে।
কবির জন্য কবিতার পান্ডুলিপি জমা পড়বে প্রকাশনায়।
কবি থাকবেন বাংলার এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে,
হিমালয় থেকে সমুদ্রে,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের হৃদয়ে।

তিনি কবি, এই কবি ব্যক্তির নয়,
তিনি বাঙালির কবি।
কবির সৃষ্টি কবিতা, কবির সৃষ্টি স্বাধীনতা।
কবির সৃষ্টি সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ।
কবির সৃষ্টি রেসকোর্স ময়দানের সেই কবিতা,
যে কবিতা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়।
যে কবিতা উঁচু কন্ঠে বিশ্বকে জানাতে চায়,
আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা,
বঙ্গবন্ধু আমার নেতা।

আমি কবিকে দেখেনি, কিন্তু কবির কবিতার প্রেমে পড়েছি।
আমি কবি সেই কবিতার আসর রেসকোর্স ময়দান দেখিনি,
কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেখেছি।
কবিতা নিস্তব্ধ হয়না যেমন সত্য,
কবি মৃত্যুকে ভয় পায় না।
তিনি তো সেই কবি, যে কবি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে চিৎকার করে বলেছিল-
“বাঙালি একবার মরে, দু’বার নয়”।
আমি তো সেই কবির কথা বলছি,
যে কবির কথা কিউবার রাষ্ট্রজনক ফিদেল কাস্ট্রো বলেছিলেন-
“আমি হিমালয় দেখিনি, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি।”
আজ আমি অহংকারী, আমি গর্ব করে বলি,
আমি শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরসূরী।

কিন্তু !
কিন্তু ! কবিকে নিকৃষ্ট ঘাতকরা হত্যা করল,
হত্যা করল সহধর্মীনি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে।
শেখ কামাল, শেখ জামালকে বঞ্চিত করল বাঁচার অধিকার থেকে।
হত্যা করল সেই রাসেলকে!
যে রাসেল বলেছিল- “হাসু আপু,
আমি তোমার আব্বাকে আব্বা বলে ডাকি।”
কিন্তু ! নির্মম সেই দিন।
ইতিহাস রচনা করল কালো অধ্যায়ের,
কবিতা লেখা হলো শোকাবহের।

বঙ্গবন্ধু তুমি মরো নাই,
তোমার মৃত্য নয়, তুমি আমৃত্য।

আগষ্টের কবিতা

জালাল জয়

ভীষণ থেকে ভীষণতর
অসীম থেকে মহান,
স্বপ্ন দেখা, জীবন গড়া
কিভাবে গড়বে, বেঁচে থাকবে লড়াইয়ে
বাঁচতে হলে বাঁচার মত বাঁচো
বলতে হলে বলার মত বলো
এগোতে হলে,চলো এগিয়ে
বীরত্বের বাহন হাতে ॥

আমি বাঙালি, আমি বাঙালি
আমি মানতে পারিনা পরাজয়
মাতৃভূমির তরে, স্বদেশের তরে
নারীত্বের টানে, আমি চলি এগিয়ে

বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী
পরাধীনতা পারি না মানতে
শাসণ-শোষণে পারবে না দমাতে
আমি উজ্জ্বল হয়ে নিভিয়ে দেই
যত আছে অন্ধকার এই পথেঘাটে

তুমি দাঁড়াও, তুমি দাঁড়াও
দুঃখী জনতার পাশে,
সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে
তবেই হবে তুমি শান্ত
তবেই আমি হবো শান্ত…