কুলাউড়ায় ৩০ গ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন

44

শাহ আলম শামীম, কুলাউড়া থেকে :
কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪ ইউনিয়নের পিডিবির আওতাধীন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। ফলে প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে সুপারিগাছ ও বাঁশের খুঁটির ওপর। ফলে সে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। গত ৪ বছরে শিশুসন্তানসহ ৫ জন, প্রায় ২০ টি গরু, মহিষ ও ছাগলের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রতাবী, বনগাঁও, বালিচিরি, গুতগুতি, লক্ষ্মীপুর, বনগাঁও (২), শংকরপুর, কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর, বাবনিয়া, বেরী, কোনাগাঁও, নোনা, মহিষমারা, কান্দীগাঁও, রাঙ্গিছড়া বাজার, কালিটি চা-বাগানে, রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী, পালগ্রাম, রস্তুমপুর, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের পুরশাই গ্রামসহ  প্রায় ৩০ টি গ্রামে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন। প্রায় ৩ বছর আগে পশ্চিম প্রতাবী গ্রামের একই পরিবারে দুই ভাই জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। এসব গ্রামে বিদ্যুৎ লাইনের খুটি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও সুপারিগাছের খুঁটি। তারগুলো রয়েছে খুবই দুর্বল। প্রতিদিনই বিদ্যুৎ লাইনে পল্ট হয়ে আগুন লেগে দুর্ঘটনা ঘটছে তুবা খুঁটি ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে আছে যেন দেখার কেউ নেই। এগুলো স্থানীয়ভাবে গ্রাহকরা সাময়িক মেরামত করে কোনো রকমে চালাচ্ছেন। এই শুকনো মৌসুমে একটু বাতাস দিলেই ভেঙে যাবে খুঁটিগুলো। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে সাধারণ মানুষসহ শত শত শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন।
সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইসলামগঞ্জ ফিডারে যে লাইনটি গাজীপুর কালিটি, রাঙ্গিছড়া বাজার হয়ে ১১ হাজার ভোল্টেজের যে লাইনটি বেরী গ্রাম পর্যন্ত সেই লাইনটিও খুবই ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে ।
সাবেক মেম্বার সৈয়দ আব্বাছ আলী, কবিরাজি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ হোসেন ভূঁইয়া ও হাসিমপুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানান,এই এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ লাইন ও খুঁটিগুলো রয়েছে খুবই দুর্বল। যদি বিদ্যুৎ অফিস এই শুকনো মৌসুমে বিদ্যুৎ লাইন ও খুটি মেরামত না করে তাহলে চলাচলে এই ৩০গ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে। শ্রীঘ্রই মেরামত করার আমরা এলাকাবাসী  পক্ষ থেকে জোর  দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুলাউড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাফর উল্লাহ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ লাইগুলোতে মেরামতের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে ঐ এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ লাইন ও খুঁটি মেরামত করা হবে।