উৎকণ্ঠায় ১৪ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী

26

কাজিরবাজার ডেস্ক :
রাজনীতির বেড়াজালে পড়েছে ১৪ লাখ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থী। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আদৌ পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা এ চিন্তার মধ্যেই দিন পার করছে তারা। অবরোধ-হরতাল ও সহিংস পরিস্থিতিতে তারা পড়াশোনায় মনোসংযোগ করতে পারছে না। অন্যদিকে, উত্তাল পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরাও। তারা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে না দিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বিএনপির চলমান অবরোধ কর্মসূচির মধ্যেই ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষা পেছাবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে হরতাল দেয়া হলে ওই দিনের পরীক্ষা পিছিয়েও যেতে পারে বলে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে বড় দুই জোট রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। সরকার পক্ষ আশা করছে, ভোটের প্রত্যাশায় হলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট পরীক্ষার সময় অবরোধসহ জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করবে। তা না করলে পরীক্ষার্থীসহ তরুণ প্রজন্ম এবং জনগণের বিরাগভাজন হবে বিএনপি। অপরদিকে বিরোধী পক্ষ ভাবছে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সরকারের। তাই সরকার পক্ষ ছাড় দিয়ে সমঝোতায় বসবে। অন্যথায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। এবার এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় প্রায় ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রীর অংশ নেয়ার কথা। পরীক্ষা শুরুর আর বাকি মাত্র ৫ দিন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি কবে শান্ত হবে এ নিয়ে চিন্তিত তারা। জ্বালাও-পোড়াও, বোমা ও ককটেল নিক্ষেপের মতো ঘটনার মধ্যে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্বাভাবিক লেখাপড়া ও প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, পরীক্ষার সব প্রস্তুতি শেষ। এখন সরকারের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এসএসসি পরীক্ষার সময় বিএনপি অবরোধ তুলে নেবে। তিনি বলেন, তাদের অবরোধের তো কোনো সময়সীমা নেই। তাই আমরা পরীক্ষা পিছিয়ে দেব তারও তো কোনো উপায় নেই। যথাসময়েই পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।
মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য এরই মধ্যে সারা দেশে ৭৫ ভাগের মতো পরীক্ষার সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ীই পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অবরোধ ও হরতালের মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষার বেশিরভাগ বোর্ডের প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষার খাতা জেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের বাসা বাড়ি থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত একটি না একটি পরীক্ষা কেন্দ্র আছে। তাই অবরোধে পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। অবরোধের পাশাপাশি যেদিন হরতাল থাকবে, সেদিনের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হতে পারে। এক্ষেত্রে হরতালের আগের দিন সন্ধ্যায় পরীক্ষা স্থগিতের বিষয় ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পরিবর্তিত তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামীকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। এরপর ২৯ তারিখ সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। তবে কোনো বিভাগ ও জেলায় যদি আলাদা করে হরতাল ডাকা হয় তাহলে কেবল ওই সংশ্লিষ্ট এলাকার বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হবে বলে জানান তিনি।
সরকারি মুদ্রণালয় বিজি প্রেসের একটি সূত্র জানায়, পরীক্ষার কয়েকদিন বাকি থাকলেও সোমবার পর্যন্ত দুটি বোর্ডে প্রশ্নপত্র পাঠানো বাকি রয়েছে। বোর্ড দুটি হলো রাজশাহী ও কুমিল্লা। তবে এই দুই বোর্ডের প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজ শেষ করেছে বিজি প্রেস। এখন শুধু সরবরাহ বাকি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজি প্রেসের এক কর্মকর্তা সোমবার জানান, ঢাকার বাইরে পাঠানোর মতো কোনো ট্রাক পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রশ্নপত্র পাঠানো বাকি রয়েছে।
ঢাকা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এখনও দুই বোর্ডের প্রশ্ন পাঠানো হয়নি। তবে আগামীকালের মধ্যে প্রশ্ন পৌঁছানো সম্ভব হবে। সূত্র জানায়, ৭ থেকে ১০ দিন পরীক্ষা পেছানো হলে ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু করা অসম্ভব। সুতরাং পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে বুধবার ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ লেভেলের পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর আগে রবিবার আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থাও নিতে বোর্ডগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার সরঞ্জামাদি নির্বিঘ্নে নিতে রেলপথ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে পৃথক পত্রে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার দিনই উত্তরপত্র এবং ওএমআর ফরমসহ গোপনীয় কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডগুলোতে যাতে পাঠানো যায়, সেজন্য এগুলো ডাকঘর বা রেলস্টেশনে না পৌঁছা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান নিজেও সব জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও পুলিশ সুপারকে আলাদা পত্র দিয়েছেন। এতে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার সরঞ্জামাদির নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৮ দফা নির্দেশনা রয়েছে।