স্টাফ রিপোর্টার :
অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল চলাকালে তার গাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। তবে বোমাটি লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে এটি চাকা ঘেঁষে রাস্তার উপর পরে বিস্ফোরিত হয়। পরে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।গতকাল সকালে নগরীর কুমারপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে ককটেল বিস্ফোরণ ও মিছিলের মধ্য দিয়ে সিলেটে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়।
পুুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর কুমারপাড়া পয়েন্ট থেকে একটি মিছিল বের করে শিবির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আসার পর কোতোয়ালী থানার ওসির নেতেৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় ওসির পিকআপভ্যানটি লক্ষ্য করে শিবির নেতাকর্মীরা একটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ শিবির কর্মীদের লক্ষ্য করে ৮ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। পরে শিবির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। পেট্রোল বোমাটি রাস্তায় পড়ে বিস্ফোরিত হওয়ায় ওসি ও তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা রক্ষা পান।
এদিকে, একই সময় কুমারপাড়া উঁচা সড়ক থেকে ছাত্রদল নেতা লিটন আহমদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ৫ থেকে ৬টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘হরতাল সমর্থকদের মিছিলের সামনে পড়ে যাই। একই সময় পাশ থেকে তাদেও চোরাগোপ্তা হামলাকারীরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। বোমাটি গাড়ির চাকার পাশে রাস্তায় পড়েছিল। বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাই।’
এদিকে, সকাল ১১ টায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের অতিরবাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। একই সময় নগরীর লামাবাজার ও শাহী ঈদগাহ এলাকায়ও পিকেটিং করেছে ছাত্রদল। সেখানে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হরতালে সিলেট নগরীতে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। সিলেট থেকে দূরপাল্লার বাস দু’একটি ছেড়ে গেলেও অধিকংশ দূরপাল্লা যাত্রীবাহী গাড়ী ছেড়ে যায়নি। তবে, ট্রেন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, ‘অতিরবাড়িতে ছাত্রদল সকালে মিছিল নিয়ে বের হয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। টহল পুলিশ ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোট এই হরতাল পালন করে।



