সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া ॥ সরকার অঙ্গীকার রক্ষা করছে না

24

BC-31-12-14-N_42কাজিরবাজার ডেস্ক :
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারা এখন আর সেই অঙ্গীকার মানছেন না। তারা এখন ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন নিয়েই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছে। গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে। বারবার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানানো হলেও তারা এতে কোনো তোয়াক্কাই করছে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদেরকে আজ সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেয়া হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন গতকাল সন্ধ্যায় তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ছয় দফা দাবি উপস্থান করেন। তিনি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তাব দেন।
তিনি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার আহ্বান জানিয়ে কমিশনের মাঠ পর্যায়ে দলীয় লোকদের সরানোর প্রস্তাব করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকারকে এক বছর সময় দিয়েছি।
তারেক জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান যা বলেছেন তা তার নিজের বক্তব্য নয়। তিনি তথ্যভিত্তিক নানা কথা বলেছেন।
বিএনপি নেত্রী বলেন, তারা বলেছিল সাংবিধানিক প্রয়োজনে নাকি ৫ জানুযারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে হয়েছে। এবং খুব শিগগিরই আলাপ আলোচনার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু তারপর একটি বছর পেরিয়ে গেছে। নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকারও এখন আর আওয়ামী লীগ মানছে না।
খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রের মালিকানা আর জনগণের হাতে নেই। আওয়ামী লীগ, যে কোনো প্রকারে’ ক্ষমতা ‘কুক্ষিগত’ করে রাখতে চায়। তারা ক্ষমতা আকড়ে রেখেছে। জনগণের কল্যাণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা আজ আমাকে মাইনাস করতে চাইছে। তিনি বলেন, অতীতে যারা আমাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল তারাই আজ মাইনাস হয়ে গেছে। আমাকে কেবল দেশের জনগণই মাইনাস করতে পারে আর কেউ নয়।
ভোটার তালিকার বিদ্যমান ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করে নতুন আইন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জেকে বসা এই সরকারের জনগণের দিকে মন নেই। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে ইতিমধ্যেই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে। এসবের পাশাপাশি তারা বিরোধী নেতাকর্মীদের খুন গুম করে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না।
তিনি বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আজ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। আওয়ামী লীগ কোনো জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না। দেশ পরিচালনার কোনো অধিকার তাদের নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আজ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এর ওপর আজ আবার সরকার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আবার যদি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এসময় কয়েক দফা দাবি উপস্থাপন করে সবাইকে এর অধীনে আসার আহ্বান জানান।
তিনি ৫ জানুয়ারি কালো দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ওই দিন সভা সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বলেন।
তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে এক ছাতার তলে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এমকে আনোয়ার,  ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, সারোয়ারী রহমান, খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল প্রমুখ।
জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রেদওয়ান উল্লাহ শাহেদী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পিপলস পার্টির (পিএল) চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটি লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দীন একরাম প্রমুখ।