সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মিজানুর রহমান বলেছেন – নারী প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শিক্ষার গুরুত্ব। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার নারী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পারিবারিকভাবে ছেলে ও মেয়ে শিশুকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর প্রতি সহিংতা প্রতিরোধে যে সকল আইন আছে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের উচিত মিথ্যাকে বর্জন করা কেননা একটি মিথ্যা অনেক অঘটনের জন্ম দেয়। উন্নয়ন সংস্থা সমূহের উদ্যোগ ও মিডিয়ার মাধ্যমে নারীদেরকে অধিকার সচেতন এবং আইন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করলে নারীর প্রতি সহিংসতা হ্রাস করা সম্ভব। এছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এর কার্যকারিতা পাওয়া যাবে। গতকাল নগরীর একটি হোটেলে এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (একডো)’র উদ্যোগে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস ২০১৪’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (একডো)’র নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ এর সভাপতিত্বে এবং এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (একডো)’র সমন্বয়কারী ইন্দ্রানী সেন’র পরিচালনায় আলোচনা সভার শুরুতে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা – প্রেক্ষিত বাংলাদেশ ’শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, সিলেট’র বিভাগীয় প্রধান এডভোকেট সৈয়দা শিরীন আক্তার।
বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা কাদের বলেন – প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশিত সহিংসতার খবর আমাদেরকে শংকিত করে। আমরা যদি নিজেদের মূল্যাবোধের পরিবর্তন না করি তবে এ সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গ্রামের অনেক নারীরা এখনও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না। তারা অনেক সময় নির্যাতনের স্বীকার হলেও তা বলতে সাহস পাননা তাই নারীদেরকেই নিজেদের সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারী গণ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে মতামত ব্যক্ত করে বলেন- নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, আইনের দীর্ঘসূত্রিতা কমানো, বাল্য বিবাহ রোধে বর্তমান যে আইন আছে তা পরিবর্তন, হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করণ, সংবাদপত্রে সহিংতার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে প্রচার, পুলিশ প্রশাসনের ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি, নারীর শ্রমকে অর্থনৈতিক ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ভাবে মূল্যায়ন এবং বিশেষায়িত আদালতকে কার্যকর করার জন্য জুডিশিয়াল মনিটরিং সিস্টেম চালু করা প্রয়োজন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহাজলাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয় এর লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি’র সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের সভাপতি এডভোকট মোহিত লাল ধর, জনপ্রতিনিধি খালেদ আহমেদ, বাবুল আখতার, সিরাজুন্নেছা জেবু, আকলিমা আক্তার, শিপা ওঁরাও, উষা দাস প্রমুখ।






