স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে আদালত চত্বরে দুই জনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই নারীসহ দুজনকে আটক করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের মূখ্য বিচারকি হাকিম আদালত ভবনে এ ঘটনাটি ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার রায়ে মামলার বাদির স্বামী মো. আব্দুস শুকুর খালাস পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্ত্রী এবং ওই মামলার বাদি মোছা. নুরজাহান বেগম আদালত চত্বরে আসামি পক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনায় আসামীপক্ষের দুইজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় মোছা. নুরজাহান বেগম ও তার আপন ছোট ভাই মনজাম মিয়াকে (২৮) আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হামলায় আহতরা হলেন, নগরীর কোতোয়ালী থানার ঘাসিটুলা এলাকার মৃত মো. বাবু মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (৫৭) ও বিশ্বনাথ উপজেলার সোনাপুর এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে সাদিকুর রহমান (২৯)।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ থানার যৌতুক নিরোধ আইনে করা মামলার একমাত্র আসামি ওসমানীনগর থানার মোবারকপুর এলাকার মো. আব্দুস শুকুর (৪০)-কে চিফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত সিলেটের বিচারক আব্দুল্লাহ আল নোমান খালাস প্রদান করেন। আদালতের রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে বাদি বিশ্বনাথ থানার ধলিপাড়া শেখপাড়া এলাকার মোছা. নুরজাহান বেগম (৩৮) আদালত ভবনের ৬ষ্ঠ তলা থেকে দৌড়ে ৩য় তলায় পৌঁছে আসামিপক্ষের ওপর হামলা চালান। এসময় তিনি আসামিপক্ষের লোকজনদের উপর চাকু ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকলে আসামিপক্ষের লোকজন রক্তাক্ত জখম হন। পরে তারা দৌড়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এবং আইনজীবীরা দ্রæত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারী বাদিনী মোছা. নুরজাহান বেগম ও তার আপন ছোট ভাই মনজাম মিয়াকে (২৮) আটক করেন। তাদের কাছ থেকে একটি চাকু, একটি হাতুড়ি এবং একটি সেলাই রেঞ্জ জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় আহত জামাল উদ্দিন ও সাদিকুর রহমানকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরে আদালত ভবনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রæত নিয়ন্ত্রণে আসে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গনে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার রায়ে খালাস পাওয়া আসামির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলার বাদি আদালত প্রাঙ্গণে আসামি পক্ষের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় আসামীপক্ষের দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এবং দুইজনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি, অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।








