সিন্টু রঞ্জন চন্দ
সিলেট নগরীর অর্ধশত সড়ক ভেঙ্গে খানাখন্দে ভরে গিয়ে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি নগরীর অলি গলির সড়কগুলোর একই রকম অবস্থা। বৃষ্টির পানি জমে সড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যায় যে কারনে জন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ বলছেন- বরাদ্দের কোন প্রকল্প না থাকায় সড়ক মেরামত করা যাচ্ছে না। কিন্তু সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন- কর এবং ট্যাক্স দুটোই নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে তাহলে সড়ক মেরামতে কর্তৃপক্ষের এমন অজুহাত কেন?
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর ভেতর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে গর্তের পরিধি আরো বড় হচ্ছে। এ সকল সড়ক দিয়ে যানবাহন চলতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। খানাখন্দের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে যানবাহন প্রায়ই অকেজো হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিন এসব সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটছে। সড়কের এমন অবস্থা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। চলতি বছরে বন্যাও হয়নি। তার পরেও সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক, কদমতলী পয়েন্ট, কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়ক, বাবনা থেকে কামালবাজার সড়ক, বন্দরবাজার হয়ে সোবহানীঘাট থেকে শাহজালাল উপশহর, আম্বরখানা এয়ারপোর্ট সড়কের আম্বরখানা বাজার এলাকা, সিলেট ওসমানী হাসপাতাল, মদিনা মার্কেট ও টুকেরবাজারসহ নগীর অলি-গলির প্রতিটি সড়ক ভেঙ্গে কিছু কিছু অংশ ছাড়া, অধিকাংশ সড়ক জুড়ে খানাখন্দ। সড়কের মেরামত কাজ করলে কিছুদিন পর আবার উঠে যায় পিচঢালাই। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা এমন হয়েছে যেন দেখে মনে হয় গর্তগুলো ছোট-খাট পুকুর কিংবা জলাশয়। একটু বৃষ্টি হলে এসকল গর্ত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভেতর অধিকাংশ সড়ক ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যাওয়ায় নগরীর অধিকাংশ সড়কেরই পূর্বের সেই চেহারা অনেকটাই পাল্টে গেছে। এছাড়া তালতলা সড়কের অনেকংশে পিচঢালাই উঠে গেছে। হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা।
সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন চিত্রের বাইরে ও প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লর সড়কগুলোর অবস্থাও একই। মাসের পর মাস মানুষ কষ্ট করছেন, দুর্ভোগে নিয়ে চলাচল করছেন। এর পরও দেখার নেই কোন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ভ‚ক্তভোগি ও গাড়ী চালকরা বলছেন, হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে চন্ডিপুল পর্যন্ত হাইওয়ে সড়কটি হওয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শত-শত দূরপাল্লার মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসসহ ছোট-বড় যানবাহনগুলো ২৪ ঘন্টায় এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এ সড়ক দিয়ে বড় বড় খানাখন্দ থাকায় প্রতিটি গাড়ী হেলে-দুলে চলাচল করে। যার কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর বর্তমানে নগরীর সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন- পর্যাপ্ত পরিমানে বরাদ্দ না থাকায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সড়কগুলো সময় মতো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্ষা চলে গেলে পরবর্তী সময়ে সিসিকের নিজস্ব উদ্যোগে সড়কের গর্তগুলো ভরাট করার কাজ চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কে. এম. ফারুক হোসেন বলেন- জুলাইয়ের পর সড়ক মেরামত কাজের ইস্টিমিট করা হচ্ছে। তিনি বলেন- টেন্ডারের পর ভাঙাচোরা সড়কগুলোর কাজের মেরামত শুরু হবে।





