সুরমা নদীতে নারীর ঝাঁপ, অতঃপর…

4

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর চাঁদানিঘাটে থেকে এক নারী সুরমা নদীতে ঝাঁপ দিলে পরে তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপর পুলিশের ফোন পেয়ে তার স্বামীও থানায় উপস্থিত হন। বর্তমানে উভয়েই থানায় রয়েছেন। আইনী প্রক্রিয়া মেনে তাদের ছাড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার নাম- তানজিলা খানম (৩২)। তার স্বামী চাকরিজীবী রাসেল শিকদার। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার বাড়ি বরিশালের বানারিপাড়া থানার সোনাহাড় গ্রামে। বাবার নাম কাজি আব্দুল মজিদ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরের দিকে সুরমার উত্তরপ্রান্তে চাঁদনিঘাটের সিঁড়ি থেকে এক যুবতি নদীতে ঝাঁপ দেন। এরপর তিনি স্রোতের টানে ভেসে যেতে থাকেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাটি ঘটে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধার করেন। ততক্ষনে ওই নারী ও উদ্ধারকারীরা কোতোয়ালী থানার সামনের ঘাটে পৌঁছে যান।
উদ্ধারকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, তার স্বামী রাসেল শিকদারের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। পরে তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হলে তিনি পুলিশের কাছেও একই অভিযোগ করেন। পুলিশ তার স্বামী রাসেল শিকদারকে থানায় ডেকে পাঠালে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি থানায় উপস্থিত হন।
তিনি বলেন, তানজিলা গত প্রায় দেড় দুই বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাকে বরিশালে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো হয়েছে। কিছু বললেই রেগে যায়। তিনি বলেন, তার এই রোগের কারণে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। আজও তাকে সাংসারিক কাজের ব্যাপারে একটু রেগে কথা বলেছিলাম। এরপর কাউকে কিছু না বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে এই কাÐ ঘটিয়েছে। তিনি জানান, কোনো একজন অভিভাবক নিয়ে গেলে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, আমি থানায় নেই। বাইরে আছি। তবে ঘটনাটি শুনেছি। বলে দিয়েছি, কোনো অভিযোগ না থাকলে যেন তাদের আইনী প্রক্রিয়া মেনে ছেড়ে দেওয়া হয়।