গোলাপগঞ্জের জয়নাল আবেদীনের সংবাদ সম্মেলন : আ.লীগ নেতার পক্ষে কাজ করছে পুলিশ হামলার শিকার হয়ে জেলে ভুক্তভোগী পরিবার

11

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘা ইউনিয়নে জমিসংক্রান্ত বিরোধে একটি পরিবারের সদস্যরা হামলা, মিথ্যা মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী ওই পরিবারের অভিযোগ, ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন ও তার ছেলে তাজ উদ্দিনের হামলায় আহত হয়ে উল্টো মামলার শিকার হতে হয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে দুই ভাই এখন কারাবরণ করছেন। পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের না ধরে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের এখলাছপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তাজ উদ্দিনের পিতা আলা উদ্দিন আমাদের ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। স্বৈরাচার সরকারের আমলে আলা উদ্দিন মেম্বার ও তার ছেলেরা আমাদেরকে নানাভাবে নির্যাতন নীপিড়ন করেছে। বর্তমানেও এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এলাকার নিরীহ লোকজনকে নির্যাতন করছে।’
তিনি বলেন, ‘বেশকিছু দিন আগে আমাদের বাড়ির সীমানার পাশে আলাউদ্দিন ক্ষেতের জমি কিনেন। সেই জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। সালিশে এলাকার লোকজন তার জমির সীমানা নির্ধারণ করে দিলেও তিনি তা মানতে চান না। আমাদের বাড়ির ১০ ফুট ভিতরে সীমানা টেনে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখল করার পায়তারা করছিলেন।’
তাজ ও আলাউদ্দিনের অত্যাচার, হুমকি-ধমকি অব্যাহত থাকায় আইনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি উল্লেখ করে জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নিরাপত্তা ও জানমালের হেফাজত চেয়ে এবং তাদের আক্রমণের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে গত ১২ জুলাই অভিযোগ করি। গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে তাজ উদ্দিন ও আলা উদ্দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। রাতেই গোষ্ঠীর লোকজন ও ভাড়া করে সন্ত্রাসী, অস্ত্র মজুদ করে। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় শতাধিক লোকজন ও ভাড়া করা সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। সন্ত্রাসীদের কুড়ালের আঘাতে আমার বড় ভাই খলিলুর রহমান, ফখরুল ইসলাম, আমার ছোট ভাই আমাদের ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমদ, আমার ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, খালেদা বেগম ও সালমা বেগম গুরুতর আহত হন। তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বড় ভাই খলিলুর রহমানের মাথায় ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়, তার চারটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। বড় ভাই ফখরুল ইসলামের মাথায় ৯টি সেলাই দেওয়া, ছোট ভাই মনজুর আহমদের মাথায় ১৪টি সেলাই দেওয়া হয়। তাদের এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে আমাদের তিন ভাবি আহত হন। এই সময় সন্ত্রাসীরা আমাদের বসত ঘরের সোনা-গহনা ও আমার ছোট ভাই মনজুর আহমদের মুদি দোকানের মালামালসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লোটপাট করে নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় পরদিন গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাজ উদ্দিনও অভিযোগ দায়ের করেন। গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাদের অভিযোগটি রেকর্ড করেন নাই। কিন্তু ১৬ জুলাই মামলার এক নম্বর আসামি তাজ উদ্দিন সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২, সিলেট-এ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি এফআইআরের নির্দেশ দিলে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। কিন্তু আহতরা চিকিৎসাধীন থাকায় জামিন নিতে পারি নাই।
এখনও সর্বত্র আওয়ামী লীগের প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করেন, আমার পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েও উল্টো জেল-জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১৪ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন নিতে গেলে গুরুতর আহত দুই ভাই খলিলুর রহমান ও মনজুর আহমদের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত কারাগারে প্রেরণ করেন। কারাগারে তাদের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন।’
এখানেই শেষ নয়, জেল-জুলুমের পাশাপাশি এলাকায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতা এবং সাংবাদিকতার নামে কিছু অসাধু ফেসবুক লাইভারের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তার। জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাই নাই। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আমাদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্তে¡ও পুলিশ রহস্যজনক কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাজ উদ্দিন ও আলাউদ্দিন রাতের বেলায় গ্রামের মধ্যে তাদের মুদি দোকানের চুরির নাটক সাজিয়েছে। পরদিন শুক্রবার সকালে ‘আধুনিক টিভি’ ও ‘বাংলা টাইম এন্ড টিউন’ নামে দুইটি ফেসবুক পেজে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি মামুন ও মামলা বাণিজ্যের হোতা আরিয়ানকে দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে। পরে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় তাদের দোকান চুরির অভিযোগ এনে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অথচ, আমার দুই ভাই জেলে এবং বাকি দুই ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ, শহরে থাকছি।
নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বলেন, ‘নানা সব ষড়যন্ত্র ও হুমকির মুখে আমাদের জীবন। আসামিরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্তে¡ও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ রহস্যজনক ভ‚মিকা রাখছে। এই অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
তিনি এই ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।