দুই হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৫

13

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর লুটের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুই হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবীব বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এছাড়াও সাদাপাথর এলাকা থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দিনের মতো সাদা পাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধার অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তিনদিনে সাড়ে তিন লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।
ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকা শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি একটি সরকারি গেজেটভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পাথর কোয়ারি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে কোয়ারি থেকে কোটি কোটি টাকার পাথর উত্তোলন ও লুটপাট করছে। জড়িতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই লুটপাট ‘খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২’ এবং ‘খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২’-এর পাশাপাশি দÐবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৯ ও ৪৩১ ধারারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পুলিশকে দ্রæত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে- মোহাম্মদ কামাল মিয়া (পিচ্চি কামাল) (৪৫), মো. আবু সাঈদ (২১) ও মো. আবুল কালাম (৩২) কোম্পানীগঞ্জে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রাশ করা সাদা পাথর ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়ার সময় চেকপোস্টে ইমান আলী (২৮) ও জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) ডাম্প ট্রাক ভর্তি সাদা পাথরসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতাদের ধরতে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক বছরে সিলেট থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি। এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এদিকে, গতকাল শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাথর উদ্ধার করা হয়। শনিবার একটি এলাকা থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকার স্টোন ক্রাশার মিল ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব পাথর জব্দ করেছে টাস্কফোর্স। শনিবার দুপুরে ধোপাগুল এলাকার বিভিন্ন ক্রাশার মিল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পাথর উদ্ধার করা হয়।
জেলা প্রশাসন বলছে, তিন দিনে ৩ লাখ ৬০ হাজার ঘনফুটের বেশি পাথর জব্দ করা হয়েছে। জব্দ পাথরের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ঘনফুট পাথর পুনরায় সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে ফেলা হয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে ১০ হাজার ঘনফুট পাথর ফেলা হয় শনিবার।
সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের নেতৃত্বে ধোপাগুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মহালধিক গ্রামে বসতবাড়ির আশপাশ ও ক্রাশার মিলে বালুমাটি দিয়ে ঢাকা অবস্থায় আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।
ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধোপাগুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় মহালধিক গ্রামে বসতবাড়ির আশেপাশে ও ধোপাগুল এলাকার ক্রশার মিলে বালুমাটি দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় পাথরের সন্ধান মেলে। পাথরগুলো পুনরায় সাদাপাথর এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাথর লুটপাট বন্ধে অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার বলেন, শনিবার অভিযানে ৩৯টি ক্রাশার মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আরও কয়েকটি জায়গা থেকে অভিযান চালিয়ে পাথর জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আজ সাদাপাথর এলাকায় সাড়ে ১০ হাজার ঘনফুট পাথর পুনরায় ফেলা হয়েছে।
একইদিনে গোয়াইনঘাটের ফতেপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি এলাকা থেকে ২৫০০ ঘনফুট সাদা পাথর জব্দ করা হয়। গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, তিনদিনের অভিযানে ৩ লাখ ৬০ হাজার ঘনফুটের বেশি পাথর জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পাথরের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ঘনফুট পাথর পুনরায় সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে ফেলা হয়েছে।