স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া দক্ষিণ খান বাড়িতে সিটি কর্পোরেশনের বিল্ডিং কোড অমান্য করে ৫ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, এই ভবনের ওপর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন পাঠানপাড়া দক্ষিণ খানবাড়ির বাসিন্দা শাহজাহান খান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এইসব কার্যক্রম দেখে তারা কয়েকজন গত ১ জুলাই সিটি কর্পোরেশনের ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেও কোন সুফল পাননি। প্রভাবশালী বাসিত মিয়া ও সালমান মিয়া এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে গত ২ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষিতে ৩ জুলাই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ‘সেটব্যাক দূরত্ব বজায় না রেখে বিল্ডিং নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন বন্ধ রাখার জন্য বাছিত মিয়া গংদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অবিলম্বে অননুমোদিত এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ক্ষতিকর টাওয়ার স্থাপন কাজ বন্ধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তÍু এই নোটিশ পেয়েও বাছিত ও তার সহযোগীরা অন্যায় কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছেন। যা এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং বেশীরভাগ এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ বলে জানান।
শাহজাহান খান আরো জানান, তাদের বেআইনি কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানানোর কারণে পাঠানপাড়া দক্ষিণ খানবাড়ির কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নানা প্রকারের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন বাসিত ও সালমান। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বাসিত ও তার সহযোগিরা রাস্তাঘাটে পেলে তাদের মারপিটসহ নাজেহাল করার হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করায় এলাকার মুরব্বিয়ান বিষয়টি সালিসে নিস্পত্তি করার প্রস্তাব দেন।
গত ১১ জুলাই রাতে জহির-তাহির মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে পাঠানপাড়া দক্ষিণ খানবাড়ির পক্ষে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আকস্মিক বাছিত মিয়ার সাঙ্গপাঙ্গদের মধ্যে তানজিল ও শাকিলের নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, কাঠের রুল, বাঁশের লাঠি নিয়ে দক্ষিণ খানবাড়ির লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে সালিস কমিটির সভাপতি বৈঠক স্থগিত করে চলে যান। পরে পাড়া-প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করেন।
এ সময় বাসিত মিয়া হুমকি দিয়ে বলেন ভবন তৈরি সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে না আনলে দক্ষিণ খানবাড়ির যে কাউকে হত্যা করা হবে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসিত মিয়া দক্ষিণ খানবাড়ির ৭ জন নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোগলাবাজার থানায় জিডি করেন। জিডিতে তারা উল্লেখ করেন, সালিশ বৈঠকে উপস্থিত মুরব্বিয়ানদের নির্দেশে নাকি তারা এ জিডি এন্ট্রি করেছেন, যা আদৌ সত্য নয়। বাসিত ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে দক্ষিণ খানবাড়ির বাসিন্দারা জানমাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ব্যাপারে তাদের পক্ষে নাশির খান হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে গত ১২ জুলাই মোগলাবাজার থানায় অপর একটি জিডি করতে বাধ্য হয়েছেন। বাসিত মিয়া ও তার সহযোগীদের বেআইনী কার্যকলাপ বন্ধে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শাহজাহান খান।





