নিত্যপণ্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দিশাহারা হওয়ার উপক্রম। জিনিসপত্রের দাম এখন আর নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে নয়, এমনকি নাগালের বাইরে চলে গেছে মধ্যবিত্তদেরও। এর উদাহরণ মেলে টিসিবির ট্রাকের পেছনে মধ্যবিত্তদের দীর্ঘ সারি অথবা ট্রাকের পেছনে ধাবমান অসহায় মানুষের দুরবস্থা দেখে। একটি টিসিবির ট্রাকের মাধ্যমে বড়জোর দুই থেকে আড়াই শ’ ব্যক্তি ভর্তুকি মূল্যে কয়েকটি নিত্যপণ্য কিনতে পারে সীমিত পরিমাণে। এর বাইরে যারা থেকে যায় প্রতিদিন, তারা যাবে কোথায়? তদুপরি টিসিবির ট্রাক সেল শেষ হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি। গ্রাম-গঞ্জ-উপজেলা শহরে টিসিবির ট্রাক সেল নেই। অথচ দেশের সর্বত্র নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করায় ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। দুটি দেশই দানাদার খাদ্যশস্য বিশেষ করে গম ও ভুট্টার অন্যতম জোগানদাতা বৈশ্বিক বাজারে, প্রায় ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশও গম আমদানি করে থাকে এ’দুটো দেশ ও কানাডা থেকে। দেশে চালের দাম প্রায় নিয়মিত বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গম ও ভুট্টার দাম। ভোজ্য তেল, ডাল ও চিনির দাম। আসন্ন রমজানে ছোলা, পেঁয়াজ, বেগুন- শসা ও ফলের দামও বাড়বে। উচ্চবিত্তদের বাদ দিলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ এ সময় যাবে কোথায়? বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বলছে, করোনার কারণে গত বছর বেকার হয়ে পড়েছে ২৬ লাখের বেশি মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে চলে গেছে গ্রামে। এসব অসহায়ের আহাজারি ও কান্না কি বাতাসে কান পেতে শোনা যায়? শুনবে কে বা কারা? সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে।
চাল-ডাল ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক স্থিতিশীল ও সহনশীল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনসাধারণকে প্রত্যাশিত সেবা দিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রমজানে যাতে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ে, সে জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও ট্যারিফ কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ এবং পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানোসহ মনিটরিংয়ের ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চাল, ডাল, আটা, চিনি, ছোলা, খেজুর, মুরগি, মাছ ও তরল দুধ, ফলমূল রমজানে বেশি প্রয়োজন হয়। এমন সব নিত্যপণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ ও সরবরাহের ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। কেননা রোজার মাসে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ও মজুদদার সুযোগ নিয়ে থাকেন, এসময়ে যা কাম্য নয় কোন অবস্থাতেই। বাণিজ্য সচিব বলেছেন, রমজানের সময় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে না। বাজার ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাখতে মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটির ওপর দায়ভাগ অর্পণ করেছে। সরকার এবার বাজার ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিত্যজীবন সহনীয় করে তুলতে সরকার তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে নিশ্চয়ই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত হবে এই বিশেষ কমিটি। শুধু রমজান নয়, সারা বছর কমিটি তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। সাধারণ মানুষও চায় এখন থেকে বাজার ভোক্তাদের আয়ত্তেই থাকবে। আসন্ন রমজানে যাতে তারা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।







